Reliance ADAG

‘গয়ংগচ্ছ মনোভাব দেখাবেন না, তদন্তে স্বচ্ছতা আনুন’, অনিল অম্বানী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নিশানায় ইডি, সিবিআই

অনিলের সংস্থার বিরুদ্ধে ৩০০০ কোটি টাকা ঋণে বেনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে তদন্ত চালাচ্ছে দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআই। কিন্তু ওই তদন্তে কিছু খামতি রয়ে যাচ্ছে বলে দাবি মামলাকারীর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫৬
Supreme Court unhappy over ‘reluctance’, asks CBI and ED to conduct fair probe against ADAG firms of Anil Ambani

অনিল অম্বানী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় ‘রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই অম্বানী গোষ্ঠী’ (রিলায়্যান্স এডিএজি)-র কর্ণধার অনিল অম্বানীর বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আবার ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার তাদের পর্যবেক্ষণে আবার অনিলের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না জানিয়ে দুষেছে দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা, ইডি এবং সিবিআই-কে।

Advertisement

সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে সোমবার তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, ‘‘এডিএজি এবং তাদের অধীনস্থ সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার তদন্তে সিবিআই এবং ইডি অনিচ্ছুক বলে আমাদের মনে হচ্ছে। এবং তাদের (সিবিআই এবং ইডি) এই বিষয়ে ‘ন্যায্য, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং সময়সীমা মেনে তদন্ত করতে হবে।’’ মেহতার এই মামলায় সিবিআই এবং ইডির কৌঁসুলি হিসাবে কাজ করছেন।

এডিএজি এবং তার অধীনস্থ সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটিরও বেশি টাকারও বেশি ব্যাঙ্ক-ঋণ প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ইডি এবং সিবিআই। তবে ওই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মা। আদালতের নজরদারিতে ওই তদন্ত চালানোর জন্য তিনি জনস্বার্থ মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতেই সোমবার ওই মন্তব্য করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। সোমবার শুনানির শুরুতেই মেহতা বেঞ্চকে জানান যে, আগের এক আদেশের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্তদল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যাতে ইডি-র সিনিয়র আধিকারিক এবং ব্যাঙ্কিং বিষয়ক আর্থিক বিশেষজ্ঞেরা রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত ১৫,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (অ্যাটাচ) করেছে এবং কয়েক জন সিনিয়র কর্মকর্তা-সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে।’’

অন্য দিকে, শর্মার পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ একটি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-র একটি রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেন, ‘‘সেখানে অর্থ আত্মসাতের একটি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবুও সিবিআই এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি। এর পরেই বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলে, “আমরা কাকে গ্রেফতার করতে হবে তা নিয়ে নির্দেশ দিতে পারি না। কিন্তু তদন্ত সংস্থাগুলি যে ভাবে অনিচ্ছা দেখাচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের জানাতে হবে কী পাওয়া গেছে। আপনাদের তদন্তে কী করা হয়েছে তা প্রকাশ করতে হবে।” প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তদন্ত সংস্থাগুলির নতুন স্টেটাস রিপোর্টে প্রকাশিত কিছু তথ্যের উল্লেখ করে জানায় যে, বর্তমানে সিবিআই সাতটি এবং ইডি আটটি এফআইআর-এর তদন্ত করছে। ৩,০০০ কোটির বেশি ঋণ মাত্র ২৬ কোটি টাকা দিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

মোট জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ৭৩০০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “তদন্ত সংস্থাগুলিকে এক সঙ্গে কাজ করে বিষয়টি খুঁজে বার করতে হবে। আমরা সিবিআই এবং ইডি-কে স্পষ্ট ভাষায় বলছি যে তদন্তটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন ভাবে শেষ করা হোক। তদন্ত যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুক্তিগ্রাহ্য পরিণতিতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’’ অনিলের সংস্থার আইনজীবী মুকুল রোহতগি শীর্ষ আদালতকে বলেন, ‘‘মামলাটি বিচারাধীন থাকায় ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলি তার সঙ্গে দেনা মেটাতে আলোচনা করতে রাজি নয়।’’ প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ‘‘আমরা কাউকে আলোচনায় কোনও বাধা দিইনি।’’ অন্য দিকে প্রশান্ত অভিযোগ করেন, রিলায়্যান্স কমিউনিকেশনসের ৪৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৪৩০ কোটি টাকায়, অর্থাৎ ঋণ-অঙ্কের প্রায় ১ শতাংশেরও কমে অনিলের ভাইয়ের একটি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বেঞ্চ তদন্ত সংস্থাগুলির কাছ থেকে নতুন স্টেটাস রিপোর্ট চেয়ে চার সপ্তাহ পরে মামলাটি আবার শুনানির জন্য নির্ধারণ করে। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারিও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement
আরও পড়ুন