ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে কি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করবেন মহসিন নকভিরা? —ফাইল চিত্র।
অবশেষে বরফ কিছুটা হলেও গলেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আইসিসির বৈঠকের পর কিছুটা হলেও সুর নরম করেছেন মহসিন নকভিরা। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে কথা বলবেন নকভি। জানা গিয়েছে, পাক বোর্ডের কিছু কর্তা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ খেলার পক্ষে। তবে এই ম্যাচ খেলার আগে আইসিসিকে তিনটি শর্ত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে পাক বোর্ড।
রবিবার পাকিস্তানে যান আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা ও সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধি মুবাশির উসমানি। লাহৌরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও। ম্যারাথন বৈঠক চলে তাঁদের মধ্যে। আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের আগে আমিনুলের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন নকভি।
‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে। কয়েক জন কর্তা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁরা বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ চান। কিন্তু নকভি আগের দাবিতেই অনড়। বৈঠকে আইসিসির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি ভারত-ম্যাচ বয়কট করে তা হলে কী কী সমস্যার মুখে পড়তে হবে তাদের। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি নির্বাসনের আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কারণ, খেলা না হলে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাটিতে তাদের ক্রিকেটারদের উপর জঙ্গি হামলার পরেও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এ বার পাকিস্তানের পালা।
এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন নকভি। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শরিফের সঙ্গে আরও এক বার আলোচনা করবেন নকভি। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে পাকিস্তান। তার আগে একটি সাংবাদিক বৈঠকও করতে পারেন নকভি। সেখানেই ভারত-পাক ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, ভারত-ম্যাচ খেলার জন্য আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে সবগুলিই বাংলাদেশের স্বার্থে। সেগুলি হল—
১) বাংলাদেশের ক্ষতিপূরণ বাড়াতে হবে। অর্থাৎ, আইসিসির কাছ থেকে বাংলাদেশ যে লভ্যাংশ পায়, তা বাড়াতে হবে।
২) বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে ‘পার্টিসিপেশন ফি’ অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পারিশ্রমিক দিতে হবে।
৩) বাংলাদেশ আগামী দিনে নিজেদের দেশে আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চাইছে। আইসিসিকে জানাতে হবে, আগামী দিনে সেখানে কোন বড় প্রতিযোগিতা হতে পারে।
‘ক্রিকবাজ়’ আবার অন্য কথা বলছে। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তান তিনটি শর্ত রেখেছে ঠিকই, তবে সবগুলিই নিজেদের স্বার্থে। বাংলাদেশের স্বার্থে নয়। সেই শর্তগুলি হল—
১) আইসিসির কাছ থেকে লভ্যাংশ বাবদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যে টাকা পায় তার পরিমাণ বাড়াতে হবে।
২) ২০০৮ সাল থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বন্ধ রয়েছে। সেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় আবার চালু করতে হবে।
৩) এশিয়া কাপ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করছেন না। ভারতীয় ক্রিকেটারদের করমর্দনে বাধ্য করতে হবে।
‘এনডিটিভি’ যে তিন শর্তের কথা জানিয়েছে, সেগুলি মানা সম্ভব আইসিসির পক্ষে। কারণ, তিনটিই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে অন্য কোনও দেশের আপত্তির কোনও জায়গা নেই। কিন্তু ‘ক্রিকবাজ়’ যে তিন শর্তের কথা জানিয়েছে, সেখানে একমাত্র লভ্যাংশ বাড়ানো বাদে বাকি দুই শর্ত মানা অসম্ভব আইসিসির পক্ষে। কারণ, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বা করমর্দন, কোনওটাই আইসিসির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত সেগুলি। সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ফলে তাতে হস্তক্ষেপের কোনও জায়গা আইসিসির নেই।
সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে, বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ নিয়ে এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের যা অবস্থান ছিল, তাতে সামান্য হলেও বদল হয়েছে। কারণ, আইসিসি বাদে সম্প্রচারকারী সংস্থাও পাক বোর্ডের উপর চাপ দিচ্ছে। এই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী সংস্থার বিপুল ক্ষতি। সব মিলিয়ে মোট ৪৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। তাতে পাকিস্তানের সমস্যা বাড়বে। ফলে নকভিরাও ভাবছেন। এখন দেখার, এই বিষয়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।