FIFA World Cup 2026

আনন্দ, উচ্ছ্বাস, আক্ষেপ, হতাশা মেশানো কান্না! স্পেন ম্যাচের নায়ক ভোজ়িনহা অর্থাভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে

স্পেন ম্যাচের পর ভোজ়িনহার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। সমাজমাধ্যমে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩০ লাখ বেড়েছে। ৯০ মিনিটের একটা ম্যাচ বদলে দিয়েছে সব কিছু।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৪:৫১
picture of football

ভোজ়িনহা। ছবি: রয়টার্স।

ইউরোপ সেরা স্পেনকে প্রায় একার হাতে রুখে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে কাবো ভার্দের ভোজ়িনহা। ৪০ বছরের গোলরক্ষককে নিয়ে খোঁজ শুরু হয়ে গিয়েছে ফুটবল বিশ্বের। অন্তত পাঁচ বার দলের নিশ্চিত পতন রুখে দেওয়া ভোজ়িনহা প্রথম বার বিশ্বকাপ খেললেও তাঁর মন ভাল নেই।

Advertisement

ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন সফল হলেও মায়ের আশা পূরণ করতে পারেননি ভোজ়িনহা। বিশ্বকাপ দেখতে আসার ইচ্ছা ছিল তাঁর মায়ের। পরিবারের আরও কয়েক জন গ্যালারিতে বসে তাঁর খেলা দেখতে চেয়েছিলেন। পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলা গোলরক্ষক কারও আশা পূর্ণ করতে পারেননি। কারণ আমেরিকার ভিসা নীতি এবং টাকার অভাব। স্পেনের বিরুদ্ধে নিজেকে উজাড় করে দিয়েও কেঁদে ফেলেন। সেই কান্নায় মিশে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস, আক্ষেপ এবং হতাশা। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমকে ম্যাচের পর ভোজ়িনহা বলেছেন, ‘‘ম্যাচের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ছোট থেকে ঠাকুমা-দাদুর কাছে বড় হয়েছি। আমাকে সব সময় আগলে রাখতেন তাঁরা। অথচ এমন একটা মুহূর্তে তাঁরা আমার সঙ্গে নেই। মা-ও আসতে পারেনি ভিসা সমস্যার জন্য। সকলের ভিসার জন্য যে টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অত টাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি।’’

স্পেন ম্যাচের পর ভোজ়িনহার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছে। সমাজমাধ্যমে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩০ লাখ বেড়েছে। সোমবার পর্যন্ত কাবো ভার্দের ফুটবলপ্রেমীরা ছাড়া যাঁর নাম তেমন কেউ জানতেন না, তিনিই রাতারাতি বিখ্যাত। ৫০ হাজার ফলোয়ার বেড়ে এখন ৩১ লাখ ফলোয়ার তাঁর। ৯০ মিনিটের একটা ম্যাচ বদলে দিয়েছে সব কিছু।

কাবো ভার্দের মিন্ডেলোয় জন্ম নেওয়া ফুটবলার প্রথম থেকেই স্বপ্ন দেখতেন, এক দিন বিশ্বকাপ খেলবেন। ভাবেননি কখনও স্বপ্ন সত্যি হতে পারে। ফুটবলজীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌঁছে বিশ্বকাপে অভিষেক অখ্যাত দেশের অখ্যাত ফুটবলারের। মলডোভা, রোমানিয়া, সাইপ্রাস, পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। ২০১২ সাল থেকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নায়ক। ফিফা তাঁকেই দিয়েছে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার। গোটা ম্যাচে এক বার পরাস্ত হয়েছেন। ফেরান টোরেসের একটি শট বারে লেগেছে। এটা ছাড়া অপ্রতিরোধ্য ছিলেন গোটা ম্যাচে।

বিশ্বের দ্বিতীয় প্রবীণতম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে তাঁর। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৪৫ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মিশরের গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি। দেশের হয়ে ৯০টি ম্যাচ খেলা ভোজ়িনহা থাকলেন তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।

Advertisement
আরও পড়ুন