Afghanistan Cricket

কাবুলে অ্যাকাডেমি তৈরি করে দেওয়া রশিদের দিকে তাকিয়ে আমিরি, আফগানিস্তানে মেয়েদের ক্রিকেট বাঁচানোর আর্জি

২০২১ সালে যে ২৩ জন মহিলা ক্রিকেটারের সঙ্গে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড চুক্তি করেছিল, তাঁদের অন্যতম ফিরোজ়া আমিরি। দেশে তালিবান শাসন ফেরার পর থেকে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৮
picture of cricket

রশিদ খান। ছবি: পিটিআই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্যপূরণ হয়নি রশিদ খানের। এ বার গ্রুপ থেকেই বিদায় নিয়েছে আফগানিস্তান। নিজেদের লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হলেও দেশের মহিলা ক্রিকেটারদের স্বপ্নপূরণের জন্য নিঃশব্দে কাজ করে চলেছেন আফগান অধিনায়ক। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রশিদের আরও সাহায্য চান ফিরোজ়া আমিরি।

Advertisement

আফগানিস্তানে তালিবান শাসন ফেরার পর থেকে মেয়েদের খেলাধুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আফগানিস্তানের মহিলা ক্রিকেটারেরা দেশে অনুশীলন করারও সুযোগ পান না। নিজেদের ক্রিকেটীয় স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে জাতীয় দলের সকলেই থাকেন অন্য দেশে। যখন যেখানে খেলা থাকে, সেখানে একত্রিত হন তাঁরা। নানা প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা সঙ্গে নিয়ে তাঁরা খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের স্বপ্নকে তাড়া করছেন।

দেশের সরকার মুখ ফিরিয়ে রাখলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার। রশিদের সাহায্যের কথা জানিয়েছেন আফগান মহিলা দলের সদস্য আমিরি। তিনি এখন থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। এক সাক্ষাৎকারে রশিদের সাহায্যের কথা বলেছেন তিনি। আমিরি বলেছেন, ‘‘রশিদ ভাই প্রথম থেকেই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমাদের নানা ভাবে সাহায্য করেন। কাবুলে শুধু মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য একটা অ্যাকাডেমি তৈরি করেছিলেন। দেশের মেয়েদের নিশ্চিন্তে অনুশীলন করার সুযোগ করে দিতেই অ্যাকাডেমিটি তৈরি করেছিলেন।’’

আমিরি আরও বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ২০২১ সালে ২৩ জন মহিলা ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। সেই ২৩ জনের এক জন আমি। সে বছর জাতীয় দলে খেলতে পারে এমন ২৩ জনের সঙ্গে প্রথম বার চুক্তি করেছিল বোর্ড। আমরা আফগানিস্তানেই অনুশীলন করতাম। গর্বের সঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতাম। যারা মহিলাদের ক্রিকেটের পাশে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম রশিদ। আমাদের কী প্রয়োজন, সে সবের খেয়ালও রাখতেন।’’

দেশের মাটিতে অনুশীলন করার বা খেলার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে আমিরির। তিনি বলেছেন, ‘‘২০২১ সালে আফগানিস্তানে আবার তালিবান শাসন শুরু হওয়ার পর আমাদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের খেলা বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়। গত চার বছর ধরে আমাদের দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। আমরা এখানে নিয়মিত অনুশীলন করি। স্থানীয় ক্রিকেটে খেলি। আমরা শুধু একটু সাহায্য চাই। যাতে ক্রিকেট খেলতে পারি এবং আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। আমরা অনেকেই খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছি। অনেকেই দেশে ঘর হারিয়েছি। অনেকে পরিবারের সদস্যদেরও হারিয়েছে। শুধু ক্রিকেটকে ভালবেসে আমরা নিজেদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছি। দেশে মেয়েদের কোনও দল নেই, এটা ভাবতেও ভাল লাগে না।’’

আমিরি চান রশিদ আরও সক্রিয় ভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। আফগান মহিলা ক্রিকেটারদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। তিনি বলেছেন, ‘‘রশিদ ভাই, আমরা কথা বলতে চাই। আমরা আবার আপনার সাহায্য চাই। আপনি পারলে অস্ট্রেলিয়ায় এসে দলের সকলের সঙ্গে কথা বলুন। আপনি যদি এখনও আফগানিস্তানের মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি চান, তা হলে আমাদের পাশে থাকুন। আফগানিস্তানের মহিলা দলের অস্তিত্ব এখনও রয়েছে।’’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) অন্যতম পূর্ণ সদস্য আফগানিস্তান। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে হলে মহিলাদের ক্রিকেটকেও সমান গুরুত্ব দিতে হয়। তালিবান শাসনে থাকা আফগানিস্তান সেই শর্তপূরণে ব্যর্থ, যা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ও উদ্বেগ শোনা গিয়েছিল রশিদের মুখে। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আইসিসির পূর্ণ সদস্য থাকার একটি অপরিহার্য শর্ত মহিলাদের ক্রিকেট। এটা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে যে কাউকে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখলে গর্বিত লাগে।’’

জয় শাহের আইসিসি অবশ্য আফগানিস্তানের মহিলাদের জাতীয় দলের পাশে রয়েছে। আমিরিদের নানা ভাবে সাহায্য করছেন জয়রা। তাদের উদ্বাস্তু আফগানদের দল হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। তাদের বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে আইসিসি কর্তাদের। আমিরিদের পাশে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও।

Advertisement
আরও পড়ুন