Vaishno Devi Mandir

ঈশ্বরের দানেও প্রতারণা! বৈষ্ণোদেবীর রুপোর নৈবেদ্যের ৯৫ শতাংশ নকল, ৫৫০ কোটির সম্পত্তি দাঁড়াল ৩০ কোটিতে

মনোবাঞ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে ভক্তেরা যে দান করেন, তা থেকে ২০ টন রুপো পাওয়া গিয়েছে। সেই রুপো গলানোর জন্য মন্দিরের পরিচালন কর্তৃপক্ষ টাঁকশালের দ্বারস্থ হন। সেই রুপো গলানোর সময় পরীক্ষা করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠে যায় পরীক্ষকদের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:০৯

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

কোটি কোটি টাকার নকল রুপোর হদিস মিলল বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত দেবীর উদ্দেশ্যে রুপো বলে যা দান করেছেন তার ৯৫ শতাংশই নকল। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশ্বখ্যাত বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে ভক্তদের নিবেদন করা রৌপ্য সামগ্রীর প্রায় ৯৫ শতাংশই নকল বলে সরকারি পরীক্ষার রিপোর্টে প্রকাশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে টাঁকশালের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, দেবতাকে নিবেদন করা রুপোর মধ্যে মাত্র ৫-৬ শতাংশ আসল। বাকিটা ছিল ক্যাডমিয়াম ও লোহা, যে ধাতুগুলোর দাম রুপোর দামের তুলনায় অনেক কম।

Advertisement

মনোবাঞ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে ভক্তেরা যে দান করেন তা থেকে ২০ টন রুপো পাওয়া গিয়েছে। সেই রুপো গলানোর জন্য মন্দিরের পরিচালন কর্তৃপক্ষ টাঁকশালের দ্বারস্থ হন। সেই রুপো গলানোর সময় পরীক্ষা করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠে যায় পরীক্ষকদের। রুপোয় জালিয়াতির মাত্রা বিস্ময়কর। কারণ রুপোর মতো দেখতে দানসামগ্রীর ৯৫ শতাংশই ছিল লোহা ও ক্যাডমিয়াম দিয়ে তৈরি। মন্দির বোর্ডের আশা ছিল, প্রায় ৫০০-৫৫০ কোটি টাকার রুপো উদ্ধার হবে। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, এর মধ্যে রুপোর আসল পরিমাণ হয়তো ৩০ কোটি টাকারও কম।

বর্তমানে রুপোর দাম প্রতি কেজি ২,৬০,০০০ টাকা। ক্যাডমিয়াম হল এমন একটি ধাতু যা দেখতে রুপোর মতো। খালি চোখে একে রুপোর থেকে আলাদা করা কঠিন। এর দাম প্রতি কেজি মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা। এই প্রতারণা প্রকাশ্যে আসতেই মন্দিরের করিডরের ভিতরে ও আশেপাশের গয়না ব্যবসায়ী এবং বিক্রেতাদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠতে শুরু করেছে। কারণ এঁরাই তীর্থযাত্রীদের কাছে রুপোর সামগ্রী বিক্রি করেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টাঁকশালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি মন্দির বোর্ডে থেকে প্রাপ্ত ৭০ কেজি রুপোর মধ্যে মাত্র ৩ কেজি খাঁটি রুপো পাওয়া গিয়েছে। এই উপাদানগুলি প্রক্রিয়াজাত করতে এবং তা আলাদা করতে প্রায় তিন মাস ধরে কর্মীদের নিয়োগ করতে হয়েছিল। তার পরেও কেবল অল্প কিছু অংশেই রুপো পাওয়া গিয়েছে। ক্যাডমিয়াম গলানোর সময়ে টাঁকশালেও দূষণ ছড়িয়ে পড়েছিল। ধাতুটি গলানোর সময় এটি থেকে বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী ধোঁয়া নির্গত হতে পারে বলে টাঁকশালটি প্রাথমিক ভাবে তা গলাতে অস্বীকার করেছিল বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন