ইরান ফুটবল দল। — ফাইল চিত্র।
আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরান ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে কি না তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই অনিশ্চয়তা চলছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত, আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলতে যাবে ইরান। তাঁর মতে, ইরান যোগ্য ভাবেই নিজেদের জায়গা আদায় করে নিয়েছে। তাই তাদের খেলা উচিত।
‘সিএনবিসি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেছেন, “ইরান নিশ্চিত ভাবেই খেলতে আসবে। আশা করি খুব শান্ত পরিস্থিতি থাকবে, যাতে ওরা নিজেদের মতো করে খেলবে পারে। কিন্তু ইরানকে খেলতে আসতেই হবে। ওদের ফুটবলারেরা দেশবাসীর প্রতিনিধি। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফুটবলারেরাও খেলতে মরিয়া।”
এই মুহূর্তে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে উত্তাপ যে পুরোপুরি থেমেছে তা নয়। ইরানের সরকার এখনও বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি শান্ত থাকলে বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করতে পারে ইরান। ইতিমধ্যেই তারা ম্যাচগুলি আমেরিকার বদলে মেক্সিকোর কোনও শহরে দেওয়ার আবেদন করেছে। তা নাকচ করে দিয়েছে ফিফা।
গত ১৬ মার্চ এএফসি-র সচিব দাতো উইন্ডসন জন জানিয়েছিলেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে না, এমন কথা তাঁরা শোনেননি। তিনি বলেন, “ওরা আমাদের সদস্য দেশ। আমরা চাই ওরা খেলুক। আমরা যতদূর জানি, ইরান খেলছে। এটা খুব আবেগপ্রবণ একটা সময়। অনেকে অনেক কথা বলছে। দিনের শেষে ইরান ফেডারেশনই ঠিক করবে ওরা খেলবে কি না। এখনও পর্যন্ত ইরান জানিয়েছে যে, ওরা বিশ্বকাপে যাচ্ছে।”
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না। তিনি ঘুরিয়ে ইরানের ফুটবল দলকে আমেরিকায় যেতে বারণ করেছেন। বিষয়টা উদ্বেগের। আমরা ফিফার সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের ম্যাচগুলো আমেরিকা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।’’ তাজ নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করেননি। মেক্সিকোয় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি ইরানের খেলার কথা লস অ্যাঞ্জেলস এবং সিয়াটেলে।
কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’’ জবাবে ইরানের ফুটবল দলের তরফে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়, ‘‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এর নিয়ন্ত্রক ফিফা। কোনও ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের জাতীয় দল তার শক্তি এবং সাহসী ফুটবলারদের সুবাদে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে। সে কারণে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। ইচ্ছা হলেই কেউ ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’’
তুরস্কে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল ইরানের ফুটবল দল। সেখানে গিয়ে ফুটবলার এবং ইরানের ফুটবল কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ফিফা সভাপতি। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ইরানকে সর্বোচ্চ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ইরান যাতে সম্ভাব্য সেরা সুযোগ-সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করবে ফিফা। আমরা সব সময় ইরান ফুটবল দলের পাশে থাকব।’’ ফিফার আশ্বাসের পরও মাঠে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন ইরানের ফুটবলারেরা। কোস্টারিকার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় ফুটবলার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, কর্তাদের হাতে ছিল আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সামরিক হামলায় নিহত শিশুদের ছবি।