Mohun Bagan

ট্রফি ধরে রাখাই আসল কাজ, ভাবতে নারাজ ডার্বি নিয়ে, গুয়ার্দিওলার দর্শনে ভর করেই মোহনবাগানের কোচিং করাবেন লোবেরা

ভারতীয় ফুটবলকে কয়েক বছরে হাতের তালুর মতো চিনে ফেলেছেন সের্জিয়ো লোবেরা। এ বার তাঁর পরীক্ষা মোহনবাগানে। তবে লোবেরা ঘাবড়াচ্ছেন না। কী বললেন তিনি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৩
football

মোহনবাগানের কোচ সের্জিয়ো লোবেরা। ছবি: সমাজমাধ্যম।

যে দলেই গিয়েছেন, সাফল্য এনে দিয়েছেন। গোয়া থেকে মুম্বই, সেখান থেকে ওড়িশা। ভারতীয় ফুটবলকে কয়েক বছরে হাতের তালুর মতো চিনে ফেলেছেন সের্জিয়ো লোবেরা। এ বার তাঁর পরীক্ষা মোহনবাগানে। চ্যাম্পিয়ন দলের খেতাব ধরে রাখার কঠিন কাজ সামনে। তবে লোবেরা ঘাবড়াচ্ছেন না। পেপ গুয়ার্দিয়োলার দর্শনে ভর করেই তিনি দল চালাবেন। ব্যক্তি নয়, দলকে প্রাধান্য দিতে চাইছেন তিনি।

Advertisement

মোহনবাগানকে দ্বিমুকুট দেওয়ার পরেও ক্লাবের সঙ্গে মনোমালিন্যে সরে যেতে হয়েছে হোসে মোলিনাকে। সেই জায়গায় দায়িত্ব নেওয়া লোবেরা প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে বললেন, “আমি সব জেনেই দায়িত্ব নিয়েছি। আমার কাছে এটা নতুন চ্যালেঞ্জ। মোহনবাগান দেশের সেরা ক্লাব। স্পেনের বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এই জনপ্রিয়তার তুলনা করা চলে। বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব-১৮ দলে কোচিং করাতে গিয়ে ওদের সিনিয়র দলকে কাছ থেকে দেখতাম। ওরাও সব সময় ট্রফি জিততে চাইত। আমার দর্শনও একই থাকবে, ট্রফি জেতা।”

মোহনবাগানে ট্রফি জেতার থেকেও চাপটা বেশি। তিনি ভারতসেরা দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে সেরার তকমা ধরে রাখার চাপ রয়েছে। লোবেরা বললেন, “যে কোনও দলেই চাপ এবং প্রত্যাশা থাকবে। সেটা সামলেই কাজ করতে হবে। আমি চাপ নিতে ভালবাসি। আমার কাছে সেটা বাড়তি প্রেরণা। চাপের অনেক দিক রয়েছে। মাইনে না পেয়েও সারা দিন কাজ করা একটা লোকেরও সংসার সামলাতে চাপ হয়। অসুস্থ হয়ে সেরে ওঠার জন্য হাসপাতালে দৌড়নোও একটা চাপ। কোচিং করার চাপ অতটাও কঠিন নয়। তাই এই চাপ আমি উপভোগ করি।”

মোহনবাগানের যে দল হাতে রয়েছে তাতে বিশেষ চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করেন লোবেরা। তাঁর কথায়, “এমন দল যদি হত যাদের দেখে মনে হত বেশি দূর যেতে পারব না, তা হলে সমস্যায় পড়তাম। এই দলটা চ্যাম্পিয়ন দল। পেশাদার মানসিকতা রয়েছে সকলের মধ্যে। সকলে আমাদের সাফল্যের জন্য পরিশ্রম করছেন। দু’মাসের উপর প্রস্তুতি নিয়েছি। সকলেই মুখে আছি ভাল খেলতে।”

এ বার সব দলের সঙ্গে এক বারই খেলা। পা হড়কালে ভুল শোধরানোর সুযোগ কম। সেটা মাথায় রেখে লোবেরা বলেছেন, “ম্যাচের সংখ্যা কম হলে ভুলও কম করতে হয়। একাধিক ম্যাচে খারাপ খেললে রিকভারি করতে সমস্যা হবে। শুরুতেই ফুটবলারদের উপরে ট্রফি জেতার চাপ দিতে চাই না। আপাতত প্রথম ম্যাচটা জিততে চাই।”

ডার্বি নিয়ে লোবেরা বলেছেন, “ওই ম্যাচও তিন পয়েন্টের খেলা। জানি সেখানে সমর্থকদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সেই কথা ভেবে ম্যাচটা জিততে নামব। তবে আসল লক্ষ্য হবে লিগ জেতা।”

মোলিনার আমলে দিমিত্রি পেত্রাতোস বেশি সুযোগ পাননি। তবে লোবেরার আমলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। স্পেনীয় কোচ বলেছেন, “ট্রফি জিততে হলে একজন-দু’জন নয়, সকলের উপর ভরসা করতে হয়। দিমিত্রি দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। তবে সকলকেই অবদান রাখতে হবে।”

দীর্ঘ দিন পর লিগ শুরু হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারবেন ভেবেই উত্তেজিত লোবেরা। বলেছেন, “অনেক সমস্যা ছিল। ভারতীয় ফুটবলের জন্য কঠিন সময় ছিল। এখন লিগ শুরু হওয়ার মুখে। তাই সকলেই উত্তেজিত। আপাতত নজর রয়েছে প্রথম ম্যাচে। পেশাদার হিসাবে আমাদের তৈরি থাকতেই হবে। প্রতিযোগিতা না থাকলে খেলোয়াড়দের অসুবিধা হয় ঠিকই। তবে এখন সব মিটে গিয়েছে। হাতে সময়ও রয়েছে। দলও তৈরি। আরও কিছু উন্নতি দরকার। কারণ শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। দলের প্রস্তুতিতে আমি খুশি।”

Advertisement
আরও পড়ুন