ICC T20 World Cup 2026

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতা, প্রথম কোপ পড়তে চলেছে এশিয়ার এক দেশের অধিনায়ক, নির্বাচকদের উপর

সনৎ জয়সূর্য আগেই জানিয়েছিলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দায়িত্বে থাকবেন না। তিনি সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। তবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট পরিবর্তন করতে পারে অধিনায়ক এবং নির্বাচকদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:০০
picture of cricket

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি। —ফাইল চিত্র।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য নেতৃত্ব থেকে দাসুন শনাকাকে সরিয়ে দিতে পারে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। সরিয়ে দেওয়া হতে পারে জাতীয় নির্বাচকদেরও। কোচ সনৎ জয়সূর্য আগেই জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের পর দায়িত্বে থাকবেন না। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের আরও একটি অধ্যায় শেষ হওয়ার অপেক্ষায়।

Advertisement

গ্রুপের প্রথম তিনটি ম্যাচ জেতার পর ছন্দ পতন হয় শ্রীলঙ্কার। জ়িম্বাবোয়ের কাছে হারের পর সুপার এইটে নিউ জ়িল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কাছেও হেরেছে অন্যতম আয়োজকেরা। পাকিস্তানকে হারালেও সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না তারা। দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কর্তারা। বিশ্বকাপ শেষ হলে বড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাঁরা।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ শেষ হলে শনাকা এবং নির্বাচকদের ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দেবেন কর্তারা। তাঁরা সেই পরামর্শ না মানলে সরিয়ে দেওয়া হবে তাঁদের। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপে আমাদের এখনও একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে। এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাই না আমরা। তাতে ভুল বার্তা যেতে পারে। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর যা করার করা হবে।’’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য মূলত ব্যাটিংকে দুষছেন কর্তারা। সুপার এইট পর্বে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬৯ রান এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৪৭ রান তাড়া করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গ এবং মাতিশা পাতিরানার চোটকেও ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন তাঁরা। শনাকার নেতৃত্বেও খুশি নন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কর্তারা। ভবিষ্যতে তাঁকে আর কখনও অধিনায়ক না করার কথা ভাবা হচ্ছে।

শনাকা বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক ছিলেন না। চরিথ আশালঙ্কা নিলম্বিত (সাসপেন্ড) হওয়ায় দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রাক্তন অধিনায়ককে। দল ছিটকে যাওয়ার পর শনাকার মন্তব্যেও খুশি নন কর্তারা। দলের ব্যর্থতার জন্য সমালোচনাকে দায়ী করে শনাকা বলেছিলেন, ‘‘খেলোয়াড় হিসাবে বাইরের শোরগোল নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন। অধিকাংশ সময় আমরা শুধু নেতিবাচক কথা শুনি। আমরা কতটা ইতিবাচক থাকতে পারছি সেটা বড় কথা নয়, বাইরে থেকে একটা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়। এটা শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের জন্য বড় প্রতিকূলতা। আমাদের খেলা বলতে শুধু ক্রিকেটই রয়েছে। আমার মনে হয় না এটাকেও আর বাঁচানো সম্ভব। জানি না কেন এত নেতিবাচকতা।’’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘এটা ঠিক, আমরা বিশ্বকাপে হেরেছি। ব্যর্থতার কারণগুলো আমরা জানি। সেগুলো নিয়ে সকলেই ভাবছি। আমরা এক দিন অবসর নিয়ে নেব। অন্তত আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে সরকার যদি পদক্ষেপ করে এবং এই সব সমালোচনা বন্ধ করতে পারে, তা হলে ভাল কিছু হতে পারে।’’

শনাকার বক্তব্য ভাল ভাবে নেননি কর্তারা। দল নির্বাচন নিয়েও কর্তাদের অসন্তোষ রয়েছে। ফলে কোপ পড়তে পারে তাঁদের উপর। জয়সূর্যও আর কোচ হিসাবে কাজ চালাতে রাজি নন। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বড় রদবদলে পথে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট।

Advertisement
আরও পড়ুন