Visit for Flowers

ভ্রমণ হোক ফুলের টানে, তালিকায় রাখবেন কোন জায়গা? রইল ভারতের নানা প্রান্তের তিন স্থান

বসন্ত মানেই ফুলের বাহার। তবে কোথাও কোথাও বসন্তশেষেও ফুল ফোটে। ভারতের নানা প্রান্তে ফুলের নানা বাহার দেখা যায়। সেই সৌন্দর্য দেখতে বসন্তশেষের গন্তব্য হবে কোথায়?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৬
ফুলের সৌন্দর্যই হোক ভ্রমণের প্রেরণা।  চোখ ধাঁধানো ফুলবাগিচা দেখতে কোথায় যাবেন?

ফুলের সৌন্দর্যই হোক ভ্রমণের প্রেরণা। চোখ ধাঁধানো ফুলবাগিচা দেখতে কোথায় যাবেন? ছবি: শাটারস্টক।

বসন্ত মানেই রঙিন প্রকৃতি। ফুলের বাহার। শিমুল-পলাশের রাঙা হাসি। নীল দিগন্তে ফুলের আগুন। এমন মরসুমে বঙ্গবাসীর কাছে-পিঠের গন্তব্যের তালিকায় থাকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, ঘাটশিলা।

Advertisement

তবে মার্চ পার করে যদি এপ্রিল-মের সময়টা বেছে নেন, তবে ফুল দেখতে যেতে পারেন পাহাড়েও। সেই তালিকায় কোন কোন জায়গা রাখবেন?

কাশ্মীর

শ্রীনগরের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল টিউলিপ গার্ডেন।

শ্রীনগরের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল টিউলিপ গার্ডেন। ছবি: সংগৃহীত।

শ্রীনগরে রয়েছে কেয়ারি করা টিউলিপ বাগিচা। মার্চ-এপ্রিল ফুল ফোটার আদর্শ মরসুম। বাগিচার এক এক সারিতে থাকে এক এক রঙের ফুল। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যেখন সমস্ত টিউলিপ একসঙ্গে ফোটে, মনে হয় রামধনুর সাত রং খেলা করছে। শ্রীনগরের এক আকর্ষণ যদি টিউলিপ বাগিচা হয়, তবে আর এক আকর্ষণ ডাল হ্রদের ধারের মোগল উদ্যানগুলি। বসন্তশেষে পাহাড়ি সেই উদ্যান ফোয়ারা আর ফুলের সম্ভারে সেজে ওঠে। পাহাড়-প্রকৃতির রূপে বাড়তি সংযোজন সযত্নে গড়ে তোলা সুন্দর বাগিচাগুলি। মার্চ মাসের শেষ থেকে এপ্রিল এবং মে মাসের শুরু পর্যন্ত শালিমার বাগ, নিশাত বাগে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পাশাপাশি ডাল হ্রদ, চিনার গাছ, কাশ্মীরের নিজস্ব সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি তো আছেই। ঘুরে নিতে পারেন গুলমার্গ, সোনমার্গ, দুধ পাথরি, বেতাব ভ্যালি-সহ নানা জায়গা।

সিকিম

হিলে-ভার্সের  পথে দেখা মিলবে গুরাসের।

হিলে-ভার্সের পথে দেখা মিলবে গুরাসের। ছবি:সংগৃহীত।

সিকিমের পাহাড় বসন্তশেষে সেজে উঠছে রঙিন রডোডেনড্রনে। উপত্যকার নানা প্রান্তে ফুটে ওঠে সেই উজ্জ্বল ফুল। স্থানীয়রা বলেন গুরাস। আবার এই রাজ্যেই রয়েছে ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’-ও। চলুন উত্তর সিকিমের ইয়ুমথাং উপত্যকায়। সিকিমের মঙ্গন জেলার পাহাড়ি জনপদ লাচুং। সেখান থেকেই যাওয়া যায় ইয়ুমথাংয়ে। বরফের আস্তরণ গললে, বসন্ত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে উপত্যকাও রঙিন ফুলে ভরে ওঠে। এখানেই রয়েছে সিংবা রডোডেনড্রন স্যানচুয়ারি।

ইয়ুমথাং ছাড়া, ফুল দেখার আর এক জায়গা হল ভার্সে। পশ্চিম সিকিমের হিলে এবং ভার্সের পায়ে চলা পথটি রডোডেনড্রন দেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। হিলে থেকে ট্রেকিং শুরু হয় ভার্সে পর্যন্ত। হিলে-ভার্সের ট্রেকিং পথের দূরত্ব ৫ কিলোমিটারের মতো। এই পথে কুয়াশায় বেশির ভাগ সময় ঘিরে থাকে আশপাশ। তবে মেঘ-কুয়াশার চাদর সরলে দেখা যায় ফুলের বিস্তার। লাল, গোলাপি আবার কিছু কিছু সাদা রডোডেনড্রনও চোখে পড়ে।

এ ছাড়া পশ্চিম সিকিমের ইয়কসম থেকে গোয়েচা লা-র ট্রেকিং রুটেও মার্চের শেষ থেকে রডডোনড্রেন ফুটতে দেখা যায়। ফুল থাকে মে পর্যন্ত।

উটি

উটির গোলাপ বাগিচা।

উটির গোলাপ বাগিচা। ছবি: সংগৃহীত।

তামিলনাড়ুর পর্যটন মানচিত্রে বরাবরই জনপ্রিয় এই শৈলশহরটি। নীলগিরি পাহাড়ের কোলের এই জনপদটি যেন শিল্পীর আঁকা ছবি। সেই সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ঘন পাইন, চা এবং কফি বাগিচা। উটির অন্যতম আকর্ষণ এখানকার রোজ় গার্ডেন এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন। পাহাড়ি উপত্যকায় সযত্নে সাজানো বাগিচা। ঘন সবুজ সেই উদ্যানে ফুটে থাকে হাজার হাজার গোলাপ। যেমন তার রূপ, তেমনই আকার। প্রায় ৩০০০ প্রজাতির গোলাপ চাষ হয় এখানে। বছরভর ফুল ফুটলেও, মার্চ থেকে জুন গোলাপ দেখার আদর্শ সময়। এখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেনেও নানা রকম ফুলের বাহার চোখে পড়বে। বসন্তে এই স্থানও কম সুন্দর নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন