ICC T20 World Cup 2026

ছোট হলেও ‘দুর্বল’ নই! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল নেপাল, ইটালি, নেদারল্যান্ডসরা কেন এই দাপট সদস্য দেশগুলির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কমজোরি দেশগুলোর দাপট নজর কেড়েছে। জ়িম্বাবোয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার তো রয়েছেই। নেপাল, নেদারল্যান্ডস, ইটালিরা বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের হেলাফেলা করা যাবে না।

Advertisement
অভীক রায়
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০০
cricket

(বাঁ দিক থেকে) রোহিত পৌড়েল, যুবরাজ সামরা, জাস্টিন মস্কা এবং স্কট এডয়ার্ডস। — ফাইল চিত্র।

হাতে বল নিয়ে ইংল্যান্ডের স্যাম কারেন তখন তৈরি হচ্ছেন। জ়িম্বাবোয়ের লোকেশ বামের মুখ দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছিল, উত্তেজনায় ফুটছেন। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দেশবাসীর গর্জনের সামনে ইতিহাস লেখার সুযোগ সকলের হয় না। অল্পের জন্য লোকেশ আর নেপালের স্বপ্ন সে দিন পূরণ হয়নি। তবে ভুল করেননি ব্র্যাড ইভান্স। ম্যাথু কুনেম্যানকে রান আউট করার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছিল তাঁর জ়িম্বাবোয়ে।

Advertisement

এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রমাণ করে দিয়েছে, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে আর দুর্বল বা কমজোরি দল বলে কিছু নেই। ডেভিড বনাম গোলিয়াথ লড়াই শুধু খাতায়-কলমেই। ডেভিডরা নিজের দিনে যে কোনও গোলিয়াথকে হারিয়ে দিতে পারে। চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারে। সাধেই কি আর নামিবিয়ার অধিনায়ক জেরার্ড ইরাসমাস দাবি করেছেন, তাঁদের নামের পাশ থেকে ‘সদস্য দেশ’ এবং ‘দুর্বল’ শব্দগুলি মুছে দিতে।

শাসনের শুরু প্রথম সপ্তাহেই

যে প্রতিযোগিতায় ১০টি সদস্য দেশ রয়েছে, সেখানে নেপাল, আমেরিকা এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলি এমন পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, যা ক্রিকেটবিশ্বের তথাকথিত শক্তিশালী দেশের সঙ্গে তাদের বিভেদরেখা মুছে দিতে যথেষ্ট। নেপাল ইংল্যান্ডকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল। আমেরিকা যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিল ভারতকে। নেদারল্যান্ডস এবং পাকিস্তানের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিল স্রেফ একটি ক্যাচ মিস্‌। তখনও কেউ জানতেন না চমক বাকি আছে। জ়িম্বাবোয়ের কাছে ১৯ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার হার গড়েছে নতুন ইতিহাস। জ়িম্বাবোয়ের জয়ের পর সিকান্দার রাজ়া বলেছিলেন, “আমরা চাই মানুষ এ বার আমাদের নিয়ে কথা বলুক। আইসিসি-র প্রতিযোগিতা জীবন বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখানেই আপনি স্বীকৃতি, অর্থ, সম্মান পান।” সে দেশের বোর্ডের কর্তা গিভমোর ম্যাকোনি বলেছেন, “এই সাফল্য কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং নির্দিষ্ট এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ফসল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্দিষ্ট বিনিয়োগ আমাদের পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করেছে, প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে এবং দেখিয়ে দিয়েছে জ়িম্বাবোয়ে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।”

নেপালের সমর্থকেরা।

নেপালের সমর্থকেরা। ছবি: পিটিআই।

মুখ লুকোচ্ছেন সমালোচকেরা

প্রতিযোগিতার সূচি যখন ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন ১০টি সদস্য দেশ থাকবে জেনে অনেকেই নাক কুঁচকেছিলেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞেরাও ধরে নিয়েছিলেন, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি স্রেফ নিয়মরক্ষার হবে। এক একটা ম্যাচে নাকি ২৫০-৩০০ করে রান হবে। সেই সঙ্গে হবে নাকি একগুচ্ছ বিশ্বরেকর্ড। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে ম্যাচগুলি হবে ‘আসল’ প্রতিযোগিতা শুরুর আগে বড় দলগুলির কাছে অনুশীলন। কোন ম্যাচে কে জিতবে, নির্ণয় করা হয়েছিল আগেই। কিন্তু তথাকথিত দুর্বল দেশগুলি সব বাধার ঊর্ধ্বে উঠে সাহসী লড়াই করেছে। নেপাল-ইংল্যান্ড লড়াই কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল না। প্রতিটি বলে ছিল উত্তেজনা। আমেরিকাও তেমনই ভারতকে ‘৩০০’ রান তুলতে দেয়নি। ৭৭ রানে সূর্যকুমার যাদবদের ৬টি উইকেট ফেলে দিয়েছিল। প্রথম কয়েকটি ম্যাচই গোটা বিশ্বকাপকে জাগিয়ে তুলেছিল। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলিতে কে কোন দিন হেরে যাবে কেউ বুঝতে পারছিল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, কেন বিশ্বব্যাপী একটি প্রতিযোগিতা হওয়া দরকার, যেখানে ছোটরাও বড়দের হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এডেন মার্করাম বলেছেন, “গত দু’বছরে সদস্য দেশগুলোর পারফরম্যান্স আমাদের প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ওরা বড় মঞ্চে ভাল ক্রিকেট খেলার সাহস পাচ্ছে। কাউকে ভয় পাচ্ছে না।”

টি-টোয়েন্টি বলেই কি এত উত্তেজক?

প্রশ্ন উঠতে পারে, ফরম্যাট এত ছোট বলেই কি কমজোরি দেশগুলির দাপাদাপি? একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ২০ ওভারের ক্রিকেটে যে কোনও দিন একটি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যে কোনও দলকে হারিয়ে বা জিতিয়ে দিতে পারে। কোনও ব্যাটার ৩৫ বলে ৭০ রান করে হারের মুখ থেকে দলকে জেতাতে পারেন বা খেলার গতিপ্রকৃতিই বদলে দিতে পারেন। আবার বল হাতে এক ওভারে তিনটি বা চারটি উইকেট ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। ক্রিকেটের প্রথাগত ফরম্যাটে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। টেস্টে পাঁচ দিন ধরে প্রতিভা এবং ধৈর্য দেখাতে হয়। এক দিনের ক্রিকেটে বিপর্যয় সামলানোর জন্য হাতে ৫০টি ওভার থাকে। টি-টোয়েন্টির মতো উত্থান-পতন বাকি দুই ফরম্যাটে নেই। চারটি খারাপ ওভার ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলার ক্রিকেটার অনুষ্টুপ মজুমদার বললেন, “টি-টোয়েন্টি এমন একটা ফরম্যাট, যেখানে দক্ষতার থেকেও বেশি দরকার শক্তি। কোনও দিন কোনও ক্রিকেটারের ব্যাটে বল ঠিকঠাক লাগতে থাকলে, সে ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ছোট ফরম্যাট হওয়ায় অল্প রান বা উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জেতাও সহজ।”

বিশ্ব জুড়ে খেলে পরিচয় তৈরির চেষ্টা

অতীতে ছোট দেশগুলির সঙ্গে বড় দেশগুলির খেলার সুযোগ সে ভাবে তৈরি হত না। এমনকি বিশ্বপর্যায়ের ক্রিকেটেও তারা সে ভাবে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেত না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দু’বছর অন্তর হয়ে যাওয়ায় সুযোগ অনেকটাই বেড়েছে। তার থেকেও বড় ভূমিকা নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ক্রিকেট। আইপিএলের মতো গোটা বিশ্বের সব ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি লিগ এত জাঁকজমকপূর্ণ নয়। সব লিগে নামীদামি ক্রিকেটারেরা খেলেনও না। সদস্য দেশগুলির ক্রিকেটারেরা এই সব লিগে খেলেই নিজেদের একটি পরিচিতি তৈরি করে নিয়েছেন। যেমন আমেরিকার মেজর লিগ ক্রিকেট, নেপাল প্রিমিয়ার লিগ, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সদস্য দেশগুলির অনেক ক্রিকেটার খেলেন। চাপের মুখে ব্যাটিং, বোলিং এখান থেকেই শিখে গিয়েছেন। ফলে বড় মঞ্চে দেশের জার্সিতে নামলে আর অসুবিধা হয় না। বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার শরদিন্দু মুখোপাধ্যায় আবার কৃতিত্ব দিয়েছেন আইসিসি-কে। তিনি বলেছেন, “ছোট দলগুলোর উত্থানের নেপথ্যে আইসিসি ও ভারতীয় বোর্ডেরও বড় ভূমিকা আছে। এখন আইসিসি ওদের অনেক বেশি টাকা দিচ্ছে। আগে এ সব দেশের ক্রিকেটারেরা সারা বছর খেলত না। কিন্তু এখন সারা বছর বিভিন্ন দেশের লিগে ওরা খেলে। যেমন নেপালের ক্রিকেটারেরা ইউপি, বিহার, দিল্লির লিগে খেলে বেড়ায়। ফলে ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিতি অনেকে বাড়ছে। এরা সকলেই কোনও বড় ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা ধরে নিয়ে খেলে। বিভিন্ন লিগে খেলার সময় আদর্শদের সঙ্গে দেখা করা, কথা বলার সময় পাচ্ছে। তাই অভিজ্ঞতা বাড়ছে। তাই চার বছর পর পর নেমে হেরে দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপার আর নেই। এরা নামে ভাল খেলার জন্য।”

ইটালি ক্রিকেট দল।

ইটালি ক্রিকেট দল। ছবি: পিটিআই।

বহিরাগত ক্রিকেটারদের ভিড়

১০টি সদস্য দেশের অধিকাংশই নিজেদের দলেই একাধিক বহিরাগত ক্রিকেটার রেখেছে। অর্থাৎ যাঁদের জন্ম অন্য দেশে। এঁদের মধ্যে বেশির ভাগই উপমহাদেশীয়, অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের ক্রিকেটার। ভারত এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটারের সংখ্যাই বেশি। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা নিজের দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। তবে দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে সুযোগ না পেয়ে অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমেরিকার সৌরভ নেত্রাভালকর, হরমীত সিংহ, কানাডার দিলপ্রীত বাজওয়া, নবনীত ধালিওয়াল, অংশ পটেল, ওমানের যতীন্দর সিংহ, আমিরশাহির শোয়েব খান, আলিশান ঘরাফু, আর্যাংশ শর্মা, ইটালির জসপ্রীত সিংহেরা প্রতি ম্যাচেই নিজের দেশের হয়ে সেরাটা দিয়েছেন। আমেরিকার শুভম রঞ্জনে যেমন মুম্বইয়ের হয়ে সূর্যকুমারের সঙ্গে খেলেছেন। ইটালির গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট ক্রিকেটজীবনের বেশিটা কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডে। নেদারল্যান্ডসের রোয়েলফ ফান ডার মারউই বা আমেরিকার আন্দ্রিয়েস গৌস ক্রিকেট খেলেছেন ফাফ ডুপ্লেসি, এবি ডিভিলিয়ার্সের সঙ্গে।

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল বললেন, “ভারতীয় বা পাকিস্তানি ক্রিকেটারেরা অন্য দেশকে সাফল্য দিলে তাতে তো অন্যায়ের কিছু নেই। এতে তো ক্রিকেটেরই লাভ। ফুটবলেও দেখুন, ফ্রান্স বা বেলজিয়ামের মতো দলে আফ্রিকার প্রচুর ফুটবলার খেলে। ওদের তো কখনও কিছু বলা হয় না?” একই প্রসঙ্গে অনুষ্টুপ বলেছেন, “আমরা ছোট থেকে পাড়ার মাঠে ক্রিকেট খেলে বড় হয়েছি। কত স্তরে ক্রিকেট খেলেছি। যে ক’টা দেশে গিয়েছি কোথাও এ রকম ক্রিকেট সংস্কৃতি দেখিনি। নিউ জ়িল্যান্ডের মতো দেশেও রাগবি বা ফুটবল নিয়ে যে মাতামাতি হয় তা ক্রিকেট নিয়ে হয় না। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের দেশের সব ক্রিকেটার যে ভারতের জার্সি গায়ে চাপাবে তা সম্ভব নয়। তারা তো অন্য দেশের হয়ে খেলতেই পারে।” পিছিয়ে নেই কোচেরাও। নেপালকে কোচিং করাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তনী স্টুয়ার্ট ল। নামিবিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন গ্যারি কার্স্টেন। আমিরশাহির সঙ্গে রয়েছেন লালচাঁদ রাজপুত। এঁদের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগছে।

নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল।

নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দল। ছবি: পিটিআই।

ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে অনুপ্রেরণা

ফুটবল বিশ্বকাপে গত কয়েক দশক ধরে যা দেখা যাচ্ছে, ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাম্প্রতিক কালে সেই ধারাই শুরু হয়েছে। ১৯৯০-এ অখ্যাত ক্যামেরুনের কাছে হেরেছিল ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা। সেই শুরু। এর পর ২০০২-এ সেনেগালের কাছে ফ্রান্সের হার, ২০১৮-য় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে জার্মানির ছিটকে যাওয়া, ২০২২-এ সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার বুঝিয়েছে, বিশ্বপর্যায়ে কোনও দেশকেই আর হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ক্রিকেটেও ঠিক তাই-ই হচ্ছে। তবে ফুটবলের থেকেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বেশি অঘটনপ্রবণ। ফুটবলে ছোট দল কোনও মতে ১-০ এগিয়ে গেলে গোটা দলকে এসে রক্ষণ করে ম্যাচ বাঁচাতে হয়। তাতেও সব সময় সাফল্য মেলে না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট দলের ব্যাটারের একটি ৭০-৮০ রানের ইনিংস অথবা বোলারের দু’ওভারে চারটি উইকেট ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে।

শিবশঙ্করও ফুটবলের উদাহরণই টেনে এনেছেন। বলেছেন, “ফুটবলে তো এখন আকছার অঘটন দেখা যাচ্ছে। আসলে ছোট দেশগুলো এখন অনেক বেশি খেলার সুযোগ পাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, ছোট এবং বড় দেশের ব্যবধান মুছে যাচ্ছে। ক্রিকেটে আগে এই জিনিস ছিল না। এখন বেশি দেশ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই ছোট দেশগুলো যতটা পারছে নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করছে।”

যোগ্যতা অর্জন পর্বের কঠিন লড়াই

পূর্ণ সদস্য দেশগুলি সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। তবে সদস্য দেশগুলিকে যোগ্যতা অর্জন করে, ঘাম ঝরিয়ে বিশ্বকাপে আসতে হয়েছে। যেমন ইটালি হারিয়েছে স্কটল্যান্ডের মতো দেশকে। যোগ্যতা অর্জনের অনেক ম্যাচেই উত্তেজনা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গিয়েছে। তা খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে সেরাটা বার করে আনতে সাহায্য করেছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, মুহূর্তের ভুল তাঁদের নিশ্চিত রোজগার এবং সারাজীবনের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত করতে পারে। এই লড়াকু মনোভাব দেখা গিয়েছে মূলপর্বেও। বড় দেশগুলির বাঘা বাঘা ক্রিকেটারকে দেখেও দমে যাচ্ছেন না সদস্য দেশগুলির ক্রিকেটারেরা।

আমেরিকা ক্রিকেট দল।

আমেরিকা ক্রিকেট দল। ছবি: পিটিআই।

অঘটনের অতীত উদাহরণ

গত বারের টি২০ বিশ্বকাপে অঘটনের ম্যাচ ছিল পাকিস্তান বনাম আমেরিকার। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ১৫৯/৭ তুলেছিল। জবাবে মোনাঙ্ক পটেল, অ্যারন জোন্সদের দাপটে একই রান তোলে আমেরিকা। সুপার ওভারে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৯। তা তুলতে পারেননি সলমন আঘারা। ছোট দলের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারের নজির আগেও আছে। গত বার তারা হেরেছিল আফগানিস্তানের কাছে। আফগানিস্তানের ১৪৮ তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই পর পর কয়েকটি উইকেট হারায়, যেমনটি হয়েছে জ়িম্বাবোয়ে ম্যাচেও। বল হাতে গুলবাদিন নইব এবং নবীন উল হক জিতিয়ে দেন আফগানদের। এ বারের বিশ্বকাপে অঘটন ঘটাতে পারেনি নামিবিয়া। তবে চার বছর আগে শুরুতেই অঘটন ঘটিয়েছিল তারা। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল ৫৫ রানে।

এ বার তা হলে কী?

নেপাল, আমেরিকা, ইটালির মন ভরানো ক্রিকেট কি শুধু বিশ্বকাপেই দেখা যাবে? না কি ঘন ঘন দেখার সুযোগ মিলবে? তার জন্য শুধু আইসিসি নয়, এগিয়ে আসতে হবে বড় দেশগুলিকেও। নিশ্চিত করতে হবে যাতে সদস্য দেশগুলির সঙ্গে বছরে অন্তত দু’টি বা তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলা যায়। অর্থলাভ না হলেও, খেলার সৌন্দর্য এবং প্রতিযোগিতা বাড়াতে হয়তো এই পদক্ষেপ জরুরি। সুনীল গাওস্কর দু’-একটি দুর্বলতাও ধরিয়ে দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। তিনি নিজের কলামে লিখেছেন, “ওদের ক্যাচিং আরও ভাল হতে হবে। বিশেষ করে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে। হয়তো এই জায়গাতেই ওদের হাত থেকে ম্যাচ ছিটকে যায় এবং অভিজ্ঞ দেশগুলি পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে নেয়।” দ্বিতীয় দুর্বলতা নিয়ে গাওস্কর লিখেছেন, “মানসিকতা আর একটা চিন্তার জায়গা। বড় শট মেরে ম্যাচ জিতিয়ে বিখ্যাত হতে যাওয়ার বাসনা থেকে অনেকেই আউট হয়ে যায়। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং হয়তো জিতিয়ে দিতে পারত। লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের উচিত আরও বেশি স্ট্রাইক অভিজ্ঞ ব্যাটারকে দেওয়া।”

গাওস্করের পরামর্শ নিশ্চিত ভাবেই মাথায় রাখবে সদস্য দেশগুলি। দু’বছর পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের সময় হয়তো দেখা যাবে আরও অঘটন।

Advertisement
আরও পড়ুন