কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: রয়টার্স।
চার বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল প্যারাগুয়ে। লাতিন আমেরিকার দেশটি কিলিয়ান এমবাপেদের ৭০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিল। কিন্তু তাদের রক্ষণের ভুলে পেনাল্টি পেয়ে যায় ফ্রান্স। গোল করেন এমবাপে। সেই গোলই বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে দিয়েছে দু’বারের বিশ্বজয়ীদের। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে কষ্টার্জিত জয়ের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। এমবাপে বলেছেন, বিশ্বকাপ জেতার জন্য দরকারে তিনি হাত ময়লা করতেও রাজি!
ম্যাচের পর এমবাপে বলেছেন, ‘‘দরকার হলে আমরা হাত ময়লাও করব। অনেকেই ভেবেছিলেন ফ্রান্স শুধু সুন্দর পাস দেওয়া-নেওয়া করে বা ওয়ান-টু করে আগ্রাসী ফুটবল খেলবে। ভাল ফুটবল খেলবে। আমরা কিন্তু কুৎসিত ফুটবলও খেলতে জানি। দরকার হলে আমরা কঠিন, লড়াকু ফুটবল খেলব। সে ভাবে খেলেই এই ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এই ফুটবলটাও আমরা ওদের চেয়ে ভাল খেলেছি।’’ এমবাপে বুঝিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ফ্রান্সকে আটকানো যাবে না। তাঁরা পরিচ্ছন্ন ফুটবলের পাশাপাশি অগোছাল শারীরিক লড়াইয়ের জন্যও তৈরি।
প্যারাগুয়ের আট জন ফুটবলার মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিলেন। ফ্রান্সের ফুটবলারদের তাঁরা বক্সের মধ্যে প্রায় ঢুকতেই দিচ্ছিলেন না। এমবাপেকেও কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে না পেরে এক সময় দিদিয়ের দেশঁর মতো শান্ত স্বভাবের কোচও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই এমবাপেদের শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছেন প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা। এ নিয়ে ফ্রান্স অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কেমন হতে পারে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই জানে না। এটাই ওদের ফুটবল। ওরা এ ভাবেই খেলে। প্রত্যেক দলই তাদের শক্তি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে। ফুটবল খেলার কোনও সঠিক বা ভুল পদ্ধতি হয় না। পদ্ধতি একটাই। সেটা হল ম্যাচ জেতা।’’ এমবাপে আরও বলেছেন, ‘‘ওরা আমাদের যে ভাবে খেলে হারাতে চেয়েছিল, আমরা ঠিক সে ভাবে থেকেই ওদের হারিয়ে দিয়েছি।’’
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ গত বার সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো। প্রতিপক্ষ হিসাবে এমবাপে পাবেন বন্ধু এবং প্রাক্তন সতীর্থ আশরফ হাকিমিকে। পরের ম্যাচ নিয়ে এমবাপে বলেছেন, ‘‘হাকিমি আমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছে। এখনও দেখা হয়নি। মরক্কো খুবই ভাল দল। ওদের সঙ্গে খেলা পড়ায় আমি খুশি। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব আমরা। নিজেদের উজাড় করে দেব। আশা করি আমরা বিশ্বকাপের দিকে আরও এগিয়ে যেতে পারব।’’
প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের পর একটি ছোট বিতর্কেও জড়িয়েছেন এমবাপে। খেলা শেষে তিনি জয় উদ্যাপন করছিলেন। সে সময় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে যান। কিন্তু এমবাপে তাঁর দিকে ফিরেও তাকাননি। হতাশ এবং বিরক্ত গিল হাতে থাকা বলটি এমবাপের পিঠে ছুড়ে মারেন। দুই ফুটবলারের আচরণ নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।