শতরানের পর হার্ভিক। — ফাইল চিত্র।
বিজয় হজারের সেমিফাইনালে উঠে গেল সৌরাষ্ট্র এবং কর্নাটক। সোমবার কোয়ার্টার ফাইনালে তারা হারিয়েছে যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশ এবং মুম্বইকে। বৃষ্টির কারণে দুই দলকেই জিততে হয়েছে ‘ভিজেডি’ নিয়মে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে এই নিয়ম ব্যবহার করা যায়, যা অনেকটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যবহৃত ‘ডাকওয়ার্থ-লুইস’ নিয়মের সমতুল।
উত্তরপ্রদেশ গ্রুপে সাতটি ম্যাচের প্রতিটিতে জিতে কোয়ার্টারে উঠেছিল। তবে দলের সেরা ক্রিকেটার ধ্রুব জুরেলকে ছাড়াই নেমেছিল তারা। জুরেল যোগ দিয়েছেন ভারতীয় দলে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩১০/৮ তুলেছিল উত্তরপ্রদেশ। জবাবে ৪০.১ ওভারে সৌরাষ্ট্রের স্কোর ২৩৮/৩ থাকা অবস্থায় বৃষ্টি নামে। এর পর ভিজেডি পদ্ধতিতে সৌরাষ্ট্রকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
জিততে সৌরাষ্ট্রের ১০ ওভারে ৭৭ রান দরকার ছিল। ফলে পুরো খেলা হলেও তাদের জয় নিয়ে বিশেষ সংশয় ছিল না। সৌরাষ্ট্রের হয়ে ১১৬ বলে ১০০ রানে ব্যাট করছিলেন হার্ভিক। দ্বিতীয় উইকেটে প্রেরক মাঁকড়ের (৬৭) সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটি সৌরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। পরের দিকে চিরাগ জানির (৪০) সঙ্গেও জুটি গড়েন হার্ভিক।
উত্তরপ্রদেশের হয়ে ভাল খেলেন অভিষেক গোস্বামী এবং সমীর রিজ়ভি। দু’জনেই ৮৮ রান করেন। অভিষেকের ৮২ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি চার। সমীর ১০টি চার এবং ২টি ছয় মারেন। তবে রিঙ্কু সিংহ (১৩) ভাল খেলতে পারেননি। পরের দিকে প্রিয়ম গর্গ (৩৫) উত্তরপ্রদেশের রান ৩০০ পার করে দেন।
এ দিকে, কর্নাটকের হয়ে দেবদত্ত পাড়িক্কলের স্বপ্নের ফর্ম অব্যাহত। খেলা শুরুর আগেই আঙুলে চোট পেয়ে ছিটকে যান মুম্বইয়ের সরফরাজ় খান। ব্যক্তিগত কারণে ছিলেন না তুষার দেশপান্ডেও। দু’জনের অনুপস্থিতিতে মুম্বই ২৫৪/৮ তোলে। এক সময় ৬০ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল তাদের। সেখান থেকে দলকে টানেন শামস মুলানি। তিনি ৮৬ রান করেন। সঙ্গী পান সিদ্ধেশ লাডকে (৩৮)। পরের দিকে সাইরাজ পাতিল (অপরাজিত ৩৩) চালিয়ে খেলায় শেষ পাঁচ ওভারে ৫৯ রান তোলে মুম্বই।
জবাবে মায়াঙ্ক আগরওয়াল এবং পাড়িক্কল শুরুর দিকে সাবধানে খেলতে থাকেন। তবে মোহিত অবস্তি ফেরান মায়াঙ্ককে (১২)। এর পর দ্বিতীয় উইকেটে করুণ নায়ারের সঙ্গে অনায়াসে রান তুলতে থাকেন পাড়িক্কল। দ্বিতীয় উইকেটে ১৫০ বলে ১৪৩ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। কর্নাটকের স্কোর ৩৩ ওভারে ১৮৭/১ থাকার সময় বৃষ্টি নামে। ভিজেডি পদ্ধতিতে কর্নাটক এগিয়েছিল ৫৫ রানে। তাদেরই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
চলতি প্রতিযোগিতায় আট ইনিংসে ৭১৫ রান হয়ে গেল পাড়িক্কলের। চারটি শতরান এবং দু’টি অর্ধশতরান করেছেন তিনি। এ দিন দু’বার তাঁর ক্যাচ ফেলেছেন মুম্বইয়ের ফিল্ডারেরা। সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন পাড়িক্কল।