বিরাট কোহলি। —ফাইল চিত্র।
গত বছর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বিরাট কোহলির। অবশেষে তিন বার ফাইনালে হারের পর আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। ফাইনালে পঞ্জাব কিংসকে ৭ রানে হারায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। অথচ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে পর্যন্ত চিন্তা যায়নি কোহলির। সেই কাহিনি শুনিয়েছেন তিনি।
আরসিবির একটি ভিডিয়োতে গত বারের ফাইনাল নিয়ে মুখ খুলেছেন কোহলি। তিনি বলেন, “শেষ ওভার শুরু হওয়ার আগেই আমরা জানতাম জিতে গিয়েছি। কিন্তু তা-ও একটু চিন্তা ছিল। শুধু প্রার্থনা করছিলাম জশ (হেজ়লউড) যেন নো-বল না করে। জানতাম এটা ও করবে না। তার পরেও চিন্তা যায়নি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছি জানার পরেও শেষ তিন বলের যে অপেক্ষা, সেটা সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল।”
এর আগে ২০০৯, ২০১১ ও ২০১৬ সালের ফাইনাল খেলেছিলেন কোহলি। তিন বারই হারতে হয়েছিল। কোহলিই আইপিএলের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ১৮ বছর ধরে এক দলেই খেলেছেন। কোহলি বলেন, “শুরুর দিন থেকে আমি এই দলে। দলের সাপোর্ট স্টাফ রমেশ মানেও তাই। আমরা দু’জনেই সবচেয়ে পুরনো। শেষ পর্যন্ত দু’জনেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।”
ফাইনালের আগে তাঁর মন অনেক শান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন কোহলি। এত দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছিল। তিনি জানতেন, জয় সহজ হবে না। কিন্তু ভয় পাননি। কোহলি বলেন, “ফাইনালে ওঠার পর মনটা বেশ শান্ত ছিল। জানতাম সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ। সহজে জিততে পারব না। তার পরেও আত্মবিশ্বাস ছিল। এত দিন ধরে খেলার অভিজ্ঞতা মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করেছিল।”
তিন বারের ব্যর্থতা চতুর্থ বার জেতার ভিত গড়ে দিয়েছিল বলে মনে করেন কোহলি। তাঁরা অনেক বেশি মরিয়া ছিলেন। কোহলি বলেন, “এর আগে যত বার ফাইনালে উঠেছি, হেরেছি। আমার মনে হয়, সেই হার থেকেই বাড়তি তাগিদ পেয়েছিলাম। জানতাম, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে সব ভাল দলকে হারাতে হবে। ভাগ্য জিতিয়ে দেবে না। মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা দিয়েছি। তাই জিতেছি।”
ফাইনালে শেষ মুহূর্তে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কোহলি। টুপিতে মুখ ঢেকে হাঁটু মুড়ে বসে পড়েন মাঠে। গোটা আইপিএলেরর স্মৃতি ভিড় করছিল তাঁর মাথায়। কোহলি বলেন, “অনেক কিছু মনে পড়ছিল। ১৮ বছরের স্মৃতি মাথায় ভিড় করছিল। কত চড়াই-উতরাই পেরিয়েছি। কত খারাপ সময় কাটিয়েছি। আবার সফল হয়েছি। ১০ মিনিটের মধ্যে সব স্মৃতি মাথায় ভিড় করছিল। ওই অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।”
এ বারও একই রকম উদ্যম নিয়ে আইপিএল খেলতে নামবেন কোহলি। প্রস্তুতিতে খামতি রাখছেন না তিনি। কোহলি চান, দলের প্রত্যেকে এই আড়াই মাস নিজেদের ১২০ শতাংশ দিক। সেই বার্তাই সতীর্থদের দিয়েছেন কোহলি।