দুরন্ত: প্রত্যাবর্তনেই তিন উইকেট সিরাজের। শনিবার। ছবি: পিটিআই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে তাঁকে যে ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে হবে, শুনে বিশ্বাসই করতে পারেননি মহম্মদ সিরাজ। অন্তত তিন জনকে ফোন করতে হয়েছে, রীতিমতো কষ্ট করে তাঁকে বোঝানোর জন্য যে, হর্ষিত রানা ছিটকে যাওয়ায় তাঁকেই বদলি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন সিরাজ। এমনকি দলের ট্রেনার আদ্রিয়ান ল্যে রু এবং সূর্যকুমার যাদবের ফোন পেয়েও তিনি এই শুভসংবাদকে নিছক মজা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, অধিনায়ক ‘প্র্যাঙ্ক-কল’ করছেন!
কুড়ি মাস পরে ভারতের হয়ে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ফিরে তিন উইকেট নেওয়ার পরে সাংবাদিকদের সামনে এসে সিরাজ ফাঁস করলেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। প্রথমে তাঁকে মোবাইলে ‘মেসেজ’ পাঠান ল্যে রু। জানতে চান, তোমার কী পরিকল্পনা? সিরাজ তাঁকে সটান জবাব লিখে পাঠান, ‘‘আমাকে এখন মেসেজ করবে না। আমি দু’টো চার দিনের ম্যাচ খেলব, তাই আমার বিশ্রাম দরকার। এই দু’টো ম্যাচের পরে দেখব, কী পরিকল্পনা করা যেতে পারে।’’ এর পরেই সূর্যকুমারের ফোন আসে তাঁর কাছে। ‘‘সূর্য ভাই আমাকে বলে, মিয়াঁ তৈরি হয়ে যাও আর ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসো। আমি ওকে বলি, সূর্য ভাই, মজা করছ কেন? এটা তো হওয়ার নয়।’’ সূর্যকে এর পর রীতমতো দিব্যি-টিব্যি কেটে বলতে হয়, ‘‘আমি সত্যিই বলছি। তুমি তাড়াতাড়িমুম্বই চলে এসো।’’
নাটক এখানেই শেষ হয়নি। এর পর অন্যতম জাতীয় নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝা ফোন করেন। অনেক কষ্টে ওঝা বোঝান, সত্যিই তাঁকে দলে ডাকা হয়েছে। সিরাজ বলছিলেন, ‘‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সর্বশক্তিমান যা লিখে রেখেছেন, কেউ তা পাল্টাতে পারবে না। দলে যোগ দিয়ে আমি ম্যাচও খেলে ফেললাম, ঈশ্বর করুণাময়।’’
গৌতম গম্ভীর এবং অজিত আগরকরের জমানায় সিরাজ এবং মহম্মদ শামিকে সাদা বলের ক্রিকেট থেকে কার্যত ব্রাত্যই করে দেওয়া হয়েছিল। শামি শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বরুণের সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হলেও তাঁকে আর ওয়ান ডে বা টি-টোয়েন্টিতে নেওয়া হয়নি। শামি নিয়মিত ভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে চললেও, উইকেট নিলেও আগরকরেরা ফিটনেসের দোহাই দিয়ে গিয়েছেন। সিরাজের ক্ষেত্রে সরাসরি সেরকম কিছু বলা হয়নি, কিন্তু শারীরিক ধকলকে শিখণ্ডি করা হয়েছিল। শুধু টেস্টের জন্য নাকি বাঁচিয়ে রাখতে হবে, এই ছুতোয় সাদা বলের বাইরে রাখা হচ্ছিল। সম্প্রতি তাঁকে ওয়ান ডে ক্রিকেটে ফেরানো হলেও শেষ বার ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেন শ্রীলঙ্কায়২০২৪-এ।
কুড়ি মাস পরে কোল্ড স্টোরেজ় থেকে বার করা হলে কারই বা বিশ্বাস হবে তিনি সত্যিই ডাক পেয়েছেন? সিরাজের বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছিলই না। ‘‘উড়ানে বসেও আমার মনে হচ্ছিল, স্বপ্ন দেখছি না তো? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেখেলব, আমি তো ভাবতেই পারিনি। গত এক বছর ধরে পরিকল্পনা চলছিল, যাদের নাম ভাবা হচ্ছিল তাদের খেলানো হচ্ছিল। আমি ভাবনাতেই ছিলাম না। আমি অনেক দিন দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলিওনি, তাই আমার মনে হয়েছিল আমিভাবনাতেই নেই।’’
শামি-সিরাজের জায়গায় সাদা বলে গম্ভীর-আগরকরদের পছন্দের দুই ঘোড়া হয়ে উঠেছিলেন হর্ষিত রানা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। এমনই ভাগ্যের পরিহাস, দুই তরুণের কেউ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই। ব্রাত্য সিরাজকে ফেরাতে হল এবং মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ালে অবাক হওয়ার থাকবে না। বুমরা-সিরাজ জুটি সোনা ফলাবে না, কে বলতে পারে! বিশেষ করে প্রত্যাবর্তনেই মিয়াঁকে যেমন বিধ্বংসী দেখাল!