Donald Trump on West Asia War

আক্রমণ করার মতো আর কিছু বাকি নেই ইরানে! যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প, আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতি কতটা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানে আর আক্রমণ করার মতো কিছু বাকি নেই। ফলে যুদ্ধ শীঘ্রই থামতে চলেছে। তিনি যখন চাইবেন, তখনই যুদ্ধ থামাতে পারবেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ২২:১২
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ফোনে তিনি জানিয়েছেন, ইরানে আর আক্রমণ করার মতো কিছু বাকি নেই। ফলে যুদ্ধ শীঘ্রই থামতে চলেছে। তিনি যখন চাইবেন, তখনই যুদ্ধ থামাতে পারবেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। যদিও ইরান বা ইজ়রায়েলের আচরণে যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

Advertisement

পাঁচ মিনিটের ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘ইরানে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে। আমি যখনই চাইব যুদ্ধ শেষ হবে। ওখানে আর আক্রমণ করার মতো কিছু বাকি নেই।’’ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘‘যুদ্ধ খুব ভাল চলছে। আমরা সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে আছি। যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পেরেছি।’’ ইরান তাদের কৃতকর্মের ফল ভুগছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিম এশিয়ার বাকি দেশগুলোর পিছনেও ওরা পড়েছিল। ৪৭ বছর ধরে ওই এলাকায় ওরা ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। তার মূল্য দিতে হচ্ছে এখন। এত সহজে ওরা মুক্তি পাবে না।’’

হরমুজ় প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজগুলিকে নিশানা করছে ইরান। বুধবারও তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তেলের দাম আরও বাড়বে। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জ়োলফাকারি বলেছেন, ‘‘তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার টাকা) হতে চলেছে। হরমুজ়ে আরও তিনটি জাহাজ আক্রমণ করা হয়েছে। তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর নির্ভর করে। সেটা তোমরাই তছনছ করে দিয়েছ।’’ মার্কিন ও ইজ়রায়েলি বাহিনীকে নিশানা করেই তিনি এ কথা বলেছেন। ট্রাম্পের পাল্টা দাবি, মঙ্গলবারই হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের মাইন পাতার ১৬টি নৌকো ধ্বংস হয়েছে মার্কিন হামলায়।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। এখনও পর্যন্ত ছ’জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। তা ছাড়া, যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ১৭টি সামরিক বা অসামরিক মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স। ইরান সেগুলিতে এক বা একাধিক আঘাত করেছে। উপগ্রহচিত্র, যাচাই করা সমাজমাধ্যমের ভিডিয়ো এবং মার্কিন আধিকারিক ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এই ১৭টি জায়গা নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ১১টি আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি। এ ছাড়া, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ কাঠামোও রয়েছে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায়। জর্ডনের বায়ুসেনা ঘাঁটি, বাহরিনে মার্কিন নৌসেনার সদর দফতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাই, কুয়েত, সৌদি আরবের কিছু অসামরিক মার্কিন ঘাঁটিকেও নিশানা করেছে ইরান। বোমা পড়েছে মার্কিন দূতাবাসে।

Advertisement
আরও পড়ুন