পেনাল্টি ফস্কে হতাশ লিয়োনেল মেসি। ছবি: রয়টার্স।
পেনাল্টি ফস্কানোর পর বার বার মাথায় হাত দিচ্ছিলেন। চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছিল, বিরক্ত তিনি। ম্যাচ শেষে লিয়োনেল মেসি জানালেন, সত্যিই রেগে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জিতেছে। মেসি জোড়া গোল করেছেন। মিরোস্লাভ ক্লোজ়েকে ছাপিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। এই বয়সেও কী ভাবে এত ফিট তিনি? খেলা শেষে বয়স নিয়েও মুখ খুললেন লিয়ো।
অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে আর্জেন্টিনা। খেলা শেষে মেসি সাংবাদিকদের বলেন, “একটা সময় খুব রেগে গিয়েছিলাম। পেনাল্টি ফস্কানোর পর নিজের উপরেই রাগ হচ্ছিল। খুব খারাপ ভাবে মেরেছিলাম। তবে ভাগ্য ভাল, পরিস্থিতি বদলাতে পেরেছি। গোল করেছি। ৩ পয়েন্ট পেয়েছি।”
৩৯ বছর বয়সেও ৯০ মিনিট খেলছেন। গোল করছেন। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের সমস্যায় ফেলছেন । মেসি জানিয়েছেন, বয়সের কথা ভাবেন না তিনি। মেসি বলেন, “বয়সের কথা ভেবে সময় নষ্ট করি না। শুধু সুস্থ থাকার চেষ্টা করি। শারীরিক ভাবে ভাল জায়গায় রয়েছি। তাই হয়তো ভাল খেলতে পারছি।”
অস্ট্রিয়া ম্যাচ সহজ ছিল না বলেই জানিয়েছেন মেসি। খেলা শেষে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন লিয়ো। সেখানে তিনি লেখেন, “আরও একটা কঠিন ম্যাচ জিতলাম। এই জয় আমাদের সামনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৮ গোলের রেকর্ড করলেও সে কথা এক বারও ভাবছেন না মেসি। তাঁর কাছে দলের জয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খেলা শেষে মেসি বলেন, “দল জেতায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। খুব দরকার ছিল এই জয়টা। কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। দল নকআউটে ওঠায় মানসিক শান্তি পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের সাহায্যে করবে। এই বিশ্বকাপে সব ম্যাচই টান টান হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে ম্যাচ জিততে গেলে। আমি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য তর সইছে না।”
দু’গোলে জিতলেও অস্ট্রিয়া যথেষ্ট লড়াই করেছে বলে মনে করেন মেসি। জয় যে সহজে আসবে না, এটাও তিনি জানতেন। মেসি বলেন, “জিততে পেরে খুশি হয়েছি। কিন্তু কতটা কষ্ট করে জয় পেতে হয়েছে সেটা সকলেই দেখেছেন। ছ’পয়েন্ট পাওয়া খুব দরকার ছিল। আমরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলাম। তবে এটা জানতাম জয় সহজে আসবে না। এখনকার ফুটবলে কোনও দলই সহজে হাল ছেড়ে দেয় না। প্রতিটা ম্যাচই মনোযোগ দিয়ে খেলতে হয়।”
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
মেসির সংযোজন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যোগ্যতা অর্জন করা। সব ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। দলের প্রত্যেকে খুশি। আসলে আমরা একসঙ্গে হলে খুব মজা করতে ভালবাসি। অনুশীলনেও রোজ হাসিঠাট্টার মধ্যে দিয়েই কেটে যায়। সে কারণেই মাঠে নেমে এত ভাল খেলি। আমরা ইতিমধ্যেই অনেককে আনন্দ দিয়েছি। আরও আনন্দ দিতে চাই।”