দুর্ভেদ্য: এমবাপের শট আটকানোর মুহূর্তে নয়্যার। ছবি: গেটি ইমেজেস।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
রিয়াল ১-বায়ার্ন মিউনিখ ২
স্পোর্টিং ০-আর্সেনাল ১
রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বায়ার্ন মিউনিখ দ্বৈরথে নজর ছিল দু’জনের উপরে— হ্যারি কেন এবং কিলিয়ান এমবাপে। কারণ দু’জনেই চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন। হ্যারি এবং এমবাপে দু’জনেই গোল করলেন। প্রথম জনের দল সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ২-১ হারাল রিয়াল মাদ্রিদকে। মঙ্গলবার রাতে তাঁরা কেউই নায়ক নন, ন’টি সেভ করে যাবতীয় চর্চার কেন্দ্রে ৪০ বছরের ‘তরুণ’ ম্যানুয়েল নয়্যার।
রিয়ালের দুই প্রান্ত থেকে ভিনিশিয়াস জুনিয়র এবং এমবাপের পরপর শট আটকালেন নয়্যার। ৭৪ মিনিটে এমবাপে বায়ার্ন গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ততক্ষণে জার্মানির ক্লাব লুইস দিয়াস এবং হ্যারি কেনের সৌজন্যে দু’গোলে এগিয়ে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, রিয়ালের ঘরের মাঠে মোট ন’বার নিশ্চিত দলের পতন রোধ করেছেন নয়্যার। তার মধ্যে এমবাপে-ভিনি জুটিই নিয়েছিল ছয়টি শট। সমাজমাধ্যমে কেউ কেউ নয়্যারকে জাতীয় দলে ফেরানোর আর্জিও জানাচ্ছেন। তবে শুধু নয়্যারের কৃতিত্বই নয়, ভিনিরা বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো যে সব সুযোগ নষ্ট করেছেন তার কোনও ক্ষমা হয় না।
নয়্যারে মুগ্ধ বায়ার্নের ম্যানেজার ভিনসেন্ট কোম্পানি ম্যাচের পরে বলেছেন, “আমি প্রত্যেক দিন অনুশীলনে নয়্যারকে দেখে আপ্লুত হই। এই বয়সেও ওর মানসিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। এখনও প্রত্যেক দিন নিজেকে সেরা জায়াগায় নিয়ে যেতে যে ভাবে পরিশ্রম করে, তাতেই নয়্যারের মানসিকতা বোঝা যায়।” তবে কি নয়্যারই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেরা গোলরক্ষক? বায়ার্নের ম্যানেজারের কথায়, “থিবো কুর্তোয়াকেও আমি বেশ পছন্দ করি। দু’জনের মধ্যে তুলনা করতে চাই না। নয়্যার ধারবাহিকভাবে দলকে ভরসা জুগিয়ে আসছে।”
গত পাঁচ মরসুমের মধ্যে মঙ্গলবারই এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি শট বাঁচিয়েছেন নয়্যার। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট পর্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে দশটি সেভ করেছিলেন। প্রতিপক্ষ শিবিরের আন্দ্রে লুনিন এবং আন্তোনিয়ো রুডিগার বলে দিয়েছেন— নয়্যারই বর্তমানে বায়ার্নের সেরা ফুটবলার।
রিয়ালের সহজাত দক্ষতা পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তন করা, এই কথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন ম্যানেজার আলভারো আরবেলোয়া। হারের দিনেই তিনি হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন, ফিরতি পর্বে মিউনিখে যে দল জিতবে তার নাম রিয়াল মাদ্রিদ। তাঁর কথায়, “এখন থেকেই বলে রাখছি, মিউনিখে যে দল জিতবে তার নাম রিয়াল মাদ্রিদ। আমরা কিন্তু এখনও খেলা থেকে হারিয়ে যাইনি। যে কোনও মাঠে আমাদের জেতার ক্ষমতা রয়েছে।” অন্য দিকে স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে ১-০ জিতেছে আর্সেনাল।