মেহদি তোরাবি। ছবি: এক্স।
আশঙ্কা ছিল প্রথম থেকেই। আমেরিকার মাটিতে সম্ভবত আর বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে পারবেন না ইরানের মেহদি তোরাবি। ভিসা সমস্যার জন্য খেলা হবে না তাঁর। দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলারকে ছাড়াই ইরানকে গ্রুপ পর্বের বাকি দু’টি ম্যাচ খেলতে হতে পারে।
ইরানের বাকি ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফদের যে ভিসা দেওয়া হয়েছে, তোরাবিকে তা দেওয়া হয়নি। সকলকে একাধিক বার আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ তোরাবিকে এক বার প্রবেশের ভিসা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে মঙ্গলবার দলের সঙ্গে মেক্সিকোর শিবির থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন তোরাবি। পরিকল্পনা মতো ম্যাচের পর ইরান পুরো দল নিয়ে আবার ফিরে গিয়েছে মেক্সিকোয়। ফলে তোরাবি এক বার আমেরিকায় প্রবেশ করে বেরিয়েও গিয়েছেন। তাঁকে যে ভিসা দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি আর আমেরিকায় ঢুকতে পারবেন না। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগেই তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে।
এমনিতেই ইরানের ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফদের বিশ্বকাপের দিন গুনে ভিসা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাকি সকলে এই সময়ের মধ্যে একাধিক বার আমেরিকায় ঢুকতে এবং সে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। তোরাবি তা পারবেন না। অথচ গ্রুপ পর্বে ইরানের সব ম্যাচই আমেরিকার মাটিতে। স্বাভাবিক ভাবেই বেলজিয়াম এবং মিশরের বিরুদ্ধে অনিশ্চিত অভিজ্ঞ ফুটবলার।
আমেরিকার বিদেশ দফতরের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইরানের ওই ফুটবলার যাতে বিশ্বকাপ খেলতে পারেন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে।’’ ইরানের পরের ম্যাচ ২১ জুন বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে। তার আগে ৩১ বছরের উইঙ্গারের ভিসা সমস্যা মিটবে কি? এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ওই কর্তা।
গ্রুপ ‘জি’র প্রথম দু’টি ম্যাচই ড্র হয়েছে। ইরান-নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ ফলে। বেলজিয়াম-মিশর ম্যাচ শেষ হয়েছে ১-১ ফলে। একটি করে ম্যাচ খেলার পর সব দলের পয়েন্ট এবং গোল পার্থক্য সমান। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় রাউন্ডের ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে সকলের। গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করা সেরা আটটি দলও দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। স্বাভাবিক ভাবেই ভাল কিছু করার সম্ভাবনা রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটির। এমন পরিস্থিতিতে তোরাবিকে না পেলে সমস্যায় পড়তে পারে ইরান।