Outrage against Abhishek

অভিষেক সোনারপুরে গেলে এমন কিছু যে ঘটতেই পারে, পোড়খাওয়া দিদি কি জানতেন না? তবু কেন পাঠিয়েছিলেন

স্থানীয় তৃণমূল নেতারা জানতেন, দলের বিরুদ্ধে এলাকায় জনরোষ এখনও কী পরিমাণে রয়েছে। সেই কারণে ফোনে অভিষেককে সোনারপুরে যেতে নিষেধও করেন এলাকার এক তৃণমূল নেতা। অভিষেক বারণ শোনেননি। অন্য দিকে পুরসভার কোনও নেতাই অভিষেকের সঙ্গী হওয়ার ঝুঁকি নেননি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ২১:১৭
(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভোটে ধরাশায়ী হওয়ার পরে পৌনে চার সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কেউই পথে নেমে পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছিলেন না। মাঝে এক দিন মমতা গিয়েছিলেন হাই কোর্টে। আইনজীবীদের বেনজির বিক্ষোভে কিছুটা আঁচ পেয়েছিলেন যে, ক্ষোভের মাত্রা ঠিক কেমন। কিন্তু লাগাতার ঘরবন্দি থাকলে দল উঠে যাওয়ার আশঙ্কা। তাই কৌশল সাজাতে চাইছিলেন মমতা। তার জন্য ‘জল মেপে নেওয়া’ জরুরি ছিল। সেই লক্ষ্যেই কি শনিবার অভিষেককে তিনি সোনারপুরে পাঠিয়েছিলেন? জনরোষের জেরে সে কৌশল বিপর্যস্ত হতেই মমতা এক পুরনো কৌশলে ফেরার চেষ্টা করেন। ‘আক্রান্ত’ সেজে সহানুভূতির হাওয়া তোলার চেষ্টা। কিন্তু শহরের দু-দুটো নামী হাসপাতাল অভিষেককে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ছেড়ে দেওয়ায় সে চেষ্টাও বিফলে গিয়েছে।

Advertisement

সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে শনিবার যে ভাবে ক্ষোভের ‘ঘূর্ণিঝড়’ দেখা গিয়েছে, তাকে ‘বিজেপির হামলা’ বলছে তৃণমূল। কিন্তু ঘটনা পরম্পরা এবং স্থানীয় সূত্র থেকে মেলা তথ্য সে অভিযোগে পুরোপুরি মান্যতা দিচ্ছে না। বিজেপির ‘ইন্ধন’ বা ‘সক্রিয় অংশগ্রহণ’ থেকে থাকলেও, তৃণমূলের উপর স্থানীয় মানুষের রোষ শনিবারের ঘটনায় মূল শক্তি ছিল তা নানা ভাবে সামনে আসছে।

সোনারপুরে অভিষেক যেতে পারেন, এই খবরে জনতার মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছিল বলে স্থানীয় তৃণমূল সূত্রই জানাচ্ছে। তাই অভিষেক এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে চাইলেও তাঁদের প্রায় কেউই অভিষেকের সঙ্গী হতে চাননি। এমনকি যে ওয়ার্ডে অভিষেক গিয়েছিলেন, সেই ওয়ার্ডের ‘প্রধান’ তৃণমূল নেতাও কাউন্সিলর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে খবর।

দলের যে মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে শনিবার অভিষেক দেখা করতে গিয়েছিলেন, সেই সঞ্জু কর্মকারের বাড়ি রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। সেই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিতা বসুর স্বামী তথা দলের স্থানীয় নেতা হেমন্ত বসুকে অভিষেকের দফতর থেকে ফোন করা হয়েছিল। নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে হেমন্তের দাবি, এলাকার পরিস্থিতি অভিষেকের সফরের অনুকূল নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন। অভিষেকের সঙ্গী হওয়ার বিষয়ে নিজের অপারগতার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে পাল্টা বলা হয়, প্রত্যেকেই পালিয়ে যেতে চাইলে চলবে না, সঙ্গে থাকতে হবে। পরিস্থিতি ভাল নয় বলেই অভিষেকের এই সফর বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে হেমন্ত ফের জানান। ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি দাবি করেছেন, কথোপকথন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। তবে অনিতা বা হেমন্ত, কেউই অভিষেকের সঙ্গে শনিবার ছিলেন না। অভিষেকের সফরের পরিকল্পনা বহাল থাকছে বলে জানতে পেরে শনিবার সকালে অনিতা-হেমন্ত বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর।

শুধু অনিতা বা হেমন্ত নন, রাজপুর-সোনারপুরের পুরপ্রধান বা অন্যান্য পরিচিত তৃণমূল নেতাদের কেউই অভিষেকের সঙ্গে শনিবার ছিলেন না। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল বিধায়ক বা সাংসদদের কারওকেও তাঁর সঙ্গী হতে দেখা যায়নি। সোনারপুরের দুই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককেও দেখা যায়নি। স্থানীয় তৃণমূলের পরিচিত মুখ বলতে ছিলেন সোনারপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলাই বারিক। তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। কারণ তৃণমূলের দাবি, স্থানীয় লোকজন তৃণমূলের সঙ্গে ছিল, ‘বহিরাগতদের’ জড়ো করে হামলা চালিয়েছে বিজেপি। কিন্তু বলাইকে দেখিয়ে বিজেপি অভিযোগ করছে, অভিষেকই ‘বহিরাগতকে’ সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঢুকেছিলেন। বলাই পুরসভা এলাকারই নেতা নন।

বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্ব অভিষেকের উপরে হামলার ঘটনাকে সমর্থন করেননি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রবিবার বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, এই ঘটনা কাম্য নয়। কারণ কোনও সুস্থ, স্বাভাবিক সমাজে এ রকম ঘটনা ঘটা উচিত নয়। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনও যোগ নেই। এটি তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের মারামারির ঘটনা।’’ রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও প্রায় সেই সুরেই বলেছেন, ‘‘হামলার ঘটনায় যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে।’’ যদিও লাভলির দাবি, ‘‘যে কয়েক জন গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের কেউ তৃণমূল নন। এঁরা বিজেপির লোকজন। আমার কাছে ভিডিয়ো ফুটেজ আছে।’’ তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিষয়ে তিনি আইসি-কেও জানিয়েছেন। দলকেও তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু তৃণমূলের কোনও নেতাকে কেন অভিষেকের কর্মসূচিতে দেখা গেল না? লাভলির জবাব, ‘‘না জেনে কিছু মন্তব্য করব না। গত কয়েক দিন ধরে আমি বাইরে আছি।’’

দলের যে মৃত কর্মীর বাড়িতে অভিষেক গিয়েছিলেন, সেই সঞ্জুর বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ জনতার, বিশেষত মহিলাদের প্রবল ক্ষোভ ছিল বলে আভাস মিলেছে। অভিষেক তথা তৃণমূলের দাবি, সঞ্জু ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার। কিন্তু এলাকার সাধারণ জনতাই সে তত্ত্ব নস্যাৎ করছেন। পাড়ার ক্লাবে কিছু দিন আগে সঞ্জুকে ঘিরে একটি গোলমাল হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের জানা যাচ্ছে। কিন্তু সে ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক পরে আচমকা অসুস্থ হয়ে সঞ্জুর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন। তাই সঞ্জুকে ‘ভোট পরবর্তী হিংসার বলি’ হিসাবে দেখানো নিয়ে জনতার মাঝেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। তার সঙ্গে জুড়ে যায় তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতি এবং মাতব্বরির বিরুদ্ধে জনরোষ। সব মিলিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণের মুখে পড়ে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

সঞ্জুর প্রতিবেশী অর্পিতা মণ্ডল বলছেন, ‘‘এই পাড়ায় বিজেপির কোনও সংগঠনই তৃণমূল কোনও দিন তৈরি হতে দেয়নি। সিপিএমের যদিও বা কিছুটা সংগঠন ছিল, বিজেপির কিছুই ছিল না। সাধারণ লোক নিজের ইচ্ছায় গিয়ে বিজেপি-কে ভোট দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু পাড়ায় মার্কামারা বিজেপির লোক বলতে কেউই নেই।’’ অর্পিতার দাবি, পুরোটাই তৃণমূলের দুর্নীতি ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ। সঞ্জুর মতো ‘সমাজবিরোধীর’ বাড়িতে অভিষেক যাওয়ায় সে ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে বলে অর্পিতা খোলাখুলিই অভিযোগ করছেন। তিনি বলছেন, ‘‘সঞ্জু আমার ছোটবেলার বন্ধু ছিল। আগে ছেলেটা এ রকম ছিল না। রাজনীতিতে ঢোকার পর থেকেই নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় জমি দখল করা, এক জমি দু’তিন জনের কাছে বিক্রি করা, পাড়ার মধ্যে মদের ঠেক বসানো, রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোলাখুলি গাঁজা খাওয়া— এই সব ছিল ওর কার্যকলাপ। সঞ্জু আর শাগরেদদের জন্য আমরা মেয়েরা দিনের বেলাতেও রাস্তায় বেরোতে ভয় পেতাম। পাড়ায় রাস্তা আর নর্দমা তৈরির কাজও আটকে রেখে দিয়েছিল।’’ এ রকম এক জনের বাড়িতে অভিষেক যাচ্ছেন শুনেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ তীব্র হয় বলে এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি।

অভিষেককে ‘জল মাপতে’ পাঠানোর ফলাফল ভাল হল না-বুঝে শনিবার সন্ধ্যার পর ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামেন মমতা নিজে। তাঁর চিরপরিচিত ‘আক্রান্ত-তাস’ নিয়ে ময়দানে হাজির হন। অভিষেককে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে এবং প্রাণঘাতী হামলার ভাষ্য খাড়া করে সহানুভূতির হাওয়া টানাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু সে চেষ্টাও বিফলে যায়। কারণ প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতাল জানিয়ে দেয় যে, অভিষেকের কোনও গুরুতর চোট নেই, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। তার পরে মমতা সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মিন্টো পার্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেও পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আনতে ব্যর্থ হন। হাসপাতাল সূত্রের খবর, অভিষেকের জন্য ভিআইপি সুইট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলিতে আগে থেকেই রোগী ভর্তি থাকায় অভিষেককে সে সুইট দেওয়া যায়নি। চিকিৎসকরাও জানিয়ে দেন যে, অভিষেককে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

মিন্টো পার্কের হাসপাতালটিতে সিইও-র সঙ্গে মমতার দুর্ব্যবহারের একাধিক ভিডিয়ো শনিবার রাত থেকেই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তাতে দেখায় যায়, প্রবীণ সিইও প্রদীপ টন্ডনের সঙ্গে মমতা কার্যত শাসানির ভঙ্গিতে কথা বলছেন। হাসপাতালের মতো জায়গায় নিচু স্বরে কথা বলাই রীতি। ভিডিয়োগুলিতে দেখা যায়, মমতা রীতিমতো চিৎকার করছেন। সে সব ভিডিয়ো হাতিয়ার করে বিজেপি সরব হয়। বছরের পর বছর মমতা এ ভাবেই বিভিন্ন হাসপাতালের উপরে চাপ তৈরি করে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতেন বলে বিজেপি দাবি করতে শুরু করে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতার পায়ে ‘চোট লাগার’ প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেন যে, পায়ে প্লাস্টার করার বা হুইলচেয়ারে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতিই ছিল না। চিকিৎসকদের উপরে চাপ দিয়ে মমতা ওই ছবি তৈরি করিয়েছিলেন। অভিষেকের ক্ষেত্রেও মমতা শনিবার সেই কৌশলই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন বলে বিজেপির দাবি।

কেন অভিষেককে এসএসকেএম বা কোনও সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল না, সে প্রশ্নও অনেকে তুলেছেন। যে এসএসকেএম-এর উডবার্ন ব্লককে এক সময়ে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বিভিন্ন তৃণমূল নেতার ‘সেফ হাউজ়’-এ পরিণত করা হয়েছিল, অভিষেককে কেন সেখানে নিয়ে যাওয়া হল না? সরকারি হাসপাতালে এখন চাপ দিয়ে তিনি কিছু করাতে পারবেন না-বলেই কি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল অভিষেককে? বিজেপি এই প্রশ্নও তুলেছে।

গত দু’দিনে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল বই অনুকূল হয়নি মমতা-অভিষেকের জন্য। এই মুহূর্তে পথে নেমে বা প্রকাশ্য কর্মসূচিতে হাজির হয়ে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করে তোলা যায় কি না, খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন মমতা। উত্তর এসেছে—জনরোষ থিতিয়ে যায়নি এখনও। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধী পক্ষকে সবচেয়ে উঁচু স্বরে শাসানি দিতে অভ্যস্ত অভিষেক ৪ মে-র পর থেকে কার্যত ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন। তা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। সেই অভিষেককেই সামনে এগিয়ে দিয়ে মমতা ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারতে’ চেয়েছিলেন। অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার ঝড় থামানো। কর্মী-সমর্থকদেরও রাস্তায় নামার সাহস জোগানো। মমতার সে ‘ঢিল’ কোনও নিশানাতেই আঘাত করতে পারল না। বরং ‘ব্যুমেরাং’ হয়ে ফিরল। সোনারপুরে অভিষেক গেলে কী পরিস্থিতি হতে পারে, তা মমতা একেবারেই জানতেন না, এমন নয় বলে তৃণমূল সূত্রেই দাবি। তবু মমতা ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এ ঝুঁকি লাভজনক হল না।

Advertisement
আরও পড়ুন