ছবি: সংগৃহীত।
২০ জন শিশুর প্রাণরক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ খোয়ালেন অঙ্গনওয়াড়ির রাঁধুনি। একঝাঁক মৌমাছির আকস্মিক আক্রমণ থেকে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে কামড় খেয়ে মারা গেলেন কাঞ্চন বাই মেঘওয়াল নামের তরুণী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে সোমবার মধ্যপ্রদেশের নিমুচ জেলার রণপুর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি একাধিক এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয়েছে। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
এক্সের পোস্টে বলা হয়েছে, গত ২ ফেব্রুয়ারির বিকেলে রণপুর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে রোজকার মতো খেলছিল শিশুরা। হঠাৎ করেই মৌমাছির একটি বিশাল ঝাঁক ধেয়ে আসে। শিশুদের মৌমাছির হুল থেকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন ৪০ বছর বয়সি কাঞ্চন। কাঞ্চন মধ্যপ্রদেশের মাদাভাদা পঞ্চায়েতের এক জন অঙ্গনওয়াড়ি রাঁধুনি ছিলেন। মৌমাছিদের আক্রমণের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান তিনি। নিজের জীবন বিপন্ন করেও ২০টি বাচ্চাকে সুরক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। দ্রুত শিশুগুলিকে একে একে ত্রিপল, মাদুর দিয়ে মুড়িয়ে এবং নিজের শরীর দিয়ে তাদের আড়াল করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভিতরে নিয়ে যান। ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি ছুটে এসে কাঞ্চনের শরীরে হুল ফোটাতে থাকে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা খবর পেয়ে যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছোন, তত ক্ষণে মৌমাছির কামড়ে কাঞ্চন অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মধুকরের হুলের বিষে মারা যান কাঞ্চন।
কাঞ্চন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর পরিবারে স্বামী ও তিন সন্তান রয়েছে। কাঞ্চনের স্বামী পক্ষাঘাতে পঙ্গু। রাঁধুনির চাকরি করে মাসে মাত্র ৪ হাজার ২৫০ টাকা আয় করতেন কাঞ্চন। তাঁর মৃত্যুতে অথৈ জলে পড়ল সংসার বলে মনে করছেন গ্রামবাসীরা।
পোস্টটি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কাঞ্চনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ। সমবেত ভাবে অর্থ জোগাড় (ক্রাউড ফান্ডিং) করে কাঞ্চনের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘‘দয়া করে এই পরিবারকে সহায়তা করুন।’’