Solo Travelling Tips

মুখচোরা স্বভাবের জন্যই মিশতে অসুবিধা? একলা বেড়াতে গেলে কথা শুরু করবেন কী ভাবে?

অনেকেই একটু অন্তর্মুখী হন, কম কথা বলেন। চট করে অজানা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। এমন সমস্যা কি আপনারও আছে? অজানা দলে বা একলা বেড়াতে গেলে কী ভাবে অন্যের সঙ্গে ভাব জমাবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

টুপুরের মুখে যেন ফুলঝুরি ফুটছে। সেই ছোট্ট থেকে বলিয়ে-কইয়ে মেয়েটি। বেশি কথা বলে, বলেই পাড়ায় নাম হয়েছে ফুলঝুরি। টুপুরের সঙ্গে ভারি ভাব অভ্রের। টুপুর যখন কথা বলে, শুনতে ভাল লাগে, কিন্তু অভ্র কিছুতেই তার মতো মনের কথা অন্যের কাছে বলে ফেলতে পারে না।

Advertisement

অভ্রের মতো অনেকেই আছেন, যাঁরা একটু অন্তর্মুখী। কম কথা বলেন। চট করে অজানা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। এমন সমস্যা কি আপনারও আছে? এমন মানুষেরা যদি একলা অজানা কোনও দলের সঙ্গে বেড়াতে যান বা পুরোপুরি একলা বেড়ান, তা হলেও স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথাবার্তার দরকার হতে পারে। কী ভাবে অজানা মানুষের সঙ্গে ভাব জমাবেন, শুরু করবেন কথা? জেনে নিন এমন ৫ উপায়।

কথার শুরু কী ভাবে: বেড়ানো মানে শুধু কয়েকটি জায়গা দেখে আসা নয়, সেই জায়গায় সংস্কৃতিকে জানা। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ভ্রমণের পরিসরকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কথোপকথনে উঠে আসে এমন অনেক তথ্য, যা জীবনকে সমৃদ্ধ করে। কিন্ত কথোপকথন শুরুই না হলে, কথা এগোবে কী ভাবে? একেবারে একলা বেড়াতে গেলে হোটেল নয়, থাকার জন্য বেছে নিন হস্টেল। হস্টেলে বিভিন্ন জায়গার পর্যটকদের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ বেশি থাকে। হস্টেলে সস্তায় থাকা যায়, অনেক একলা ভ্রমণার্থীও থাকেন। একটি ঘরে অনেকের থাকার ব্যবস্থাও থাকে। থাকে ওয়াই-ফাই জ়োন, ক্যাফেটেরিয়া। হস্টেলের ক্যাফে বা ওয়াই-ফাই জ়োনে যেখানে আর পাঁচ জন রয়েছে সেই জায়গায় গিয়ে বসুন। অন্য কোনও দল বা ব্যক্তি বিশেষ থাকলেও, যেচে কথা শুরু করা যেতে পারে। তবে এমন প্রশ্ন করতে হবে, যার উত্তর হ্যাঁ বা নাতে শেষ না হয়। তা হলে কথা বলার জায়গা সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। বরং তাঁকে এমন প্রশ্ন করুন, “আপনি কবে এসেছেন”, “বলতে পারেন, এখানে কোন কোন জায়গাগুলি ঘোরা যায়”। বেড়ানো নিয়েই কথা এগোতে পারে।

আবার অনেকে অজানা দলের সঙ্গেও বেড়াতে যান। সেখানে গল্প বা আলাপচারিতা শুরু করতে পারেন খাওয়ার টেবিলে। কোথা থেকে এসেছেন, আগে কোথায় গিয়েছেন— এমন ধরনের কথা দিয়েই কথা এগোনো যায়।

সুযোগ বুঝে ঘোরার প্রস্তাব : আলাপচারিতা এগোনোর আর একটি উপায় হল একসঙ্গে ঘোরার প্রস্তাব বা অন্য দলে ভিড়ে যাওয়া। সাধারণত একলা ভ্রমণার্থীর সমস্যা হয় গাড়ি করে ঘোরার ক্ষেত্রে। একা গাড়ি নিয়ে ঘুরতে হলে খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। হস্টেলে অনেক সময় একলা ভ্রমণার্থী বা দল পাওয়া যায়, যাঁদের সঙ্গে ঘোরা যেতে পারে। প্রথমে জেনে নিন, অন্য দলটি বা অন্য মানুষটি কোথায় ঘুরেছেন, আগামীতে পরিকল্পনা কী। যদি আপমার ভ্রমণসূচির সঙ্গে মিলে যায়, তাঁকে একসঙ্গে ঘোরার প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। আবার প্রস্তাব অন্য পক্ষ থেকে এলেও, সুবিধা হলে তা গ্রহণ করতে পারেন। এ ভাবেই বাড়বে কথোপকথন, মিলবে ভ্রমণসঙ্গী।

হালকা ব্যাগপত্র: মনে হতেই পারে, হালকা ব্যাগে সফরের সুবিধা হবে, কিন্তু এতে কথোপকথনের সুযোগ কী ভাবে মিলবে— এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। ব্যাগ যদি হালকা হয়, সহজে শেয়ার জিপে জায়গা মিলতে পারে, এমনকি প্রয়োজনে অন্যের গাড়িতে লিফ্‌টও পেতে পারেন। লাগেজ বেশি হলে, চট করে সেই সুযোগ মিলতে না-ও পারে। যেমন হস্টেলে কোনও দলের সঙ্গে আলাপ হল, যাঁরা বাইকে ঘুরছেন। হালকা ব্যাগ থাকলে সেই বাইকের সওয়ারি আপনিও হতে পারেন।

মুখরোচক স্ন্যাক্স: নতুন দলের সঙ্গে ভাব জমানোর উপায় হতে পারে স্ন্যাক্স। নিজের এলাকার সুস্বাদু খাবার রাখুন সঙ্গে। চকোলেট, চিপ্‌স, মিষ্টি ভাগ করে খেলে কথোপকথনের পরিসর বাড়বে। আলাপচারিতা মজবুত হবে। তবে খাবার ভাগ করে খাওয়া বা অন্যের দেওয়া খাবার তখনই খেতে পারেন, যখন সেই মানুষটি সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে। ট্রেন সফরে অজানা কারও কাছ থেকে এই ধরনের খাবার না-খাওয়াই ভাল।

সাহায্যের হাত: দলেই যান বা একলা, যে কোনও সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে ভাবমূর্তি ভাল হবে। সাহায্যকারী মানুষকে সকলেই পছন্দ করেন। কথোপকথন এগোতে হলে কারও সঙ্গে প্রচুর কথা বলতেই হবে, তেমন নয়। কিন্তু কথার মধ্যে যেন শিক্ষা, ভাবনা, রুচির ছাপ থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন