IPL 2026

কোহলির শতরানে হারে ফিরল কেকেআর, শনিবার ইডেনে হারলেই কি আইপিএল থেকে ছুটি রাহানেদের

আরসিবির কাছে হেরে আইপিএলের প্লেঅফের রাস্তা কঠিন করে ফেলল কেকেআর। আশা জিইয়ে রাখতে হলে বাকি তিনটি ম্যাচই জিততে হবে অজিঙ্ক রাহানেদের। তিনটি ম্যাচই অবশ্য ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাবে কেকেআর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ০০:২০
picture of cricket

বিরাট কোহলি। ছবি: পিটিআই।

আইপিএলের প্লেঅফে ওঠার অঙ্ক কঠিন করে ফেলল কলকাতা নাইট রাইডার্স। টানা চার ম্যাচ জিতে লড়াইয়ে ঢুকে পড়া অজিঙ্ক রাহানেরা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে হেরে গেলেন ৬ উইকেটে। বলা ভাল বিরাট কোহলির শতরানের সামনে আত্মসমপর্ণ করলেন রাহানেরা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর করে ৩ উইকেটে ১৯২ রান। জবাবে ১৯ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান আরসিবির। এ দিনের জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এল বেঙ্গালুরু। ১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরেই থাকল কলকাতা।

Advertisement

প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর অন্তত ১৫-২০ রান কম তোলে। হাতে উইকেট থাকার পরও শেষ চার-পাঁচ ওভার কিছুটা মন্থর ব্যাটিং করল কেকেআর। তাতে সুবিধা হল বেঙ্গালুরুর। এখনকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৯৩ রান তাড়া করা কঠিন নয়। সমস্যা হয়নি বেঙ্গালুরুরও। ওপেনার জেকব বেথেল (১৫) আউট হলেও আগ্রাসী ব্যাটিং করে পরিস্থিতি সামলে দেন শেষ দু’ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়া কোহলি। বেঙ্গালুরুর কাজ আরও সহজ করে দিয়েছে কেকেআরের খারাপ ফিল্ডিং। প্লেঅফে উঠতে যে দলের সব ম্যাচে জয় ছাড়া উপায় প্রায় নেই, সেই দলের এমন ফিল্ডিং নিশ্চিত ভাবে হতাশাজনক।

বুধবার আইপিএলে নিজের ২৭৯তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন কোহলি। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং রোহিত শর্মাকে টপকে আইপিএলের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভেঙে দিলেন। একটি দলের হয়ে আইপিএলে ২৫০টির বেশি ম্যাচ খেলার নজিরও একমাত্র তাঁরই রয়েছে। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেন কোহলি। দেবদত্ত পডিক্কলকে নিয়ে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গেলেন। নিজে খেললেন। পডিক্কলকে আগলে রাখার চেষ্টা করলেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওপেনার হিসাবে এ দিন ৬০০০ রানের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন কোহলি। পডিক্কল করলেন ২৭ বলে ৩৯। মারলেন ৭টি চার। ভরসা দিতে পারেননি অধিনায়ক রজত পাটিদার (১১), টিম ডেভিডেরা (২)। কিন্তু কোহলি ছিলেন অবিচল। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন। শেষ পর্যন্ত খেললেন ৬০ বলে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে এল ১১টি চার এবং ৩টি ছক্কা। পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংসের গতি কমালেন এবং বাড়ালেন। শেষে তাঁর সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন জিতেশ শর্মা (৮)।

কেকেআরের বোলারদের মধ্যে সফলতম কার্তিক ত্যাগী ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৩১ রানে ১ উইকেট সুনীল নারাইনের। হতাশ করলেন বৈভব অরোরা, অনুকূল রায়েরা। তবে বেঙ্গালুরুর ব্যাটারদের কেউই তেমন সমস্যায় ফেলতে পারেননি।

আইপিএলের শুরুটা প্রত্যাশা মতো করতে পারেনি কেকেআর। প্রথম ছ’টি ম্যাচের একটিও জিততে পারেননি রাহানেরা। সমর্থকদের হতাশা যখন প্রায় চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখনই ঘুরে দাঁড়ান রাহানেরা। তার পর টানা চার ম্যাচে জয়। আইপিএলের মাঝ পথে রাহানের দল হঠাৎই বদলে গিয়েছে। সেই বদল বুধবার বোঝা গেল রায়পুরেও। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দুই ওপেনার রাহানে (১৯) এবং ফিন অ্যালেন (১৮) রান না পেলেও লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছোয় কেকেআর। ক্যামেরন গ্রিন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং রিঙ্কু সিংহ দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেন।

রঘুবংশীর কথা আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে। শেষ পাঁচটি ম্যাচের একটিতে রান পেয়েছিলেন। তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। ২১ বছরের সেই তরুণই আরসিবির বিরুদ্ধে ত্রাতা হয়ে উঠলেন। শেষ পর্যন্ত পিচে থাকলেন। ইনিংসের শুরুতে চাপের সময় যেমন ধরে খেলেছেন, তেমন প্রয়োজনের সময় বড় শট নিয়ে রান তোলার গতি বাড়িয়েছেন। কেকেআরের ইনিংসের শেষ বলে রিঙ্কুর অর্ধশতরান পূর্ণ করাতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়েছেন একরকম। তার আগে ৪৬ বলে ৭১ রান করে দলকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। ৭টি চার এবং ৩টি ছয় মেরেছেন রঘুবংশী। ৪৮ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর রঘুবংশীর সঙ্গে প্রাথমিক চাপ সামলে দেন গ্রিন। আইপিএলের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডারকে নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এখন তিনিও ভরসা দিচ্ছেন রাহানেদের। রায়পুরেও ২৪ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেললেন। মারলেন ৩টি চার এবং ১টি ছয়।

বৃষ্টি এবং মাঠ ভিজে থাকায় নির্দিষ্ট সময় শুরু করা যায়নি বেঙ্গালুরু-কলকাতা ম্যাচ। টস হয় সাড়ে ৮টায়। খেলা শুরু হয় আরও ১৫ মিনিট পর। আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন পাটিদার। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। রাহানে এবং অ্যালেন দ্রুত আউট হওয়ায় মনে হয়েছিল, তাঁর সিদ্ধান্ত ঠিক। কিন্তু গ্রিন-রঘুবংশী জুটি বেঙ্গালুরু শিবিরের আশায় জল ঢেলে দেয়।

ভাল ব্যাট করেছেন রিঙ্কুও। ২৯ বলে ৪৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেছেন। মেরেছেন ৩টি চার এবং ২টি ছয়। ফিনিশারের ভূমিকা পালন করেছেন সফল ভাবে। তা-ও প্রশ্ন থাকল কেকেআর সহ-অধিনায়কের মানসিকতা নিয়ে। শেষ ওভারে অর্ধশতরান পূর্ণ করার আশায় ভুবনেশ্বর কুমারের বলে সুযোগ থাকতেও খুচরো রান নিলেন না। সম্ভবত স্ট্রাইক রাখতে চেয়েছিলেন নিজের কাছে। তাতে ১ রান হলেও কম উঠল। তাঁকে অর্ধশতরান করাতে গিয়ে রঘুবংশী অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে পারলেন না। ভারতীয় দলের ব্যাটারের কাছ থেকে আর একটু দায়িত্ববোধ আশা করাই যায়।

বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সফলতম ভুবনেশ্বর ৩৪ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। জশ হেজ়লউড ৩৫ রানে ১ উইকেট নেন। রাসিখ সালামেরও ৩৫ রানে ১ উইকেট।

বাতি তিনটি ম্যাচ জিতলে কেকেআর সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্টে পৌঁছবে। একটি হার মানে ১৩ পয়েন্টের বেশি হবে না। পয়েন্ট তালিকায় প্রথম তিন দল গুজরাত টাইটান্স, বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ইতিমধ্যেই ১৪ পয়েন্ট টপকে গিয়েছে। পঞ্জাব কিংসের ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট। বাকি তিনটি ম্যাচের একটি জিতলেই ১৫ পয়েন্টে পৌঁছে যাবেন শ্রেয়স আয়ারেরা। ফলে আগামী শনিবার শুভমন গিলদের কাছে হারলেই এ বারের আইপিএল থেকে ছুটি হয়ে যাবে রাহানেদের।

Advertisement
আরও পড়ুন