এমবাপের সঙ্গে প্যারাগুয়ের ফুটবলারের ঝামেলা থামাচ্ছেন রেফারি। ছবি: রয়টার্স।
প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে কিলিয়ান এমবাপের গোলে জিতেছে তারা। সেই পেনাল্টির আগে হয়েছে একপ্রস্থ নাটক। ভিড় করে ফ্রান্সের মনঃসংযোগ নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে প্যারাগুয়ে। সেই প্রচেষ্টা কাজে লাগেনি। এমবাপে গোল করেন এবং তাতেই জয় সুনিশ্চিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ডেজিরে ডুয়েকে ফাউল করেছিলেন দিয়েগো গোমেজ। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সিদ্ধান্ত নিয়ে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ করেন। শুধু তাই নয়, উসমান দেম্বেলে বল হাতে নিয়ে পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ানোর সময় তাঁর মনঃসংযোগ নষ্টের সব রকম চেষ্টা করা হয়। স্পটের সামনে পা দিয়ে ঘষে ঘাস তুলে দেন প্যারাগুয়ের গুস্তাভো ভেলাজকুয়েজ। রেফারি অবশ্য হলুদ কার্ড দেখাননি।
এর পরেই প্রকাশ্যে আসে এমবাপের বুদ্ধি। একদম শেষ মুহূর্তে দেম্বেলে বল তুলে দেন এমবাপের হাতে। এমবাপে বেশি ক্ষণ সময় নেননি। বল বসিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শট নিয়ে নেন। আসলে এমবাপে জানতেন প্যারাগুয়ে এ রকম কিছু করতে পারে। তাই বুঝতে দেননি তিনিই শট মারবেন। আচমকা এমবাপে এগিয়ে আসায় প্যারাগুয়ের ফুটবলারেরা তাঁর মনোযোগ নষ্ট করার সুযোগ পাননি। এমবাপের একমাত্র গোলেই জিতেছে ফ্রান্স।
প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে কষ্টার্জিত জয়ের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক। এমবাপে বলেছেন, বিশ্বকাপ জেতার জন্য দরকারে তিনি হাত ময়লা করতেও রাজি!
ম্যাচের পর এমবাপে বলেছেন, ‘‘দরকার হলে আমরা হাত ময়লাও করব। অনেকেই ভেবেছিলেন ফ্রান্স শুধু সুন্দর পাস দেওয়া-নেওয়া করে বা ওয়ান-টু করে আগ্রাসী ফুটবল খেলবে। ভাল ফুটবল খেলবে। আমরা কিন্তু কুৎসিত ফুটবলও খেলতে জানি। দরকার হলে আমরা কঠিন, লড়াকু ফুটবল খেলব। সে ভাবে খেলেই এই ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এই ফুটবলটাও আমরা ওদের চেয়ে ভাল খেলেছি।’’
এমবাপে বুঝিয়ে দিয়েছেন, শারীরিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ফ্রান্সকে আটকানো যাবে না। তাঁরা পরিচ্ছন্ন ফুটবলের পাশাপাশি অগোছাল শারীরিক লড়াইয়ের জন্যও তৈরি।