(বাঁ দিকে) হরলীন দেওল এবং অভিষেক নায়ার (ডান দিকে)। বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর। ছবি: এক্স।
ব্যাট হাতে জবাব দেওয়ার পর ‘রিটায়ার্ড আউট’ নিয়ে মুখ খুললেন হরলীন দেওল। বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইউপি ওয়ারিয়র্জ়ের কোচ অভিষেক নায়ারও। গত বুধবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে রান করার সময় হরলীনকে তুলে নিয়ে ম্যাচ হেরেছিলেন অভিষেক। বৃহস্পতিবার সেই হরলীনের ইনিংসেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে জিতেছে তাঁর দল।
হরমনপ্রীত কৌরদের বিরুদ্ধে ৩৯ বলে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে এ বারের ডব্লিউপিএলে ইউপিকে প্রথম জয় এনে দিয়েছেন হরলীন। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পর ভারতীয় দলের ব্যাটার বলেছেন, ‘‘আজকের মতো আগের দিনও ভালই ব্যাট করছিলাম। আসলে ক্লো ট্রায়ন যে কোনও সময় ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। বড় শট নিতে পারে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ও কেমন খেলল সকলেই দেখলেন (১১ বলে অপরাজিত ২৭)। তবে সব দিন ফলাফল আমাদের পক্ষে আসে না। আমরা আসলে ওর এই আগ্রাসী ব্যাটিং কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম। ও খুব পরিষ্কার শট মারতে পারে। ওই পরিস্থিতিতে হয়তো সেই ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। আমি এ ভাবেই দেখছি বিষয়টা।’’
দিল্লির বিরুদ্ধে ৩৫ বলে ৪৭ রান করা পর হরলীনকে তুলে নেন নায়ার। তাঁর বদলে নামানো হয়েছিল ট্রায়নকে। সে দিন ট্রায়ন তিন বলে ১ রান করে আউট হয়ে যান। ঝুঁকি নিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি নায়ারের ইউপি।
বিতর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইউপি কোচও। তাঁর মতে বোঝাপড়ার মধ্যে কিছুটা ঘাটতি থেকে গিয়েছিল। ভুল যে তাঁরই, কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। নায়ার বলেছেন, ‘‘ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কয়েক জন কোচের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাঁরা আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি অনেক দিন ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করছ। কোচ হিসাবে এ বার সরাসরি কথা বলার চেষ্টা কর। কী চাও, সরাসরি বল। কী ভাবে খেলতে হবে, সরাসরি বল।’ না হলে বোঝাপড়ার সমস্যা হয়। এ ক্ষেত্রেও তেমন হয়েছিল। আসলে মহিলাদের ক্রিকেট একটু আলাদা। আরও একটু মনযোগ দিতে হয়। কখনও কখনও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় প্রচলিত ধারনাগুলোর বাইরে গিয়ে। আমাদের আরও কাজ করতে হবে। সত্যি বলতে আমি নিজেও প্রতি দিন শিখছি। নিজেকে বলছি, অভিষেক মুখ খোল, কথা বল। কখনও কখনও এটা দরকার।’’
নায়ার আরও বলেছেন, ‘‘দলের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দারুণ সাহায্য পাচ্ছি। ওরা অসাধারণ। ছেলেদের ক্রিকেটে একটা ভাবনা থাকে। কোন কথায় কে কী বলবে ভাবতে হয়। মহিলাদের ক্রিকেটে এই সমস্যা নেই। ওরা খুব সংবেদনশীল। ওদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়। বিস্তারিত আলোচনা করা যায়। হ্যাঁ, বিশ্বাস অর্জন করতে কিছুটা সময় লাগে। আমি সবে কাজ শুরু করেছি। হরলীনের জন্য একটু কঠিন ছিল সিদ্ধান্তটা। তবে জানতাম ও ঠিক বেরিয়ে আসতে পারবে। এই সিদ্ধান্তগুলো খুব মজার হয়। বেশ চ্যালেঞ্জিংও। আমাকেও তো পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ব্যাপারটা সহজ নয়। একটু অন্য ভাবে হলেও এগুলো আমাকে আইপিএলের জন্য তৈরি করে দিচ্ছে।’’ উল্লেখ্য, আগামী আইপিএলে নায়ারকে কেকেআরের প্রধান কোচ হিসাবে দেখা যাবে।
হরলীন এবং নায়ার দু’জনেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বুধবারের রিটায়ার্ড আউট নিয়ে নানা আলোচনা হলেও দলের মধ্যে কোনও বিতর্ক বা সমস্যা নেই। দলের স্বার্থে যেটা ভাল মনে হচ্ছে, সেটাই করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। ফলাফল সব সময় পক্ষে না এলেও এই পদ্ধতির মধ্যেই থাকতে চান নায়ার এবং তাঁর ক্রিকেটারেরা।