AI Failure in Ford

কৃত্রিম মেধা ডাহা ফেল! পুরনো কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে পরিস্থিতি মেরামতের মরিয়া চেষ্টায় বহুজাতিক গাড়ি সংস্থা

কৃত্রিম মেধার দাপটে কর্মীছাঁটাইয়ের রাস্তায় হেঁটেছে একাধিক বহুজাতিক টেক জায়ান্ট। সেখানে সম্পূর্ণ উল্টো রাস্তায় হেঁটে পুরনো অভিজ্ঞ কর্মীদের কাজে ফেরাল মার্কিন গাড়িসংস্থা ফোর্ড। কেন এই সিদ্ধান্ত?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৭:০৯
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

কথায় আছে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। সেটাই এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে মার্কিন গাড়ি নির্মাণ সংস্থা ফোর্ড! এত দিন কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) উপর প্রবল ভরসা করছিল তারা। কিন্তু সেই আস্থা ভেঙে যাওয়ায় পুরনো কর্মীদের কাজে ফেরানো শুরু করেছে ফোর্ড। তাদের এ-হেন উলটপুরাণ সিদ্ধান্তের জেরে হতবাক দুনিয়ার তাবড় প্রযুক্তিবিদদের একাংশ।

Advertisement

বছর কয়েক আগে গাড়ির মান বুঝতে কৃত্রিম মেধা ভিত্তিক একটি স্বয়ংস্ক্রিয় ব্যবস্থা চালু করে ফোর্ড। কিন্তু, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয় সেটি। মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর জেরে উল্টে কমে যায় তাদের গাড়ি বিক্রি। তখনই তড়িঘড়ি অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের ঘরে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থার পরিচালন বোর্ড।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছরে ধাপে ধাপে সাবেক কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ার মিলিয়ে অন্তত ৩৫০ জনকে কাজে পুনর্বহাল করেছে ফোর্ড। এর জেরে ফের গাড়ির বাজারে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে তাদের। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন সংস্থার ভেহিকেল হার্ডঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট চার্লস পুন।

বিশ্লেষকদের দাবি, গাড়ির প্রযুক্তিগত মান বুঝতে কৃত্রিম মেধার উপর অতিরিক্ত নির্ভর করছিল ফোর্ড। সেটাই বিপদে ফেলে তাদের। এ প্রসঙ্গে পুন বলেন, ‘‘এআইয়ের ব্যাপারে অতি মূল্যায়ন করে ফেলা হয়েছিল। এই প্রযুক্তি সমস্ত সমস্যার মুশকিল আসান, তা ভাবা ঠিক নয়। তাই ফের মানবদক্ষতার উপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।’’

একই কথা বলতে শোনা গিয়েছে ফোর্ডের চিফ অপারেটিং অফিসার কুমার গালহোত্রকে। তিনি জানিয়েছেন, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারেরা সংস্থা ছাড়ার সময় তাঁদের জ্ঞান সংরক্ষণের জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তা ছাড়া নতুন গাড়ির নকশা কখনওই কৃত্রিম মেধার সাহায্যে পুরোপুরি তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ, সেখানে গবেষণার সঙ্গে কল্পনার একটা মিশেল তৈরি করে থাকেন ইঞ্জিনিয়ার। এআই কখনওই তা পারবে না।

সংস্থা সূত্রে খবর, ফোর্ড গাড়ির প্রযুক্তিগত বদল শুধুমাত্র হার্ডঅয়্যারে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে সফ্‌টঅয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেখানেও কৃত্রিম মেধা যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে, এমনটা নয়। তাই ৪০ জনের বিশেষ একটি দল তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে তারা। পাশাপাশি, কাজে ফিরে তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও পেয়েছেন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারেরা।

গত কয়েক বছরে কৃত্রিম মেধার দাপটে কাজ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ কর্মী। বিপুল ছাঁটাইয়ের সাক্ষী থেকেছে গুগ্‌ল ও মাইক্রোসফ্‌টের মতো বহুজাতিক টেক জায়ান্ট। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এআই নির্ভরশীলতার বিপদ টের পেল ফোর্ড। ফলে আগামী দিনে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতেও এই ছবি দেখতে পাওয়া যায় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
আরও পড়ুন