— প্রতীকী চিত্র।
বাড়ি ফেরার পথে মোটরবাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আহত হয়েছিলেন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। দুর্ঘটনার খবর বাড়িতে পৌঁছনোর পরে মৃত্যু হল তাঁর বাবার। পরে, হাসপাতালে মৃত্যু হল ওই বিএলও-রও। বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ঝাড়ুল গ্রামে।
ভাতারের এরুয়ারের নবাবনগর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোরাচাঁদ রুদ্র (৫৮) বিএলও-র দায়িত্ব পালন করেছেন ভাতার বিধানসভার ৩৩ নম্বর অংশে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার ব্লক অফিসে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত কিছু কাজ সারেন তিনি। তার পরে, বিকেলে স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে স্কুলের জন্য কিছু বই নিয়ে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। রামপুর এলাকায় বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে মাথায় আঘাত পান। প্রথমে ভাতার হাসপাতাল, সেখান থেকে বর্ধমানে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে।
বিএলও-র বাবা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ধীরেন্দ্রনাথ রুদ্র (৮৬) বয়সজনিত নানা সমস্যায় শয্যাশায়ী ছিলেন। পরিবার জানায়, ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। রাতে বর্ধমানের বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় গোরাচাঁদেরও।
গোরাচাঁদের ছেলে অর্ক বা স্ত্রী মিনতি রুদ্র শনিবার কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। আত্মীয়দের একাংশের দাবি, স্কুলের কাজ এবং বিএলও-র দায়িত্ব এক সঙ্গে পালন করতে গিয়ে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করতে হত গোরাচাঁদকে। তবে এসআইআরের সঙ্গে মৃত্যুর যোগের অভিযোগ তোলেননি তাঁরা।
ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর যদিও দাবি, “যে ভাবে বিজেপিকে খুশি করতে নির্বাচন কমিশন এসআইআরের নামে সবার উপরে মানসিক চাপ তৈরি করেছে, সে কারণেই এমন ঘটনাগুলি ঘটছে।” বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি সঞ্জীব সেনের পাল্টা দাবি, “যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ওই বিএলও-র। সব কিছু নিয়ে রাজনীতি করা তৃণমূলের স্বভাব।”
গ্রামের শ্মশানে এ দিন পর পর শেষকৃত্য হয় বাবা ও ছেলের।