ICC T20 World Cup 2026

মুম্বইয়েও দেখাতে পারবেন এই খেলা, আশাবাদী বুমরা

সোমবার সমাজমাধ্যমে ভারৃৃতীয় বোর্ডের দেওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কোচ গৌতম গম্ভীরের সামনে দিলীপ পদক পরিয়ে দিলেন বুমরাকে। ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘‘পুরো দল অসাধারণ খেলেছে। আমরা নিজেদের উজাড় করে দিলে কী করতে পারি, সেটা এই ম্যাচে দেখা গিয়েছে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:১৯
আত্মবিশ্বাসী: রবিবার ম্যাচের পরে ড্রেসিংরুমে বুমরা।

আত্মবিশ্বাসী: রবিবার ম্যাচের পরে ড্রেসিংরুমে বুমরা। ছবি: বিসিসিআই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পরে ইডেনের ড্রেসিংরুমে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল ক্রিকেটারদের। যেখানে যশপ্রীত বুমরার হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ।

সোমবার সমাজমাধ্যমে ভারৃৃতীয় বোর্ডের দেওয়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কোচ গৌতম গম্ভীরের সামনে দিলীপ পদক পরিয়ে দিলেন বুমরাকে। ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘‘পুরো দল অসাধারণ খেলেছে। আমরা নিজেদের উজাড় করে দিলে কী করতে পারি, সেটা এই ম্যাচে দেখা গিয়েছে।’’ কোনও ব্যক্তিবিশেষের চেয়েও যে দলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার হয়ে যায় দিলীপের কথায়। ফিল্ডিং কোচ বলেন, ‘‘এই জয়ের পরে আমার প্রিয় কথাটা আরও এক বার বলতে চাই। প্রত্যেক ক্রিকেটার এই দলটার শক্তি আর এই দলটা আবার প্রত্যেক ক্রিকেটারের শক্তি।’’ এর পরে একটি পদক হাতে নিয়ে দিলীপ বলেন, ‘‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের পুরস্কারটা এমন এক জন ক্রিকেটারকে দেওয়া হচ্ছে, যে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় ম্যাচে প্রভাব ফেলে যায়। শান্ত মাথায় ঘাতক হয়ে ওঠে যে, এই পুরস্কারটা তার। যার নাম যশপ্রীত বুমরা।’’

পুরস্কার নিয়ে বুমরা বলেন, ‘‘আমি আলাদা করে শিবম দুবের কথাও বলতে চাই। ওই সময় দুবের মারা দু’টো চার আমাদের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে দেয়।’’ ম্যাচের দ্বাদশ ওভারে শিমরন হেটমায়ার আর রস্টন চেজ়কে আউট করে ম্যাচের রং বদলে দেন বুমরা। তিলক বর্মার দিকে ফিরে এর পরে বুমরা বলেন, ‘‘তিলকও দারুণ একটা ইনিংস খেলল। এ বার সামনে আর একটা লড়াই। আশা করছি, মুম্বইয়েও এই খেলাটা খেলতে পারব।’’ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলবে ভারতীয় দল। এ দিনই কলকাতা ছেড়ে মুম্বই উড়ে গেলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।

রবিবার ম্যাচ জেতার পরে মিক্সড জ়োনে এসেছিলেন ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। যেখানে সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সঞ্জুকে আমি অনেক দিন ধরে চিনি। জানি ওর মানসিকতা কী রকম। আমরা কখনওই ওর উপরে চাপ তৈরি করিনি।’’ রিঙ্কু সিংহের জায়গায় খেলানো হয়েছিল সঞ্জুকে। মিক্সড জ়োনে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলার সময় হঠাৎ তাল কেটে যায় বাংলার এক সাংবাদিকের প্রশ্নে। সেই সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসেন, রিঙ্কুর বাবার মৃত্যু কি এ ক্ষেত্রে শাপে বর হয়ে গিয়েছে? এই প্রশ্নে স্তম্ভিত হয়ে যান সকলে। অস্বস্তিতে পড়া সীতাংশু জবাব দেন, ‘‘এটা কোনও প্রশ্নই হল না।’’

সঞ্জুর ব্যাটিং নিয়ে সীতাংশু আরও বলেন, ‘‘পুরো ইনিংসে একটাও খারাপ শট খেলেনি সঞ্জু। পুরো সময় রাশ নিজের হাতে রেখেছিল। আমরা ওকে এক রকম নেতা হিসেবেই দেখি। নেতার মতোই ব্যাট করে গেল।’’ যোগ করেন, ‘‘সঞ্জু অত্যন্ত পেশাদার। ও সব সময় দলের কথা ভাবে। যে কারণে আমি বললেও আগে নেটে ব্যাট করতে চায় না। বলে, আমি তো খেলছি না। তাই পরে ব্যাট করব।’’

ম্যাচের পরে সঞ্জুর প্রশংসা করে গম্ভীর বলেছেন, ‘‘ঠিক যখন দলের প্রয়োজন, তখনই ও খেলে দেয়। এই পিচের চরিত্র সঞ্জু ভাল করেই জানত। আশা করছি, ভবিষ্যতে সঞ্জুর কাছ থেকে এ রকম ইনিংস আরও দেখতে পাব। এই ইনিংস নিশ্চিত ভাবে ওকে অনেকটা আত্মবিশ্বাসী করবে।’’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুর দিকে অভিষেক শর্মা ধারাবাহিক ভাবে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও সঞ্জুকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৯৭ রান করে ভারতকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেতুললেন সঞ্জুই।

উচ্ছ্বসিত ভারতের প্রধান কোচ বলেছেন, ‘‘সঞ্জু কখনওই তাড়াহুড়ো করে রান তুলতে যায়নি। নিখুঁত ক্রিকেটীয় শট খেলেছে পুরো ইনিংসে। প্রতিটা বল দেখে দেখে মারছিল। নেটেও ও এ ভাবেই খেলে। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, নেটে ভাল খেললে ম্যাচেও ভাল খেলার আত্মবিশ্বাস পাওয়া যায়।’’ যোগ করেছেন, ‘‘জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অনেকেই হয়তো সঞ্জুর রান নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু ওই ২৩-২৪ রানও আমার মনে হয় ওকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।’’

বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ড সিরজ়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন সঞ্জু। তার পরে কি সঞ্জুর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন? গম্ভীরের জবাব, “আমার সঙ্গে সকলেরই আলোচনা হয়। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে কঠিন সিরি‌জ় হওয়ার পরে একটু বিরতি দেওয়া দরকার ছিল। আমরা জানতাম বিশ্বকাপে যখনই সঞ্জুকে দরকার, ও ঠিক খেলে দেবে।”

আরও পড়ুন