ডাগআউটে বসে মোবাইল দেখছেন রোমি ভিন্দের। এই ঘটনায় বিতর্কে রাজস্থানের আধিকারিক। ছবি: এক্স।
শেষ পর্যন্ত কি শাস্তি পাবেন রোমি ভিন্দের? রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে বসে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও আইপিএলের নিয়ম ভেঙেছেন রোমি। ফলে রাজস্থান রয়্যালস ও রোমিকে নোটিস পাঠিয়েছে বোর্ড। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকে হাতিয়ার করেছে রাজস্থান।
‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিদমন শাখা নোটিস পাঠিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস ও রোমিকে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বোর্ডকে জানাতে হবে, কেন ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার করেছেন রোমি। আইপিএলের চেয়ারম্যান অরুণ ধূমল বলেছেন, “আমরা দুর্নীতিদমন শাখাকে বলেছি ঘটনার তদন্ত করে একটা রিপোর্ট জমা দিতে।”
বেঙ্গালুরু ম্যাচে ডাগআউটে বসে মোবাইল দেখছিলেন রোমি। তখন তাঁর পাশে বসে মোবাইলের দিকে তাকিয়েছিল বৈভব সূর্যবংশীও। নিয়ম অনুযায়ী, আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন কোনও ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফ সাজঘরে বা ডাগআউটে মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না। শুধু দলের ম্যানেজারের কাছে মোবাইল থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তিনিও মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না। সাজঘরের বাইরে ব্যবহার করতে পারেন না। ব্যবহার করলে তার কারণ জানাতে হয় বিসিসিআইকে।
ম্যাচ গড়াপেটা ঠেকাতেই এই নিয়ম। ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফদের বাইরের সব রকম প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্যও এই নিয়ম কঠোর ভাবে মেনে চলার কথা। রাজস্থানের অভিজ্ঞ ম্যানেজারের বিধিভঙ্গকে হালকা ভাবে নিতে নারাজ বোর্ড কর্তারা। তাই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জানা গিয়েছে, রোমির শারীরিক সমস্যাকে হাতিয়ার করবে রাজস্থান। দলের এক আধিকারিক বলেছেন, “রোমির দুটো ফুসফুসই অকেজো হয়ে গিয়েছিল। এক মাস নাগপুরের এক হাসপাতালে উনি ভর্তি ছিলেন। তার মধ্যে এক সপ্তাহ ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল। আমাদের আশা, বোর্ড ওঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করবে।”
ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বেশি হাঁটাহাটি করতে বারণ করাতেই ডাগআউটে ফোন নিয়ে বসেছিলেন রোমি। তিনি বলেন, “রোমির ওজন প্রায় ১০ কেজি কমেছে। ওঁর হাঁপানি রয়েছে। সেই কারণে চিকিৎসকেরা ওঁকে বেশি হাঁটাহাটি করতে বা সিঁড়ি ভাঙতে নিষেধ করেছে। ওঁকে সাজঘরে যেতে হলে অন্তত ৫০টা সিঁড়ি ভাঙতে হবে। তার পর ২০ পা হাঁটতে হবে। আবার ফেরার সময় একই দূরত্ব। সেই কারণেই উনি বাধ্য হয়ে মোবাইল নিয়ে ডাগআউটে বসেছিলেন।”
ডাগআউটে বসে রোমি কারও সঙ্গে কথা বলেননি বলেই দাবি করেছেন ওই আধিকারিক। তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ডাগআউটে মোবাইল ও ল্যাপটপ রাখা যায়। সেটা কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাই আসল। রোমি কাউকে ফোন করেনি। ফোন ধরেনি। শুধু ফোন ঘাঁটছিল। সেটা ওর শারীরিক কারণে। ওর কাছে বিষয়টা বুঝিয়ে বলার সময় আছে। আশা করছি বোর্ড ওর কথা বুঝবে।”