Operation Sindoor

‘আমরা আগে থেকেই জানতাম’, সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানকে চিনের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া নয়াদিল্লির

সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানকে সাহায্য করার বিষয়টি সম্প্রতি স্বীকার করেছে বেজিং। সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম সাউথ চিন মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান মেরামত, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেছেন চিনের ইঞ্জিনিয়ারেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ২৩:১২

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান ফৌজকে চিনের সহায়তার বিষয়টি ভারতের আগে থেকেই জানা ছিল। মঙ্গলবার এই দাবি করে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের আগেই বিষয়টি জানা ছিল। এ বার তা নিশ্চিত হল। বেজিঙের এ বার আত্মসমালোচনা করা উচিত।’’

Advertisement

সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানকে সাহায্য করার বিষয়টি সম্প্রতি স্বীকার করেছে বেজিং। সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম সাউথ চিন মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান মেরামত, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেছেন চিনের ইঞ্জিনিয়ারেরা। এর আগে সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানকে সহায়তা দেওয়া নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তারা কোনও মন্তব্য করেনি। এই প্রথম সেই স্বীকারোক্তি এসেছে চিনের তরফে।

গত বৃহস্পতিবার চিনের সরকারি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চিন (এভিআইসি)-র কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ার। সেই সাক্ষাৎকারই প্রকাশিত হয়েছে সাউথ চিন মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেছিলেন ঝাং হেং। তিনি এভিআইসি-র চেংদু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়ার। চিনের যুদ্ধবিমান তৈরি করে ওই প্রতিষ্ঠান। চিনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাকিস্তান। চিন ছাড়া একমাত্র তারাই ওই আধুনিক বিমান ব্যবহার করে। সূত্রের খবর, ২০২০ সালে চিনের থেকে ৩৬টি যুদ্ধবিমান অর্ডার করেছিল পাকিস্তান। হেং জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল ‘অন-সাইটে’ গিয়ে পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান যাতে ভাল ভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।

ওই প্রতিষ্ঠানের আর এক কর্মী জু দা জে-১০সিই যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ‘সন্তান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা তৈরি করেছি, যত্ন করেছি, তার পরে ব্যবহারকারীদের হাতে তুলে দিয়েছি (যুদ্ধবিমান)। তা পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। জে-১০সিই সফল হয়েছে। আমরা যদিও হতবাক হইনি। এটা হওয়ারই ছিল। সফল হওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছিল ওই যুদ্ধবিমান।’’ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ যান ২৬ জন ভারতীয়। নাম জড়ায় পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর। এর পরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।

Advertisement
আরও পড়ুন