Shafiqur Rahman

‘কোনও গোপন বৈঠক করিনি, ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে’, কী সাফাই জামাত প্রধানের?

জামাত প্রধান শফিকুর রহমানের দাবি, দুই ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি তিনি প্রচারে আনতে চাইলেও নয়াদিল্লির প্রতিনিধিরা তাঁকে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৭
Bangladesh Jamaat-e-Islami chief Shafiqur Rahman has clarified his position regarding references to a meeting with Indian diplomats

জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। —ফাইল চিত্র।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারের একটি প্রসঙ্গ ঘিরে বুধবার থেকেই নানা জল্পনা দানা বেঁধেছিল বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে সেই জল্পনায় জল ঢালতে সক্রিয় হলেন ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ (‘জামাত’ নামেই যা পরিচিত)-র আমির (প্রধান নেতা) শফিকুর রহমান।

Advertisement

রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে শফিকুর জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের গোড়ায় বাইপাস সার্জারির পরে এর শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি এখন পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে এমন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাইছে।’’ জামাত বিরোধী এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ প্রশ্ন তোলে তবে কি ক্ষমতার স্বাদ পেতে গোপনে নয়াদিল্লির সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন জামাত প্রধান?

এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে পোস্টে শফিকুর লিখেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়টার্সকে গতকাল দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করেন—ভারত যেহেতু আপনাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আপনাদের কোনও যোগাযোগ আছে কি না, কোনও কথাবার্তা বা বৈঠক হয় কি না। আমি তখন বলেছিলাম, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমি অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে যখন বাসায় ফিরি, তখন দেশ-বিদেশের অনেকেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। অন্যান্য দেশের সম্মানিত কূটনৈতিকবৃন্দ যেমন এসেছেন, তেমনি তখন ভারতের দু’জন কূটনীতিকও আমাকে দেখতে বাসায় এসেছিলেন। অন্যান্যদের মতো তাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে।’’

সেই সাক্ষাৎপর্ব নেহাতই সৌজন্যমূলক বলে ইঙ্গিত করে জামাত প্রধানের মন্তব্য, ‘‘আমরা তাদের (ভারতীয় কূটনীতিক) সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় বলেছিলাম, যত কূটনীতিক এখানে এসেছেন, তাদের সকলের বিষয়েই আমরা পাবলিসিটিতে (প্রচারে) দিয়েছি। আপনাদের এই সাক্ষাৎও আমরা পাবলিসিটিতে দিতে চাই। তখন তারা আমাকে এটি না-দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আমরা বলেছিলাম, পরবর্তীতে যখনই আপনাদের সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক হবে, তা অবশ্যই পাবলিসিটিতে যাবে। এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই।’’

এর পরেই সমালোচকদের নিশানা করে জামাত প্রধানের মন্তব্য, ‘‘আমি বিস্মিত যে, আমাদের কিছু দেশীয় মিডিয়া ভারতের সঙ্গে জামায়াত আমীরের গোপন বৈঠক হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমি এ ধরনের সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত বিষয় না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।’’ ‘মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী কট্টরপন্থী রাজনৈতিক শক্তি’ হিসাবে পরিচিত একদা নিষিদ্ধ জামাতের আমির রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোটের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘আমরা ন্যূনতম পাঁচ বছর একটি স্থিতিশীল জাতি দেখতে চাই। সেই লক্ষ্যে যদি রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হয়, তা হলে আমরা এক সঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।’’ তাঁর ওই মন্তব্য ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনেই এক দফায় নির্বাচন হবে । ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। জাতীয় সংসদের নির্বাচনে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-যুব নেতাদের একাংশের গড়া রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-সহ আটটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে জামাত। কয়েকটি প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষার ইঙ্গিত, নির্বাচনে বিএনপি প্রথম এবং জামাতের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার সম্ভাবনা বেশি।

Advertisement
আরও পড়ুন