ICC T20 World Cup 2026

স্পনসর নেই, বিশ্বকাপের জার্সিও নেই! বাংলাদেশের জায়গায় হঠাৎ খেলার সুযোগ পেয়ে অপ্রস্তুত স্কটল্যান্ড, ঘুম উড়েছে কর্তাদের

হাতেগোনা কয়েক জন মিলে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট চালান। কোচ, কর্তা, কর্মী সব মিলিয়ে ৩০ জনের কিছু বেশি। কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্বকাপ খেলার সব ব্যবস্থা করতে ঘুম উড়েছে তাঁদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০১
picture of cricket

স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট দল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হঠাৎ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড।

Advertisement

প্রতিযোগিতা শুরুর ১৪ দিন আগে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) চিফ এক্সিকিউটিভ সঞ্জয় গুপ্ত। বাংলাদেশের পরিবর্ত হিসাবে তারা খেলতে আসছে এক রকম প্রস্তুতি ছাড়াই। না আছে স্পনসর, না আছে বিশ্বকাপের জার্সি। সব ব্যবস্থা করতে ঘুম উড়েছে কর্তাদের।

বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড নতুন নয়। এই নিয়ে সাত বার বিশ্বকাপ খেলবে তারা। তবু অপ্রস্তুত স্কটিশেরা। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চিফ এগ্‌জ়িকিউটিভ ট্রুডি লিন্ডব্লেডের বক্তব্যে সেই অস্বস্তি ধরা পড়েছে। কারণ বিশ্বকাপ খেলার কথাই যে ছিল না। দলের স্পনসরের ব্যবস্থা করেননি কর্তারা। বিশ্বকাপের জন্য জার্সিও তৈরি করানো হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কতটা সম্ভব হবে, বুঝতে পারছেন না তাঁরা। চেষ্টা করছেন সব ব্যবস্থা করার।

লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘‘এত কম সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের জার্সি হাতে পেলে, সেটা বাড়তি পাওনা হবে। না হলে সারা বছর যে জার্সি পরে খেলে, সেটা পরেই বিশ্বকাপ খেলবে ক্রিকেটারেরা। স্পনসর পাওয়া যাবে কিনা জানি না। হাতে দিন সাতেক সময় রয়েছে। দেখা যাক কতটা কী করা যায়।’’

শেষ মুহূর্তে এ ভাবে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগও অস্বস্তিতে রেখেছে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট কর্তাদের। লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘‘আমরা কখনও এ ভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চাইনি। বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট বাছাই পদ্ধতি রয়েছে। কেউ এ ভাবে বিশ্বকাপ খেলার আমন্ত্রণ পেতে চায় না। আমাদের এ বারের অংশগ্রহণ ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির ফল। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে। বাংলাদেশ দলের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে।’’

ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে ১৯৯২ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর ১৯৯৪ সালে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট সদস্য হয় স্কটল্যান্ড। তার পর তিন দশক কেটে গেলেও স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট এখনও বহরে সীমিত। হাতেগোনা কয়েক জন মিলে একটা দেশের ক্রিকেট চালান। কোচ, কর্তা, কর্মী সব মিলিয়ে ৩০ জনের কিছু বেশি!

লিন্ডব্লেড বলেছেন, ‘‘ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের দলটা বড় নয়। ৩০ জনের কিছু বেশি। কোচ, ক্রিকেট উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত লোক, সংস্থার কর্মী— সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটা। এক সঙ্গে দু’টো দল বিদেশ সফরে গেলে আমাদের কাজের চাপ খুব বেড়ে যায়। এই মূহূর্তে আমাদের একটা দল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলছে। আমাদের মহিলা দল নেপাল সফরে গিয়েছে। ওদের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে। মেয়েরাও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করছে। এখন আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলব।’’

আইসিসির আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকে দম ফেলার সময় নেই লিন্ডব্লেডদের। তিনটি দলের সব দায়িত্ব সামলাতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে তাঁদের। এ ভাবে কি বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব? বেরিংটনদের উপর আস্থা রাখছেন লিন্ডব্লেড। তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের জন্য খারাপ লাগলেও আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। ক্রমতালিকায় আমরা ১৪ নম্বরে। আমাদের দল যথেষ্ট শক্তিশালী। তা ছাড়া ক্রিকেটারেরা সারা বছর খেলার মধ্যেই থাকে।’’

ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিই কি সব? বিশ্বকাপের কিছু সাংগঠনিক প্রস্তুতিও তো থাকে। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চিফ এগ্‌জ়িকিউটিভ বলেছেন, ‘‘হ্যাঁ, অনেক কাজ। ক্রিকেটার, কোচদের ভিসা করাতে হবে। সকলের বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। হাতে সময় বেশি নেই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব চূড়ান্ত করে ফেলতে হবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন