আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ছবি: এক্স।
দলের তালিকায় ফুটবলারদের নামের পাশে লেখা তাঁদের পাসপোর্টের তথ্য। সেই তথ্য পৌঁছে গেল সাংবাদিক ও ৮৮ হাজার দর্শকের কাছে। ভুগতে হল লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে কড়াকড়ি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কিন্তু তার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল নিরাপত্তার বড় গাফিলতি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল মেসিদের। সেই ম্যাচের আগে দলের ফুটবলারদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয় সেখানেই ছিল পাসপোর্টের তথ্য। সেই তথ্য না সরিয়েই তা প্রকাশ করে দেওয়া হয়।
‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ জানিয়েছে, আলাবামার স্টেডিয়ামে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা ছিল আর্জেন্টিনার। গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দেখতে ৮৮ হাজার দর্শকাসনের স্টেডিয়াম ভর্তি ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে দু’দলের ফুটবলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আইসল্যান্ডের তালিকায় শুধু ফুটবলারদের নাম ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার তালিকায় পাসপোর্টে থাকা ফুটবলারদের ব্যক্তিগত তথ্যও লেখা ছিল। তা প্রকাশ হয়ে যায়।
এই ঘটনার পরেই ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ ভাবে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে এলে সমস্যায় পড়তে পারেন ফুটবলারেরা। যে দেশে এত কড়াকড়ি করা হচ্ছে, সেখানে কী ভাবে এত বড় গাফিলতি হল। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিফা, ট্রাম্প প্রশাসন বা আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা কিছু বলেনি।
বিশ্বকাপের আগে আমেরিকার অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প পুরো বিষয়টি সুরক্ষার দিক থেকে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার যাঁরা খেলা দেখতে আসছেন, তাঁদের প্রত্যেকের সম্পর্ক ভাল ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাতে কোনও ভাবেই জঙ্গি কার্যকলাপ বা নাশকতার সঙ্গে যুক্ত কেউ না ঢুকতে পারেন তার জন্য এই ব্যবস্থা।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর সরকার অতিথিদের সব রকম খেয়াল রাখছে। তাঁদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা, যাতায়াত সব দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশি আমেরিকার অভিবাসন নীতি ও সুরক্ষার দিকটিও মাথায় রাখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সিংহ ভাগ হবে আমেরিকায়। যাতে আমেরিকার নাগরিকদের কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্যই এই বন্দোবস্ত বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি নিয়েও মুখ খুলেছেন মানবিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু সংস্থা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তার নামে জোরাজুরি করছে প্রশাসন। এমন ভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে, যেন কোনও জঙ্গি ঢুকে পড়েছে। শুধু দর্শক নন, খেলোয়াড়দের সঙ্গেও এই রকম ব্যবহার করা হচ্ছে।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইরানের জাতীয় দলের শিবিরের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। অ্যারিজ়োনা থেকে তা মেক্সিকোয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইানের অভিযোগ, তাঁদের বেশ কিছু কর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। সোমালির রেফারি ওমার আর্টনকে আমেরিকায় ঢুকতে দেওযা হয়নি। তিনি এই বছর আফ্রিকার সেরা রেফারি নির্বাচিত হয়েছেন। সূত্রের খবর, আফ্রিকার কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ওমারের যোগ রয়েছে, এই সন্দেহে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফলে বিতর্ক বাড়ছে। প্রশ্ন বাড়়ছে। অভিযোগ বাড়ছে। ট্রাম্প অবশ্য সে সব নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন না। পুরোটাই আমেরিকার নিরাপত্তার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি।