সাংবাদিক বৈঠকে ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: রয়টার্স।
দায় ঝেড়ে ফেলল ফিফা। বিশ্বকাপের আগে যে যে বিতর্ক হয়েছে তাতে তাদের কোনও ভূমিকা নেই বলে জানিয়ে দিলেন বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে আমেরিকা। সেখানকার অভিবাসন নীতি বা ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে সাংবাদিক বৈঠকে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আয়োজক দেশ নিরাপত্তা বা ভিসার ক্ষেত্রে কী নিয়ম করবে তা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সেখানে ফিফার কিছু বলার নেই। ইনফান্তিনো বলেন, “আমার কথা বিশ্বাস করতে পারেন, বা না-ও করতে পারে। আমরা সব সমস্যার সমাধানের কথাই সব সময় ভেবেছি। কিন্তু আমরা তো বিশ্বের শাসক নই। আয়োজক দেশে নিরাপত্তা বা ভিসা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটা তাদের বিষয়। আমরা ক্রীড়া সংস্থা। আমাদের কাজ খেলা ঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা সেটা দেখা। বাকি বিষয়ে আমাদের হাত বাঁধা।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সোমালিয়ার রেফারি ওমার আর্টানকে ফিফার রেফারিদের তালিকায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমেরিকায় পা রাখার পর তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ওমারের যোগ রয়েছে বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, “ওমারের সঙ্গে যা হয়েছে তা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আলোচনা করতে পারি। মাথা ঠান্ডা রাখুন। আরাম করুন। আমরা দেখছি। কখনও কখনও কোনও ঘটনা নিয়ে চিৎকার বা বিরোধিতা শুরু করলে তার ফল উল্টো হয়ে যায়। আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু আবার বলছি, আমাদের হাতে সব কিছু নেই।”
যেখানে গোটা বিশ্ব আমেরিকার সমালোচনা করছে সেখানে ইনফান্তিনো আরাম করার কথা বলছেন কেন? তবে কি হাত তুলে নিচ্ছে ফিফা। যদিও ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি বাকিদের আরাম করতে বলেছেন। তাঁর সংস্থা কথা বলছে। যে যে সমস্যা হয়েছে তার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এই প্রসঙ্গে বিশ্বকাপে ইরানের খেলার উদাহরণ টেনেছেন তিনি। একটা সময় ইরান বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যস্থতাতেই সমস্যা মিটেছে বলে দাবি ইনফান্তিনোর। তিনি বলেন, “ইরান যে আমেরিকায় খেলতে রাজি হয়েছে, সেটা ফিফার কৃতিত্ব। আমরা দু’দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বুঝিয়েছি, ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। তারা রাজি হয়েছে। বাকি সমস্যারও সমাধান হবে।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইনফান্তিনো বলছেন বটে, কিন্তু ইরান-আমেরিকা সমস্যা এখনও পুরো মেটেনি। ইরানের শিবির আমেরিকা থেকে মেক্সিকোয় স্থানান্তরিত হয়েছে। আমেরিকায় ম্যাচ খেলে এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, তাদের অনেক কর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এমনকি, ইরানের সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ টিকিটও নাকি বাতিল করেছে ফিফা। যদিও তার মাঝেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।