IPL 2026

ব্যর্থ শুভমন-সুদর্শন, আইপিএল ফাইনালে কোহলিদের সামনে ১৫৬ রানের লক্ষ্য দিল গুজরাত

ফাইনালে ব্যর্থ গুজরাত টাইটান্সের ব্যাটিং। দলের দুই বড় ভরসা শুভমন গিল ও সাই সুদর্শন রান না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ল তারা। ফলে বেঙ্গালুরুর সামনে লক্ষ্য ১৫৬ রান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ২১:১৯
cricket

বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।

প্রথম কোয়ালিফায়ারের ছবিই দেখা গেল আইপিএলের ফাইনালে। আরও এক বার দাপট দেখালেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বোলারেরা। ভুবনেশ্বর কুমার়, জশ হেজ়লউডদের দাপটে রান পেলেন না শুভমন গিল ও সাই সুদর্শন। রান পেলেন না জস বাটলারও। ফলে সমস্যায় পড়ল গুজরাত। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান করল তারা।

Advertisement

চলতি আইপিএলে গুজরাতের প্রায় ৬০ শতাংশ রান করেছেন শুভমন ও সুদর্শন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এই দু’জনের ব্যাটেই জিতেছে গুজরাত। ফলে ফাইনালেও দলকে ভাল শুরু করার দায়িত্ব ছিল এই দু’জনের কাঁধেই। সেটা ভাল ভাবে জানতেন বেঙ্গালুরুর বোলারেরা। ফলে দুই ব্যাটারের বিরুদ্ধে অন্য পরিকল্পনা করে নেমেছিলেন তাঁরা। সেটা কাজে লাগল।

হেজ়লউড বা ভুবনেশ্বর সাধারণত লেংথ বল করেন। সুইং করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ফাইনালের পিচে বেশি সুইং ছিল না। তাই দুই বোলারই শর্ট বলের উপর ভরসা করলেন। সেই শর্ট বলই তাঁদের সাহায্য করল। হেজ়লউডের বলে পুল মারতে গিয়ে ১০ রান করে আউট হলেন শুভমন। সেই বলটি পুল মারার বল ছিল না। শট নির্বাচনে ভুল করেন শুভমন। ভাল ক্যাচ ধরেন অধিনায়ক রজত পাটীদার। সুদর্শন আবার ভুবনেশ্বরের বাউন্সার সামলাতে পারেননি। ক্যাচ তোলেন। সেই ক্যাচটিও ভাল ধরেন জিতেশ শর্মা। ১২ রানে আউট হন সুদর্শন।

নিশান্ত সিন্ধু ও বাটলার দলের ইনিংস ধরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টেকেনি সেই জুটিও। রাসিখ দারের বলে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন নিশান্ত। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর ছ’ওভার একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেননি গুজরাতের ব্যাটারেরা। রান তোলার গতি কমছিল। ফলে চাপ বাড়ছিল। বাধ্য হয়ে ক্রুণাল পাণ্ড্যের বল বেরিয়ে খেলার চেষ্টা করেন বাটলার। ক্রুণাল বুদ্ধি করে বাটলারের থেকে দূরে বল করেন। বাটলার বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি। স্টাম্প আউট হন তিনি। ২৩ বল খেলে ১৯ রান করেন তিনি।

ওয়াশিংটন সুন্দরও তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যেতেন। জেকব ডাফির বাউন্সার সামলাতে না পেরে তিনিও ক্যাচ তোলেন। ফাইন লেগে ক্যাচ ধরেন জর্ডন কক্স। কিন্তু বল ধরার পর তাঁর আঙুলের ফাঁক দিয়ে বল মাটিতে লাগে। ফলে বেঁচে যান তিনি। আরশাদ খানকে ছ’নম্বরে নামিয়ে ফাটকা খেলতে চেয়েছিল গুজরাত। তিনি নেমে দু’টি ছক্কাও মারেন। কিন্তু ১৫ রানের মাথায় হেজ়লউডের বাউন্সারে তিনিও আউট হন।

গুজরাতকে সম্মানজনক রানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিল ওয়াশিংটন ও রাহুল তেওতিয়ার উপর। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রান পেলেন না তেওতিয়া। রাসিখ দারের বলে ৭ রানের মাথায় আউট হন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, ১৫০ রান করতেও সমস্যা হবে গুজরাতের।

ওয়াশিংটন অবশ্য তখনও ক্রিজ়ে ছিলেন। এক বার ক্যাচ পড়ার পর তিনি ভাল খেলছিলেন। অন্তত বড় শট মারার চেষ্টা করছিলেন। তাতে সফলও হচ্ছিলেন। হেজ়লউডের শেষ ওভারে আসে ১৬ রান। কিন্তু অপর প্রান্তে উইকেট পড়ছিল। জেসন হোল্ডার, রশিদ খান তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে একাই লড়লেন তিনি। করলেন অর্ধশতরান।

শেষ পর্যন্ত ১৫৫ রানে শেষ হল গুজরাতের ইনিংস। ৩৭ বলে ৫০ রান করে অপরাজিত থাকলেন ওয়াশিংটন। বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল রাসিখ। ৩ উইকেট নিলেন তিনি। ২ করে উইকেট নিলেন হেজ়লউড ও ভুবনেশ্বর। এখন দেখার এই রানের মধ্যে বিরাট কোহলিদের গুজরাত আটকে রাখতে পারে কি না।

Advertisement
আরও পড়ুন