ISL 2026

৯০ মিনিটের খেলা গড়াল ৩ ঘণ্টার বেশি! গুয়াহাটির বৃষ্টি সামলে নর্থইস্টকে হারিয়ে আইএসএলের শীর্ষে মোহনবাগান

গোটা ম্যাচ জুড়ে বৃষ্টি হল। মাঠে জল জমে যাওয়ায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকল খেলা। তার পরেও নর্থইস্টকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল মোহনবাগান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৪
football

গোলের পর উল্লাস রবসন রবিনহোর। ছবি: এক্স।

শুধু প্রতিপক্ষ নয়, বৃষ্টির বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হল মোহনবাগানকে। প্রতিপক্ষের মাঠে এমনিতেই চাপে থাকে দল। তার মধ্যে যে ভাবে বৃষ্টি হল, তাতে সমস্যায় পড়তে পারত তারা। গুয়াহাটির মাঠে জল জল জমে যাওয়ায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকল খেলা। তার পরেও নর্থইস্টকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল মোহনবাগান। প্রথমার্ধে রবসন রবিনহোর করা গোলেই হল খেলার ফয়সালা। এই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকায় আবার শীর্ষে উঠল সবুজ-মেরুন।

Advertisement

গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকে বৃষ্টি পড়ছিল। কিন্তু তখনও তার গতি বেশি ছিল না। ফলে তাতে সুবিধা হচ্ছিল ফুটবলারদের। মোহনবাগান জানত, এই ম্যাচে শুরুতে গোল তুলে নিলে সুবিধা হবে। সেটাই করে তারা। ম্যাচের ৪ মিনিটের মাথায় সুযোগ পান জেমি ম্যাকলারেন। বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোণ দুরূহ থাকায় সরাসরি গোলে বল মারেননি তিনি। পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে সফল হননি।

পরের মিনিটেই অবশ্য সেই একই জায়গায় বল পান সাহাল আব্দুল সামাদ। তিনি বক্সে বল বাড়ান। নর্থইস্টের ডিফেন্ডারকে ঘাড়ের কাছে নিয়ে ডান পায়ের শটে গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন রবসন। ১০ মিনিটের পর থেকে বৃষ্টির বেগ বাড়তে শুরু করে। ফলে ফুটবলারেরা সমস্যায় পড়েন। পাস দিতে সমস্যা হচ্ছিল। বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতেও সমস্যা হচ্ছিল।

৩৬ মিনিটের মাথায় গোল করার সুযোগ পায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড। পর্থিব গগৈয়ের শট বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। দু’মিনিট পরে লালরিনজুয়ালার শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর গোল আসেনি। শেষ দিকে মাঠে জায়গায় জায়গায় জল জমে গিয়েছিল। ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় মোহনবাগান।

বিরতিতে বৃষ্টির বেগ আরও বাড়ে। মাঠে জল জমে যাওয়ায় খেলা শুরু করা যায়নি। বার বার রেফারি মাঠে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখছিলেন। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে জল জমে গিয়েছিল। সেই জল সরাচ্ছিলেন মাঠকর্মীরা। বেশ কিছু ক্ষণ পর বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমে। বিরতির সময় ধরলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর খেলা শুরু হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই আবার বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে আবার জল জমতে শুরু করে মাঠে। তাতে ফুটবলারদের খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। মোহনবাগান চাইছিল, পুরো ম্যাচ খেলতে। কিন্তু নর্থইস্ট আপত্তি জানাচ্ছিল। ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, ৬০ মিনিট খেলা হয়ে গেলে সেই ম্যাচকে পুরো ম্যাচ ধরা হবে। অর্থাৎ, ৬০ মিনিটের পর খেলা বন্ধ হয়ে গেলে সেই খেলার ফল হবে। তা ভেস্তে যাবে না। যদি খেলার ফল ০-০ থাকে তা হলে খেলা ড্র ধরা হবে। যদি কোনও দল ১-০ এগিয়ে থাকে তা হলেও সেই ফল ০-০ ধরে খেলা ড্র ধরা হবে। কিন্তু যদি কোনও দল দুই গোলের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে থাকে, তা হলে সেই দলকে জয়ী ধরা হবে। যে হেতু মোহনবাগান সেই সময় ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল, তাই খেলা বন্ধ হলে তাকে ০-০ ড্র ধরা হত। সেই কারণে, খেলা শেষ করার তাগিদ ছিল বাগানের।

৫৯ মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে ঢুকে ভাল বল বাড়িয়েছিলেন মনবীর সিংহ। কিন্তু বলে পা লাগাতে পারেননি সাহাল। বল জলে পড়ে থমকে যাচ্ছিল। ফলে ফুটবলারদের বল পায়ে এগিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেক বেশি হাওয়ায় খেলা হচ্ছিল। ফলে খেলায় কোনও ছন্দ ছিল না। তার মধ্যে কয়েক বার নর্থইস্টও সুযোগ পায়। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। জলের মধ্যে দৌড়াতে গিয়ে ফুটবলারেরাও অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। ফলে ছন্দ হারাচ্ছিল ম্যাচ।

রেফারি ক্রিস্টাল জনকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, ৯০ মিনিট খেলা চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। মোহনবাগানও সেটাই চাইছিল। কোনও রকমে ম্যাচ জিতে ৩ পয়েন্ট পাওয়াই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য। মাঝমাঠেই বেশি খেলা হচ্ছিল। মাঝে মাঝে দুই দলের বক্সে বল গেলেও তা থেকে গোল আসছিল না।

৯০ মিনিট হয়ে যাওয়ার পরেও হাল ছাড়েনি নর্থইস্ট। সংযুক্তি সময়ে বক্সের মধ্যে ভাল জায়গায় বল পান থই সিংহ। বিশাল গোল ছেড়ে এগিয়ে যাওয়ায় সরাসরি গোল করতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল পান পার্থিব। তাঁর শট গোলের দিকেই যাচ্ছিল। গোললাইন সেভ করেন মেহতাব সিংহ। তার মাঝেই চোট পেয়ে স্ট্রেচারে চেপে মাঠ ছাড়ান সাহাল। তাঁর চোট খারাপ খবর বাগানের জন্য।

শেষ দিকে বার বার চেষ্টা করেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি নর্থইস্ট। ১-০ গোলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে বাগান। খেলা শেষে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ গড়ায় লাল কার্ড দেখেন নর্থইস্টের কোচ জুয়ান পেদ্রো বেনালি। তার পরেও তর্ক চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।

এই জয়ের ফলে ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে সকলের উপরে মোহনবাগান। ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মুম্বই সিটি এফসি। ৯ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এফসি গোয়া। চার নম্বরে ইস্টবেঙ্গল। ৮ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৫।

Advertisement
আরও পড়ুন