(বাঁ দিকে) মহসিন নকভির এক্স পোস্ট এবং মহসিন নকভি (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কি না, তা নিয়ে আগামী শুক্রবার বা সোমবার পাকিস্তান সিদ্ধান্ত নেবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি এ কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এটা জানাতে গিয়ে নকভি প্রধানমন্ত্রীর নামই ভুল লিখে ফেলেছিলেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কী জানালেন নকভি
সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নকভি। তাঁদের মধ্যে ৩০ মিনিট কথা হয়েছে। বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি পাক প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাখ্যা করেছেন নকভি। বৈঠক শেষে তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আইসিসির অবস্থান এবং গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধান করব।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার নেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।’’ সঙ্গে শাহবাজের সঙ্গে বৈঠকের ছবিও দিয়েছেন নকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও।
নামবিভ্রাটে পাক প্রধানমন্ত্রী
নকভির এক্স পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রথমে তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম সম্ভবত ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ নওয়াজ শরিফ’ লেখা হয়। পরে সংশোধন করে ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ’ লেখেন তিনি। পাকিস্তানের এবং সর্বভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নকভির এক্স পোস্টের যে ছবি ব্যবহার করে, তাতে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম রয়েছে ‘মিয়াঁ মুহাম্মদ নওয়াজ শরিফ’! দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম কি সত্যিই ভুল লিখেছিলেন পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নকভি। তিনি গত শনিবার জানান, পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন তাঁরা। সোমবার শাহবাজের সঙ্গে সেই বৈঠক করেছেন পিসিবি প্রধান।
(বাঁ দিকে) মহসিন নকভির এক্স পোস্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম লেখা হয়েছে ‘নওয়াজ শরিফ’। আর একটি পোস্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম লেখা হয়েছে ‘শাহবাজ শরিফ’ (ডান দিকে) বি: এক্স।
কী সিদ্ধান্ত নেবে পাকিস্তান
পাকিস্তান সরকারি ভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের কথা এখনও জানায়নি। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলতে পারে পাকিস্তান। প্রতিবাদ হিসাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে পিসিবি।
অন্য একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি নাম প্রত্যাহার করবে না পাকিস্তান। আইসিসির শাস্তির ভয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে পারে পিসিবি। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করতে পারে তারা। ভারত ছাড়া বাকি সব দেশের বিরুদ্ধে খেলবে তারা।
উল্লেখ্য, আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশ ২-১৪ ব্যবধানে হেরে যায় বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর দাবি নিয়ে ভোটাভুটিতে। বাংলাদেশ নিজেদের ভোট ছাড়া শুধু পাকিস্তানের সমর্থন পেয়েছিল। আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ের আগে থেকেই অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই গত রবিবার বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছে পিসিবি।
কী করবে আইসিসি
পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি ভাল ভাবে নেয়নি জয় শাহের আইসিসি। নকভিরা বিশ্বকাপ বয়কট করলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে আইসিসি। আইসিসির সব সদস্য দেশই পাকিস্তানের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ। কারণ মূল সমস্যার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই। প্রয়োজনে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করে রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে পারে আইসিসি।
সমস্যার শুরু আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) বাদ দেওয়ায়। ভারতে ক্রিকেটার, সমর্থক, কর্তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত নয় জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আইসিসি সব খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশঙ্কা নিয়ে বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বার আলোচনাও করেছেন আইসিসি কর্তারা। কিন্তু বাংলাদেশের অনড় মনোভাবে অসন্তুষ্ট হন আইসিসির বোর্ড সদস্যেরা। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের দাবি খারিজ হয়। পরিবর্ত দেশ হিসাবে ক্রমতালিকার ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দিয়েছে আইসিসি।
ক্ষুব্ধ ভারতীয় বোর্ড
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে আইসিসি ছাঁটাই করে দেওয়ার পর পাকিস্তানও জানিয়েছে, তারা খেলবে কি না ভেবে দেখবে। পিসিবির এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিসিসিআইও। ভারতীয় বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান কোনও কারণ ছাড়াই হস্তক্ষেপ করছে। বাংলাদেশকে উস্কানি দিচ্ছে। সকলে জানে এক সময় বাংলাদেশের মানুষের উপর বর্বরতা চালিয়েছে পাকিস্তান। এখন আবার তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এটা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। আমরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলাম। তা-ও ওরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপের পুরো সূচি বদলে ফেলা অসম্ভব। সে কারণেই পরিবর্ত হিসাবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’’