India Bangladesh Relation

ভারত থেকে আরও জ্বালানি তেল চান তারেক! চুক্তি বহির্ভূত আমদানির জন্য দিল্লিকে চিঠি, কথা পাকিস্তানের সঙ্গেও

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির জোগানে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সর্বত্র। ভারতের বাজারেও খনিজ তেল, এলপিজি-র সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তার মাঝে আরও তেল চাইল বাংলাদেশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ২২:৫৪
(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভারত থেকে আরও জ্বালানি তেল আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ। সেই অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা থেকে বুধবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নয়াদিল্লিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনও দিল্লি তার কোনও উত্তর দেয়নি। আদৌ বাড়তি জোগানের অনুরোধ রাখা হবে কি না, হলে কতটা জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পাঠানো হবে, তা স্পষ্ট নয়।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির জোগানে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সর্বত্র। ভারতের বাজারেও খনিজ তেল, এলপিজি-র সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বুধবারই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ফলে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে যতটা সম্ভব জ্বালানি অপচয় বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র। ভারতের কাছ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল কেনে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজ়েল নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের পাঠানোর কথা। উদ্বেগের মাঝেও পাঁচ হাজার টন ডিজ়েল বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। মঙ্গলবারই সেই সিদ্ধান্তের কথা জানা গিয়েছে। তবে ওই পাঁচ হাজার টন ছিল চুক্তির অন্তর্গত। এ বার চুক্তির বাইরেও তেল চাইছে ঢাকা।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির জোগানে টান পড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তারেক রহমানের সরকার। ভারতকে চিঠি প্রসঙ্গে সে দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘‘আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কতটা বাড়বে, তা ভারতই ঠিক করবে।’’ এর আগে ইকবালের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয়কুমার বর্মা বৈঠক করেছিলেন। ভারতের বিদ্যুৎ এবং ভারত হয়ে নেপালের যে বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পৌঁছোয়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও কথা বলেছে বাংলাদেশ। বুধবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও মজবুত করার কথা বলেছেন। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। তারেকের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পরেও তাতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তবে ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা তারেক কিছুটা হলেও সামলেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement
আরও পড়ুন