রিয়ান পরাগ। —ফাইল চিত্র।
ইঙ্গিত ছিল নির্বাসনের। কিন্তু আপাতত তা হচ্ছে না রিয়ান পরাগের। নির্বাসনের শাস্তি থেকে বেঁচেছেন তিনি। তবে সাজঘরে ধূমপান করায় জরিমানা হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ককে সতর্ক করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
পরাগের ম্যাচ ফি-র ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। ১৪ কোটি টাকায় তাঁকে ধরে রেখেছে রাজস্থান। সুতরাং, প্রতি ম্যাচে তিনি ১ কোটি টাকা করে পান। তার ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ, ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে পরাগকে। টাকার অঙ্কে এই জরিমানা মোটেই কম নয়।
‘ক্রিকবাজ়’ জানিয়েছে, আইপিএলের নিয়মের ২.২১ ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়েছে পরাগকে। এই ধারা অনুযায়ী, ক্রিকেট খেলার মানহানির জন্য শাস্তি দেওয়া হয় ক্রিকেটারদের। পরাগের ধূমপানকে সেই ধারার মধ্যে রাখা হয়েছে। তাঁকে সতর্কও করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও ভুল করলে নির্বাসনের শাস্তি পেতে হতে পারে তাঁকে।
ইতিমধ্যেই রাজস্তান রয়্যালস ও পরাগকে নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরাগ চাইলে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারেন। তবে জানা গিয়েছে, শাস্তি মেনে নিয়েছেন তিনি। আর বিতর্ক বাড়াতে চাইছেন না পরাগ।
পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে রাজস্থানের ইনিংসের ১৬তম ওভারে ঘটনাটি ঘটেছে। সেই সময়ে ক্যামেরা তাক করা হয়েছিল রাজস্থানের সাজঘরের দিকে। হাতে একটি যন্ত্র নিয়ে মুখের সামনে ধরেন রিয়ান। সেই সময়েই তাঁর সামনে এসে পড়েন যশস্বী জয়সওয়াল। তিনি সরে যেতে দেখা যায়, পরাগের মুখ থেকে ধোঁয়া বার হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, ই-সিগারেট জাতীয় কিছু সেবন করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ই-সিগারেট ভারতে নিষিদ্ধ। কেউ সেবন করতে তিনি জেলেও যেতে পারেন।
শুধু তাই নয়, সাজঘর-সহ স্টেডিয়ামের আশেপাশের এলাকায় ধূমপান পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে ধূমপান করা যায়। বোর্ডের এক সূত্র আগেই বলেছিল, “ই-সিগারেট ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে কারণও রয়েছে। শরীরের ভেতরে কী কী উপাদান যাচ্ছে তা কেউ জানে না। খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য একেবারেই এই সিগারেট সেবন করা উচিত নয়। মনে হয় না এ ধরনের ঘটনাকে বোর্ড খুব হালকা ভাবে নেবে।”
ক্যামেরা সাজঘরে দিকে তাক করা নিয়ে অবশ্য বেশ কিছু অধিনায়ক বিরক্ত। আইপিএলের আগে সব দলের অধিনায়কদের নিয়ে বৈঠক করে বোর্ড। এ বার সেই বৈঠকে অনেক ক্রিকেটারই আপত্তি করেছিলেন ক্যামেরা দিয়ে সাজঘর দেখানোর ব্যাপারে। ওই সূত্র বলেছিল, “ই-সিগারেট খাওয়ার জন্য বিরোধিতা করা হয়নি। ক্রিকেটারেরা চেয়েছিল গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকুক। অনেক সময়েই সাজঘরে ক্রিকেটারেরা পুরো পোশাক পরে থাকে না অথবা ক্যামেরার আড়ালে থাকতে চায়।”
ওই সূত্রের সংযোজন, “ওদের বোর্ড বলে দিয়েছিল, বিষয়টা পুরোপুরি সম্প্রচারকারী সংস্থার উপর নির্ভরশীল। ক্যামেরা কোথায় থাকবে বা সাজঘরের ভিডিয়ো দেখানো হবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বোর্ড। এই ঘটনার পর হয়তো বিষয়টা বদলাবে। তবু বলা যায়, পরাগ খুবই খারাপ কাজ করেছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভাবনা কম। ওর মতো মাপের ক্রিকেটারের ধূমপান করতে গিয়ে ধরা পড়া মোটেই ভাল বিজ্ঞাপন নয়।” সেটাই হল। শাস্তি পেলেন পরাগ।