শ্রেয়স আয়ার। —ফাইল চিত্র।
ভারতীয় দলের হয়েছে কী? পর পর দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী দল কেন এত খারাপ খেলছে? আরও এক হারের সাক্ষী থাকলেন ভারতীয় সমর্থকেরা। অধিনায়ক হিসাবে এর থেকে খারাপ শুরু হতে পারত না শ্রেয়স আয়ারের। হারের হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। বৈভব সূর্যবংশীর ভারতীয় দলে অভিষেকও ভাল হল না। রান পেল না সে। সব মিলিয়ে গৌতম গম্ভীরের চিন্তা বেড়েই চলেছে।
প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান করেছিল ভারত। সেই রান তাড়া করতে খুব একটা অসুবিধা হল না ইংল্যান্ডের। আরও এক বার তাদের জয়ের নায়ক জেকেব বেথেল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শতরান করেও ভারতের বিরুদ্ধে দলকে জেতাতে পারেননি বেথেল। এই ম্যাচে তিনি করে দেখালেন।
আয়ারল্যান্ড সিরিজ়ে ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বৈভবকে না খেলানোয় সমালোচনা হয়েছিল গম্ভীরের। এই ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের বদলে বৈভবকে সুযোগ দিলেন তিনি। কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে বৈভব সুযোগ পেলেও প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ সে। শুরুটা খারাপ করেনি বৈভব। জফ্রা আর্চার ও জশ টংয়ের বলে দু’টি ছক্কা মারে। কিন্তু স্পিনার উইল জ্যাকসের বলে ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হয় সে। ১০ বলে ১৪ রান করে বৈভব।
অপর ওপেনার অভিষেক শর্মা এই ম্যাচেও রান করেছেন। বৈভব আউট হওয়ার পর তিনিই দলের রানের বাড়িয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু অর্ধশতরানের আগে স্যাম কারেনের বলে বড় শট মারতে গিয়ে ২৪ বলে ৪৩ রান করে আউঠ হলেন তিনি।
রান পেয়েছেন ঈশান কিশন ও শ্রেয়স। কিন্তু কেউ লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। তার একটাই কারণ। প্রতি বলে বড় শট মারার চেষ্টা। ম্যাঞ্চেস্টারের মাঠের এক দিকের বাউন্ডারি বড় ছিল। তা কাজে লাগালেন ইংরেজ বোলারেরা। ভারতীয় ব্যাটারদের তাঁরা বাধ্য করলেন সে দিকে খেলতে। ফলে উইকেটও এল। ঈশান ৪৯ ও শ্রেয়স ৩৭ রান করেন।
গত চারটি ম্যাচে ভারতের নীচের সারির ব্যাটারের রান পাননি। এই ম্যাচেও তা দেখা গেল। একমাত্র তিলক বর্মা ১১ বলে ২৪ রান করেন। শিবম দুবে, অক্ষর পটেল রান পাননি। ফলে একটা সময় যে রানরেট ১০-এর বেশি ছিল, তা শেষ দিকে কমে গেল। হার্দিক পাণ্ড্য না থাকায় অতিরিক্ত বোলার খেলাতে গিয়ে ভারতের ব্যাটিং আক্রমণ কিছুটা দুর্বল হচ্ছে। তার খেসারতও দিতে হচ্ছে।
১৯১ রান তাড়া করা খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু অর্শদীপ সিংহ প্রথম ওভারেই ইংল্যান্ডকে জোড়া ধাক্কা দেন। দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলারকে শূন্য রানে ফেরান তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে আবার লড়াইয়ে ফেরান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তাঁর ১৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডের উপর থেকে চাপ কমিয়ে দিল।
ভারত যে কাজটা করতে পারেনি, ইংল্যান্ড সেটাই করে দেখাল। জুটি বাঁধলেন ইংরেজ ব্যাটারেরা। বেথেল ম্যাচ জেতালেও ব্রুক ও টম ব্যান্টনের অবদান কম নয়। ব্যান্টনও ৩৯ রান করেন। ভারতীয় বোলারেরার আবার মাঝের ওভারে উইকেট তুলতে পারলেন না। তার খেসারত দিতে হল। শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট পড়লেও তত ক্ষণে জয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছে ইংল্যান্ড।
৪৬ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত থাকলেন বেথেল। ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে শেষ দিকে হাত খুললেন তিনি। তাঁকে থামাতে পারলেন না কেউ। তার খেসারত দিতে হল দলকে। এক ওভার বাকি থাকতে জিতে গেল ইংল্যান্ডে। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে ১-০ এগোল ইংল্যান্ড। ভারতকে সিরিজ় জিততে হলে পরের তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। কিন্তু শ্রেয়সেরা যে ভাবে খেলছেন, তাতে আশা কম। অধিনায়ক হিসাবে নিজের প্রথম দুই সিরিজ় হারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে শ্রেয়সের সামনে।