Abhishek Banerjee CID

সময়ের আগেই ভবানী ভবনে হাজিরা অভিষেকের, কিছু ক্ষণ পর হাজিরা দেওয়ার কথা তৃণমূল বিধায়ক কুণালেরও

বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে অভিষেককে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই মতো অভিষেক হাজিরা দেন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ১১:৪৪
বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি দফতরে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি দফতরে। ছবি: পিটিআই।

বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে সিআইডি-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে রবিবার ফের ভবানী ভবনে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বেলা ১২টা নাগাদ হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১৭ মিনিট আগেই তিনি পৌঁছে যান সিআইডি দফতরে। এই মামলায় অভিষেককে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই মতো অভিষেক হাজিরা দিলেন। আদালত জানিয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি। অন্য দিকে, একই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে রবিবার বিকেলে তলব করেছে সিআইডি।

Advertisement

রবিবার বেলা ১১টা ৪৩ মিনিট নাগাদ সিআইডি দফতরে পৌঁছে যায় অভিষেকের গাড়ি। তিনি প্রথমে রিসেপশনের দিকে যান। সেখানে পরিচয়পত্র দেখিয়ে হাজিরার খাতায় সই করার পর সিআইডি দফতরে প্রবেশ করেন অভিষেক। তাঁর হাজিরাকে কেন্দ্র করে ভবানী ভবন চত্বরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রবিবার ছুটির দিন হলেও সকাল থেকেই একে একে সিআইডি আধিকারিকেরা দফতরে পৌঁছে যান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে র‌্যাফও।

ভবানী ভবনের সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি। রবিবার।

ভবানী ভবনের সামনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি। রবিবার। —নিজস্ব চিত্র।

সই জাল কাণ্ডে এর আগে বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক। দিল্লি থেকে ফিরে কালীঘাট হয়ে তিনি যান সিআইডি দফতরে। সে দিন টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। রাতে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সে দিনই সিআইডি তাঁকে ফের হাজিরা দিতে বলেছিল। বলা হয়েছিল, রবিবার ফের অভিষেককে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। অভিষেক জানিয়েছিলেন, তিনি হাজিরা দেবেন।

শুধু রবিবার নয়, সিআইডি অন্য একটি মামলায় অভিষেককে তলব করেছে ১৬ জুন। তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সল্টলেকে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে গত শুক্রবার অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস ধরিয়ে আসেন রাজ্যের গোয়েন্দারা। এ ছাড়া, ১৫ জুন প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে তলব করেছে ইডি। রবিবারের পর সোমবার এবং মঙ্গলবারও তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে হাজিরা দেবেন কি না, স্পষ্ট নয়। এই দুই মামলায় আপাতত অভিষেকের কোনও রক্ষাকবচ নেই।

বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, চিঠিতে অনেকের সইয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁরা স্বাক্ষর করেননি। কারও কারও নাম লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে! সেই চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একাধিক বার তলব করেছিল সিআইডি। প্রথমে তিনি কয়েক বার হাজিরা এড়ান। তার পর রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। আদালত নির্দেশ দেওয়ার পর তিনি ভবানী ভবনে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার হাজিরা দিলেন।

অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে শনিবার গভীর রাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। সূত্রের দাবি, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ দেখা গিয়েছিল অভিষেকের বাড়িতেই। রাত ৩টে থেকে ডাকাডাকি করা হলেও কেউ সাড়া দেননি। ভোর ৫টা নাগাদ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের ডেকে অভিষেকের বাড়ির তালা ভাঙে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সকাল ৮টা নাগাদ পুলিশ বেরিয়ে যায়। অভিষেকের বাড়ি থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। পাওয়া যায়নি আপ্তসহায়ককেও।

Advertisement
আরও পড়ুন