অবৈধ কাঠ পাচার। ফাইল চিত্র।
অবৈধ কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক্টর আটক করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বন বিভাগের কর্মীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে বুদবুদের চাকতেঁতুলে। এই ঘটনায় পাঁচ জনের নামে বুদবুদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বন বিভাগ। পুলিশ জানায়, তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাঠ বোঝাই ট্রাক্টরটি আটক করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে পানাগড় রেঞ্জের কসবা বিটের বনকর্মীদের কাছে খবর আসে, রণডিহার দিক থেকে একটি ট্রাক্টরে সরকারি জায়গার গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। সেইমতো কসবা বিটের আধিকারিক সুজন মণ্ডল কয়েক জন বনকর্মীকে নিয়ে চাকতেঁতুলের দিকে যান। সুজন জানান, তাঁরা ট্রাক্টরটি আটকাতে যান। ট্রাক্টর চালকের কাছে গাছ কাটার অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে, তিনি নানা টালবাহানা করতে থাকেন। ইতিমধ্যে চালক ট্রাক্টরটি কোনওমতে বার করে চাকতেঁতুলের একটি কাঠকলের ভিতরে নিয়ে যান। ধাওয়া করে পৌঁছন বনকর্মীরাও। সুজনের অভিযোগ, এর পরেই কাঠকলের কর্মীরা ও মালিক-সহ কয়েক জন তাঁদের উপরে চড়াও হয়। প্রথমে গালিগালাজ, এর পরে মারধর শুরু হয়।
সুজন জানান, তিনি কোনওমতে সেখান থেকে বেরিয়ে বন বিভাগের পানাগড় রেঞ্জ ও বুদবুদ থানায় খবর দেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমাদের তিন বন সহায়ককে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে সকলকে উদ্ধার করা হয়।’’ ঘটনার খবর পেয়ে বন বিভাগের পানাগড় রেঞ্জের আধিকারিক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে আসেন। বুদবুদ থানায় অভিযোগ করা হয়।
বন বিভাগের পানাগড় রেঞ্জের আধিকারিক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ওই কাঠকলের মালিক কৃষ্ণকান্ত ঘোষ, তার ভাই শ্রীকান্ত ঘোষ-সহ পাঁচ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার সকালে ওই কাঠকলে গিয়ে বন বিভাগের আধিকারিকেরা সেটি ‘সিল’ করে দেন। সেখানে থাকা বহু কাঠ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সুদীপ বলেন, ‘‘এই কাঠগুলি বৈধ কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীকান্ত ঘোষ, বাবু মাজি ও বলরাম মাঝি নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে সাত দিন পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।