ছবি: সংগৃহীত।
কাজ করতে হবে অফিসেরই, তবে তার জন্য অফিসের দরকার নেই। পাহাড়ের কোলে কোনও সুন্দর কাঠের বাড়ির উন্মুক্ত বারান্দায় গা এলিয়েও সেই কাজটি হতে পারে। করোনাকাল ভারতে জনপ্রিয় করেছে ‘ওয়ার্কেশন’-এর সংস্কৃতি। করোনার রক্তচক্ষু না থাকলেও, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সুবিধা দিচ্ছে বহু সংস্থাই। আর সেই ওয়ার্ক ফ্রম হোমটি যদি ‘ওয়ার্ক ফ্রম মাউন্টেন’ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম সি’-ও হয়, তাতে সংস্থার আপত্তি নেই। শুধু সময়মতো কর্মীর থেকে কাজটি পেলেই হল।
সেই কারণে এখনও জনপ্রিয় ‘ওয়ার্কেশন’। অনেকেই শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে উঠে পাড়ি দিচ্ছন পাহাড়ি কোনও শান্ত-সুন্দর জায়গায়। সেখানেই থাকছেন, কাজ করছেন, অবসরে প্রকৃতির সান্নিধ্য, একটু অন্য রকম জীবন উপভোগ করছেন। তেমন ভাবে কাজ করতে চান আপনিও। প্রথমবার অন্য জায়গা থেকে কাজের কথা ভাবলে সঙ্গে কী রাখবেন, কোন পরিকল্পনাই বা সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে?
স্থান এবং মরসুম: প্রকৃতি আর নির্জনতার খোঁজে গিয়ে যদি পর্যটকদের ভিড়ের মুখে পড়তে হয়, মোটা টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া করতে হয়, ওয়ার্কেশন-এর ভাবনাই ভেস্তে যাবে। পাহাড় হোক বা অরণ্য— যে মরসুমে সেখানে থেকে কাজ করবেন ভাবছেন, সেটি যদি পর্যটন মরসুম হয় সেই জায়গা এড়িয়ে যেতে পারেন। কারণ, এমন মরসুমে গেলে ঘর বা বাড়ির ভাড়া বেশি হবে, নির্জনতাও পাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত জনবহুল জায়গা বেছে না নিয়ে মূল শহরের বাইরের কোনও লোকালয়, যেখানে প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তেমন জায়গা বেছে নিতে পারেন।
কাজের সময়: কারও রাতের শিফ্টে কাজ হয়, কারও দিনভর। কাজের সময় বাদ দিয়ে, কী ভাবে বাকি সময়টা উপভোগ করা যায়, সেটি জেনে নিন। দিনভর কাজের পর সন্ধ্যা হলে যেখানে কিছুই করার থাকে না, সেখানে গেলে দু’দিনে ক্লান্তিবোধ হতে পারে। আর একটি জরুরি বিষয় হল, যে দিন সেই জায়গায় গিয়ে পৌঁছোচ্ছেন সেই দিনটি কাজের ঝক্কি না রাখাই ভাল। কারণ, সময়ে পৌঁছোতে না পারলে, তার পরে কাজের উপযোগী পরিবেশ না পেলে চিন্তায় পড়তে হবে। তার চেয়ে একদিন অতিরিক্ত হাতে রাখুন, যাতে নিয়ম করে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ, জায়গা বানিয়ে নিতে পারেন। নতুন জায়গায় থিতু হতে একটু সময় তো লাগবেই।
জরুরি জিনিস: লম্বা দিনের জন্য বাইরে থেকে কাজ করতে হলে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে জিনিস গুছিয়ে নিন। ঘরে পরার পোশাক এবং বেড়ানোর যথেষ্ট পোশাক সঙ্গে রাখা দরকার। যদি ভিডিয়ো কলে অফিসের মিটিং করতে হয়, তা হলে সঙ্গে রাখুন দুই সেট ফর্ম্যাল বা অফিসে পরার পোশাকও। বাইরে থেকে রোজ কাপড় কাচার সুযোগ-সুবিধা না-ও মিলতে পারে, সে কারণে বাড়তি জামা-কাপড় থাকা ভাল। তা ছাড়া, কাজ করার জন্য যে সব জিনিস দরকার সেগুলির পাশাপাশি মাল্টিপ্লাগ চার্জার, পাওয়ার ব্যাঙ্ক সঙ্গে রাখুন। কারণ, প্রয়োজনের জিনিস নির্জন কোনও স্থানে গিয়ে মিলবে, সেটা আশা করা বৃথা।
ব্যাটারি, ল্যাপটপ স্ট্যান্ড: যেখানে যাচ্ছেন সেখানে যদি টেবিলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করার সঠিক জায়গা না থাকে, তা হলে সমস্যা হতে পারে। এই জন্য ল্যাপটপ স্ট্যান্ড রাখুন, যাতে কাজ করা সহজ হয়। কিবোর্ড-মাউসের অতিরিক্ত ব্যাটারি সঙ্গে রাখুন।কারণ, এগুলি যে কোনও সময় ফুরিয়ে যায়।
ইন্টারনেট: বাইরে থেকে কাজ করতে গেলে প্রথম শর্তই হল হাইস্পিড ইন্টারনেট। যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিচ্ছেন বা হোম স্টে-তে থাকবেন সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা কেমন, ওয়াইফাই কী রকম কাজ করে ভাল করে জেনে নিন। যে এলাকায় যে মোবাইলের নেটওয়ার্ক ভাল, সেই সিম সঙ্গে রাখুন। ডেটা ভরিয়ে রাখুন। ওয়াইফাই কাজ না করলে, এগুলির দরকার হবে।
খাবার: লম্বা সময়ের জন্য বাইরে থেকে কাজ করলে অনেকে খাবার বানিয়ে খান। কিন্তু কাজের সময় সব সময় রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই সঙ্গে এমন কিছু খাবার রাখুন যেগুলি গরম জল ঢেলে দিলেই সেদ্ধ হয়ে যায় বা খাওয়া যায়। যেমন কাপ নুড্লস, খিচুড়ি মিক্স, সুজি মিক্স।
স্থান: জায়গাটা মূল শহর থেকে দূরে হলেও যেন দরকারে শহরে যাওয়া যায় এমন জায়গা বেছে নিন। ল্যাপটপ, মোবাইল খারাপ হতে পারে, কোনও যন্ত্রাংশও খারাপ হতে পারে। তখন যাতে প্রয়োজনীয় জিনিস আনানো যায় বা কেনা যায়, সেই সুযোগ থাকলে ভাল।
ঘোরা: দিনে ক’টা থেকে ক’টা কাজ করবেন, কখন ঘুরবেন, সেই সব পরিকল্পনা করে রাখুন। না হলে দেখা যাবে সারা দিন কাজেই চলে গেল, খাওয়া, ঘুম, ঘোরা সবটাই লাটে উঠল। ছুটির দিনগুলিতে কোথায় যাওয়া যায়, আগাম পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থা করে রাখুন।
ওষুধ এবং অর্থ: সব সময়ে হাতে নগদ টাকা এবং জরুরি ওষুধ রাখা দরকার। হতেই পারে যেখানে রয়েছেন সেখানে প্রবল বৃষ্টি বা আচমকা ঘূর্ণিঝড় হল। সব সময়েই যে অনলাইনে টাকা দেওয়া যাবে বা এটিএম থেকে টাকা তোলা যাবে এমন নয়। তাই জরুরি পরিস্থিতির জন্য সঙ্গে নগদ রাখা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা নিরাপদ।