—প্রতীকী ছবি।
নতুন বছরে ঝকঝকে নতুন স্মার্টফোন কেনার ইচ্ছা। কিন্তু দামের জন্য হোঁচট খাচ্ছেন অনেকেই। ভাবছেন, দরটা একটু নামলে পছন্দের মুঠোবন্দি ডিভাইস ঘরে নিয়ে আসবেন। তা কিন্তু হওয়ার নয়। বরং ২০২৬ সালে আজকের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে স্মার্টফোনের দাম! কিন্তু কেন? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল সেই সমস্ত কারণের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ।
ভারতে বিক্রি হওয়া স্মার্টফোনের একটা বড় অংশই তৈরি করে দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক সংস্থা স্যামসাং। ফোনের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসাবে তাদের কথা বলা যেতে পারে। এত দিন নিজেদের কারখানায় তৈরি র্যামই স্মার্টফোনে ব্যবহার করছিল স্যামসাং। কিন্তু আগামী দিনে সেটা আর করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই বহুজাতিক সংস্থা। অর্থাৎ, এ বার থেকে স্যামসাঙের স্মার্টফোনে থাকবে না সংস্থার নিজস্ব র্যাম। বাইরে থেকে কিনে আনা র্যাম ব্যবহার হবে সেখানে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাটির এ-হেন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অবশ্য রয়েছে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স)। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব জুড়ে রকেট গতিতে বাড়তে শুরু করেছে এই প্রযুক্তির ব্যবহার। ফলে ভারত ও ভারতের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠছে এআইয়ের তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার। আর সেগুলি চালাতে প্রয়োজন পড়ছে র্যাম, প্রসেসার এবং স্টোরেজ ডিভাইসের। ডেটা সেন্টার গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের ডিভাইসগুলির চাহিদাও মারাত্মক ভাবে বেড়ে গিয়েছে।
অর্থনীতির সহজ অঙ্ক অনুযায়ী, কোনও জিনিসের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেই বাড়তে থাকে তার দাম। ফলে র্যামের দর দিন দিন আকাশছোঁয়া হয়ে উঠছে। এর জেরে স্মার্টফোনের ব্যবসায় বড় বদল আনছে স্যামসাং। ফোনের বদলে নিজেদের কারখানায় তৈরি র্যাম খোলা বাজারে বিক্রি করলে মুনাফা যে বেশি হবে, তা ভালই বুঝেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ওই বহুজাতিক সংস্থা। আর তাই ২০২৬ সালে সেই রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
এই পরিস্থিতি যে শুধুমাত্র স্যামসাঙের ক্ষেত্রে এমনটা নয়। অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকেও একই রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে নতুন বছরে মুঠোবন্দি ডিভাইসের দাম কমার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।