পাকিস্তানের হকি দল এবং মহসিন নকভি (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সলমন আলি আঘারা ভারতের কাছে হারার পর মহসিন নকভি নাকি চাপে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরেরা নাকি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যানের উপর ক্ষুব্ধ। এই চাপের মধ্যেও দেশের হকি দলের পাশে দাঁড়ালেন নকভি। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে চরম অব্যবস্থা নিয়ে মুখ খুলে দু’বছরের জন্য নিলম্বিত (সাসপেন্ড) হওয়া অধিনায়ক শাকিল বাটের শাস্তি প্রত্যাহারেরও উদ্যোগ নিয়েছেন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র) নকভি।
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার পর লাহৌর বিমানবন্দরেই পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের (পিএইচএফ) বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন শাকিল। জানিয়েছিলেন, হকি কর্তাদের হুঁশিয়ারির কথাও। অধিনায়কের একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সে দিনই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফ। তবু পরের দিনই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শাকিলকে দু’বছরের জন্য নিলম্বিত করে পিএইচএফ। পরিস্থিতির চাপে পিএইচএফের সভাপতি পদে ইস্তফা দেন তারিক বুগতি। নিজে হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী শরিফ। পিএইচএফের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে অন্তবর্তিকালীন সভাপতি নিয়োগ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানিকে। বিশেষ দায়িত্ব দেন নকভিকে।
এফআইএইচ প্রো লিগ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে দেখা করেছেন নকভি। অব্যবস্থার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। খেলোয়াড়দের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব হকির সমস্যা মেটানোর কথা বলেছেন পাকিস্তনের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার মাঝেই আসন্ন হকি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য দলের বিমানের টিকিট, জার্সি, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, হোটেল ঠিক করার নির্দেশ দেন নকভি। তিনি বলেছেন, ‘‘সবার আগে পাকিস্তানের সম্মান। দেশের সম্মান নষ্ট হয়, এমন কিছু হতে দিতে পারি না আমরা। কোনও পরিস্থিতিতেই দেশের সম্মানের সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব নয়।’’
বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের প্রস্তুতির জন্য শনিবার থেকে শিবির হবে বলে ঘোষণা করেছেন নকভি। শুক্রবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পিএইচএফকে। হকি খেলোয়াড়দের চোট-আঘাতের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন পিসিবিকে। প্রয়োজনে ক্রিকেটের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন পিসিবি কর্তাদের। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের পর সকলের হাতে ১০ লাখ টাকার (ভারতীয় মূল্যে প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা) চেক তুলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের মন্ত্রী হিসাবে শাকিলের শাস্তি প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচএফ কর্তাদের নকভি বলেছেন, কয়েক দিন পরেই মিশরে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব শুরু হবে। এই সময় শাস্তি প্রত্যাশিত নয়। কর্তাদের উচিত অধিনায়ককে শাস্তি না দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নেওয়া এবং ভুল শোধরানোর চেষ্টা করা। বৈঠকের পর পিসিবি চেয়ারম্যান সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমি পিএইচএফের সভাপতি হতে চাই না। যত দিন না অচলাবস্থা মিটছে, তত দিন হকি খেলোয়াড়দের পাশে থাকব।’’
লাহৌর বিমানবন্দরে নেমে শাকিল অভিযোগ করেছিলেন, পিএইচএফ কর্তারা সিডনিতে হোটেলের ব্যবস্থা না করায়, গোটা দলকে ১৪-১৫ ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতে হয়েছিল। ঠিক মতো খাবারও পাননি তাঁরা। হোটেলের বিল না মেটানোয় নিজেদের ঘর নিজেদের পরিষ্কার করতে হয়েছে, জামাকাপড় কাচতে হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের দিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করিয়েছেন এবং বাসন মাজিয়েছেন। শাকিলের দাবি, অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময়ই অব্যবস্থার কথা বলায় তাঁকে শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন হকি কর্তারা। জোর করে মিথ্যা ভিডিয়োও করানো হয়। তাতে বলতে বাধ্য করা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় দলের সব ব্যবস্থা খুব ভাল।