Pakistan's India Boycott In T20 World Cup

নতুন চাপে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড! শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের পর আরও এক দেশ ভারত-ম্যাচে খেলতে বলল মহসিন নকভিদের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করার পর ক্রমশ চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের উপর। এ বার তাদের ইমেল করল আরও একটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৩
cricket

ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে চাপ বাড়ছে মহসিন নকভির উপর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ক্রমশ একঘরে হয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করার পর ক্রমশ চাপ বাড়ছে তাদের উপর। এ বার তাদের ইমেল করল আরও একটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ক্রিকেট বোর্ড পাক বোর্ডকে করা ইমেলে জানিয়েছে, পাকিস্তানের উচিত বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলা।

Advertisement

‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, আমিরশাহি বোর্ড ইমেলে বলেছে, “পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে আমিরশাহি ক্রিকেটের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। পাকিস্তান দলকে অতীতে নিজেদের দেশের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে আমিরশাহি। সেখানেই নিজেদের ঘরের প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে তারা।”

আমিরশাহি বোর্ডের বক্তব্য, পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত বাকি সব দেশকেও সমস্যায় ফেলেছে। ইমেলে লেখা হয়েছে, “পাকিস্তান যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বেশির ভাগ সদস্য ও সহযোগী দেশ সমস্যায় পড়েছে। আর্থিক ক্ষতি হবে সব দেশের। পরিবারের সদস্য হিসাবে আমরা পাক বোর্ডকে অনুরোধ করছি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে খেলার অনুরোধ করছি।” আমিরশাহি বোর্ড অনুরোধের কথা বললেও সেটা যে বকলমে দাবি, তা বোঝা যাচ্ছে। ফলে চাপ আরও বেড়েছে পাক বোর্ডের উপর।

রবিবার পাকিস্তানে যান আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা ও সহযোগী সদস্য দেশের প্রতিনিধি মুবাশির উসমানি। লাহৌরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি।

‘এনডিটিভি’ জানিয়েছে, বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছে। কয়েক জন কর্তা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাঁরা বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ চান। কিন্তু নকভি আগের দাবিতেই অনড়। বৈঠকে আইসিসির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি ভারত-ম্যাচ বয়কট করে তা হলে কী কী সমস্যার মুখে পড়তে হবে তাদের। সেখানে আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি নির্বাসনের আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কারণ, খেলা না হলে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাটিতে তাদের ক্রিকেটারদের উপর জঙ্গি হামলার পরেও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এ বার পাকিস্তানের পালা।

এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন নকভি। জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শরিফের সঙ্গে আরও এক বার আলোচনা করবেন নকভি। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারে পাকিস্তান। তার আগে একটি সাংবাদিক বৈঠকও করতে পারেন নকভি। সেখানেই ভারত-পাক ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

‘ক্রিকবাজ়’ জানিয়েছে, পাকিস্তানও আইসিসির কাছে তিনটি শর্ত রেখেছে। সেই শর্তগুলি হল—

১) আইসিসির কাছ থেকে লভ্যাংশ বাবদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যে টাকা পায় তার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

২) ২০০৮ সাল থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বন্ধ রয়েছে। সেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় আবার চালু করতে হবে।

৩) এশিয়া কাপ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করছেন না। ভারতীয় ক্রিকেটারদের করমর্দনে বাধ্য করতে হবে।

এই তিন শর্তের মধ্যে একমাত্র লভ্যাংশ বাড়ানো বাদে বাকি দুই শর্ত মানা অসম্ভব আইসিসির পক্ষে। কারণ, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বা করমর্দন, কোনওটাই আইসিসির উপর নির্ভর করে না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত সেগুলি। সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ফলে তাতে হস্তক্ষেপের কোনও জায়গা আইসিসির নেই।

এই সুযোগে আইসিসির কাছে তিনটি দাবি করেছেন আমিনুলও। ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’ জানিয়েছে, আইসিসির কাছে যে তিন দাবি আমিনুল করেছেন, সেগুলি হল—

১) বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতিপূরণ করতে হবে আইসিসিকে। অর্থাৎ, আইসিসির কাছ থেকে বাংলাদেশ যে লভ্যাংশ পায়, তা বাড়াতে হবে।

২) বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে ‘পার্টিসিপেশন ফি’ অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পারিশ্রমিক দিতে হবে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ থেকে তাদের বাদ দিয়েছে আইসিসি। তারা নিজেরা সরে দাঁড়ায়নি। ফলে আইসিসিকে এই টাকা দিতে হবে।

৩) বাংলাদেশ আগামী দিনে নিজেদের দেশে আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চাইছে। আইসিসিকে জানাতে হবে, আগামী দিনে সেখানে কোন বড় প্রতিযোগিতা হতে পারে। আইসিসি প্রতিযোগিতা হলে বিশ্বকাপে না খেলায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পারবে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ জানিয়েছে, আইসিসির আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছেন না। কিন্তু আইসিসির লভ্যাংশের যতটা বাংলাদেশ পায় তার পুরোটাই তাদের দেওয়া হবে। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা আইসিসি সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি।

Advertisement
আরও পড়ুন