আইপিএলের ম্যাচ চলছে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। —ফাইল চিত্র
আশঙ্কাই সত্যি হল। গত বারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এ বার আইপিএলে ঘরের মাঠে একটি ম্যাচও খেলবে না। বিরাট কোহলিদের নতুন ঘর একটি নয়, দু’টি।
আরসিবির নতুন দুই ঘরের মাঠ
এই বছরের আইপিএলে আরসিবি তাদের হোম ম্যাচগুলি ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম এবং শহিদ বীর নারায়ণ সিং স্টেডিয়ামে ভাগ করে খেলবে।
• নবী মুম্বই (ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম): এখানে ৫টি ম্যাচ হবে।
• রায়পুর (শহিদ বীর নারায়ণ সিং স্টেডিয়াম): এখানে ২টি ম্যাচ হবে।
কেন বেঙ্গালুরু নয়
গত বছর আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিজয়োৎসবের সময় বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আরও অনেকে আহত হয়েছিলেন। এই নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়।
সেই ঘটনার পর থেকে স্টেডিয়ামটি বড় কোনও ইভেন্টের জন্য ছাড়পত্র পায়নি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচও পায়নি বেঙ্গালুরু। কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার চিন্নাস্বামীতে ম্যাচ করার অনুমতি দেয়নি। একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির রিপোর্টে চিন্নাস্বামীকে বড় জনসমাগমের জন্য নিরাপদ নয় বলা হয়। তাতেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, আইপিএলের ম্যাচ এখানে হবে না।
কেন নবী মুম্বই, রায়পুর
প্রথমে পুণেকে ঘরের মাঠ হিসাবে ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত আরসিবি-র কর্তা ও আইপিএল আয়োজকদের মধ্যে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামটি বেশ বড়। এখানে ২০০৮ ও ২০১০ সালের আইপিএল ফাইনাল এবং ২০২২ সালে কোভিডের সময় আইপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অন্য দিকে রায়পুরে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এখনকার আধুনিক স্টেডিয়ামটি বিশাল ভিড় সামলানোর সক্ষমতা রাখে।
আরসিবির কাছে তাৎপর্য কী
আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে সব অ্যাসোসিয়েশন প্রশাসনিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, তারা ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে না। আইপিএলে এখন জননিরাপত্তা, আইনি দায়বদ্ধতা এবং লজিস্টিক প্রস্তুতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
শুধু আরসিবি নেয়, রাজস্থান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসনিক সমস্যার কারণে রাজস্থান রয়্যালসও তাদের হোম ম্যাচ পুণেতে খেলতে চলেছে। বদলে যাচ্ছে বৈভব সূর্যবংশীদেরও ঘরের মাঠ।
চিন্নাস্বামীতে কি আবার আইপিএল হবে?
বেঙ্গালুরু ভক্তদের মনে এই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ক্রিকেটে এর প্রত্যাবর্তন নির্ভর করছে নিরাপত্তার আধুনিকীকরণ এবং সরকারি ছাড়পত্রের উপর।