ছবি: সংগৃহীত।
দিগন্তবিস্তৃত বরফের উপত্যকা। বরফের রাজ্যের বুক চিরে এগিয়ে আসছে ট্রেন। অবিকল সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো দৃশ্য। দৃশ্যটি বিদেশের মতো হলেও স্থানটি ভারতে। বরফে মোড়া কাশ্মীরের বানিহাল দিয়ে এগিয়ে আসছে ভারতের সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত। বানিহালের বিধায়ক সাজ্জাদ শাহীন একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার পর তা দেখে মুগ্ধ নেটাগরিকেরা। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য। জম্মু ও কাশ্মীরের এই উঁচু অংশটির পাহাড় এবং রেলপথ ঘন তুষারে ঢাকা। তুষারশুভ্র সেই পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে বিশাল এক ‘লৌহ অজগর’ এগিয়ে আসছে। চরম পরিস্থিতিতেও তীব্র শীতের সময় জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় রেলের পরিষেবা যে অবিচ্ছিন্ন রয়েছে তা তুলে ধরেছে ভিডিয়োটি। কারণ এখানে একটা সময় এমনও ছিল যে তীব্র শীত পড়লেই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেত। হিমালয়ের কোলের শহরটিতে কয়েক দশক ধরে নিরলস চেষ্টার পর ২০২৩ সালে কাশ্মীরকে ভারতের বাকি অংশের রেলপথের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল লিঙ্ক প্রকল্পটি শেষ হওয়ায় উপত্যকার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে শীতের মাসগুলিতে যখন বানিহাল-রামবানের সড়ক যোগাযোগগুলি প্রায়শই তুষারপাত এবং ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় তখন ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্দে ভারতের মতো ট্রেনের পরিষেবা।
ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্য আসতেই কয়েক লক্ষ বার দেখা হয়েছে। রেল জানিয়েছে, সুড়ঙ্গ এবং রেলের ট্র্যাক বরফে ঢাকা থাকা সত্ত্বেও, উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিয়মিত বরফ অপসারণের দিকে নজর রাখার ফলে তীব্র শীতের সময়ও ট্রেন পরিষেবা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে এক জন নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘ভারতে যখন আপনি এত মনোমুগ্ধকর ট্রেন ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, তখন সুইৎজ়ারল্যান্ড ভ্রমণের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করবেন কেন?’’