Explore Sisamara at Spring

দোল-হোলি ফুরিয়ে গেলেও বসন্তপ্রকৃতির হাতছানি এড়ানো কঠিন, রঙিন ফুলের টানে যাবেন কোথায়

দোল-হোলি শেষ হয়ে যাবে মঙ্গল-বুধবারেই। তবে বসন্তের শোভা দেখতে তার পরেও বেরিয়ে পড়া যায়। মার্চে কোথায় যেতে পারেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:০৭
দোল-হোলি ফুরিয়ে গেলেও বসন্ত রঙিন। এমন মরসুমে কোথায় যেতে পারেন?

দোল-হোলি ফুরিয়ে গেলেও বসন্ত রঙিন। এমন মরসুমে কোথায় যেতে পারেন? ছবি: সংগৃহীত।

দোল-হোলিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা হয়নি, তাতে কী? বসন্তপ্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে এই মাস জুড়েই। মার্চে না থাকে গরমের বাড়াবাড়ি, না থাকে ঠান্ডা। শিমুল, পলাশ শুধু নয় বসন্তে ধীরে ধীরে ফুটতে শুরু করে রডোডেনড্রোনও। এমন মরসুমে কোথায় যাবেন ভাবছেন? তা হলে চলুন ডুয়ার্স।

Advertisement

চা-বাগান, ঘন অরণ্য, উপলরাশির উপর দিয়ে বয়ে চলা নদী, বন্যপ্রাণ— সব মিলিয়ে ডুয়ার্স। প্রবল বর্ষায় ডুয়ার্স সবুজ। কিন্তু বসন্তে? তবে ঘুরে আসুন জলদাপাড়া আর সিসামারা। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়খণ্ডের মতো আগুনরঙা পলাশ এখানে নেই বটে, তবে অরণ্যের কোনওখানে দেখা মিলে যাবে শিমুলের। সিসামারা নদীর ধারেই পাহাড়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বোল্ডারের গা-বেয়ে গজিয়ে উঠেছে গাছগাছালিও। তার মধ্যে কোনটি যে শিমুল, বছরভর টের পাওয়া যায় না। তবে বসন্ত এলেই লাল রঙের ফুল চিনিয়ে দেয় গাছ। ফুল ঝরে প্রকৃতির আঙিনা হয়ে ওঠে রক্তিম। নিরালায় বসে এমনই রূপ দর্শনের আগ্রহ থাকলে গন্তব্য হোক, জলদাপাড়া অভয়ারণ্য, সিসামারা।

অরণ্যপ্রকৃতির মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে সিসামারা নদী। তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে হোম স্টে-রিসর্ট। পর্যটকদের ভ্রমণতালিকায় ক্রমশ পাকাপাকি জায়গা করে নিতে শুরু করেছে এই স্থান। আলিপুরদুয়ার জেলার একট স্বল্পচেনা ঠিকানা সিসামারা। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বয়ে গিয়েছে সিসামারা নদী। তার নামেই এই জায়গার পরিচিতি।

কোলাহলমুখর জনজীবন থেকে দূরে এই স্থান যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্যই তৈরি। সেখানে পায়চারি করলে বুনো জন্তুদের সঙ্গে মোলাকাতও হতে পারে। খুব কাছেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। রয়েছে জঙ্গল সাফারির সুযোগও। ঘুরে নেওয়া যায় জলদাপাড়া ওয়াচ টাওয়ার, হলং বাংলো। শালকুমার প্রবেশদ্বার থেকে হাতি এবং জঙ্গল সাফারি করা যায়। এ জন্য সঙ্গে পরিচয়পত্র থাকা জরুরি। এই গেটটি সিসামারার বেশ কাছে। ময়ূর, হরিণ, ইন্ডিয়ান বাইসন, বরাত ভাল থাকলে হাতিরও দেখা মিলতে পারে।

সিসামারায় থাকলে সঙ্গী হবে পাখির কূজন আর ঝিঁঝির ডাক। বসন্তের পাওনা শিমুল, রঙিন হয়ে থাকা প্রকৃতি। ডুয়ার্সের এই জায়গায় কিচ্ছুটি না করেই কাটিয়ে দেওয়া যায় ২-৩টি দিন। তবে যদি চান, ঘুরে নিতে পারেন আশপাশের বেশ কয়েকটি জায়গা। কোচবিহার রাজবাড়িও জুড়তে পারেন তালিকায়। যাত্রাপথেই সঙ্গ দেবে চা-বাগিচা। ঘুরে নিতে পারেন রকি আইল্যান্ড, মূর্তি নদীর দিকটিও ঘুরে আসতে পারেন। ছবি তোলার শখ থাকলে, বিষয়বস্তুর অভাব হবে না। হেঁটে বা গাড়িতে চলে যেতে পারেন ডুয়ার্সের গ্রামগুলিতেও। পাখি দেখারও সুযোগ রয়েছে এখানে।

কী ভাবে সিসামারা ঘুরবেন, নির্ভর করবে কত দিনের ভ্রমণসূচি, কোথায় যেতে চান তার উপর।

কী ভাবে যাবেন?

হাসিমারা বা নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন থেকে সিসামারা যাওয়া সহজ। হাসিমারা থেকে দূরত্ব সবচেয়ে কম। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গগামী এক্সপ্রেস বা মেলে চেপে এই দুই স্টেশনের একটিতে নামুন। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে গাড়ি করেও পৌঁছনো যায়। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সিসামারার দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার।

কোথায় থাকবেন?

সিসামারায় থাকার জন্য রিসর্ট, হোম স্টে আছে। তবে সংখ্যায় বেশি নয়। জলদাপাড়ায় বন দফতরের থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।

Advertisement
আরও পড়ুন