Viral Video

‘বেশি দরাদরি করে’, কেন ভারতীয় এবং পাকিস্তানি গ্রাহকদের পরিষেবা দেন না, ভিডিয়োয় ব্যাখ্যা বিদেশি যৌনকর্মীর

তরুণীর দাবি, একটি ঘটনা তাঁর মনে এমনই গভীর প্রভাব ফেলেছিল যে তিনি ভারতীয় এবং পাকিস্তানি গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন। তিনি জানিয়েছেন, এক জন গ্রাহক কন্ডোম ছাড়া যৌনমিলনের জন্যও তাঁকে চাপ দেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১৫:৪২
Canadian adult content creator claims in video that she stopped seeing Indian, Pakistani clients, goes viral

ছবি: সংগৃহীত।

কানাডার এক তরুণী, যিনি নিজেকে যৌনকর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন, তাঁর কিছু দাবি অনলাইনে হইচই ফেলেছে। আলোচনা-সমালোচনার জন্মও দিয়েছে। ওই তরুণীর দাবি, পেশাজীবনের শুরুর দিকে তিনি ভারত এবং পাকিস্তানের গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন? একটি ভিডিয়োয় তাঁর সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তরুণীর কথায়, ‘‘আমি কানাডার এক জন যৌনকর্মী। আগে আমি ভারত এবং পাকিস্তানের মানুষদের পরিষেবা দিতাম না।’’ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তরুণী, যা মিশ্র প্রতিক্রিয়া— অর্থাৎ সমর্থন এবং সমালোচনা, উভয়ই কুড়িয়েছে। কানাডার ওই তরুণীর ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

ভাইরাল ভিডিয়োয় শুরুতেই ওই তরুণী জানান, পেশাজীবনের শুরুতে তাঁর পরিষেবার মূল্য বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। সে সময় তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনও অগ্রিম অর্থ চাইতেন না। সব ধরনের গ্রাহকদেরই পরিষেবা দিতেন। কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই করতেন না, কারণ তিনি যথাসম্ভব বেশি গ্রাহক আকৃষ্ট করতে চেয়েছিলেন।

তরুণীর দাবি, সেই সময়ে তিনি যে সব গ্রাহকের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের নাগরিক। তরুণী জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি লক্ষ করেন যে ওই গ্রাহকদের একাংশের আচরণে একটি নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কিছু গ্রাহক নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কম টাকা নিয়ে আসতেন এবং দরাদরি করার চেষ্টা করতেন। তরুণী এ-ও অভিযোগ করেন, ওই গ্রাহকদের কেউ কেউ আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন, অসম্মানজনক ব্যবহার করতেন কিংবা সাক্ষাতের আগে স্নান করতে রাজি হতেন না। তাঁর দাবি, এ সব অভিজ্ঞতা তাঁর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

তবে তরুণীর দাবি, একটি ঘটনা তাঁর মনে এমনই গভীর প্রভাব ফেলেছিল যে তিনি ভারতীয় এবং পাকিস্তানি গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেন। তিনি জানিয়েছেন, এক জন গ্রাহক কন্ডোম ছাড়া যৌনমিলনের জন্য তাঁকে চাপ দেন। তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত পীড়াদায়ক হিসাবে বর্ণনা করেন এবং জানান যে পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলেন।

তরুণী আরও দাবি করেন যে, তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য পুলিশকে দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে জানানো হয় যে এ বিষয়ে কিছুই করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এই ঘটনার পর অনিরাপদ বোধ করতে শুরু করেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে কী হতে পারে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। সেই উদ্বেগের কারণেই তিনি ভারত ও পাকিস্তানের গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন বিদেশিনি। তবে ওই তরুণী স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতিগত বিষয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং ওই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়েছে।

ভিডিয়োর পরবর্তী অংশে তরুণী এ-ও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছেন। কারণ, শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁর পরিষেবার ধরন এখন বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, এখন তিনি প্রচুর পারিশ্রমিক নেন। গ্রাহকদেরও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং অগ্রিম অর্থ জমা দিতে হয়। তাঁর মতে, এ সব পদক্ষেপের ফলে আগে যে সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হত, তাঁর অনেকগুলিই এখন কমে গিয়েছে।

তরুণী জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি একই দেশগুলির মানুষের কাছ থেকে অনুরোধ পাচ্ছেন এবং তাঁদের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা বিবেচনা করছেন। তাঁর ধারণা, যাঁরা বেশি অর্থ দিতে এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ হতে রাজি, তাঁদের আচরণ হয়তো বহু বছর আগে তাঁর দেখা গ্রাহকদের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টিকে আরও একবার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্নও বটে। তরুণীর কথায়, ‘‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবে সঠিক থাকার জন্য আমি আমার নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেব না।’’

তরুণীর ওই ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘টেবিলসল্ট কাউস’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। দ্রুত সমাজমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভিডিয়োটি। কয়েক জন ব্যবহারকারী এই আলোচনার আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ভিডিয়োটি নিয়ে নেটাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। আবার অনেকে তাঁর দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পুরো দেশের মানুষদের নিয়ে এ-হেন মন্তব্য করার জন্য তাঁর সমালোচনা করেছেন। এক জন নেটাগরিক লিখেছেন, “কানাডায় কি যৌনবৃত্তি বেআইনি নয়? আমি অবাক হচ্ছি যে, আপনি যখন গিয়ে স্বীকার করলেন যে টাকার বিনিময়ে যৌন পরিষেবা দেন, তখন পুলিশ আপনার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনল না কেন? তবে নিশ্চিত ভাবেই আপনার নাম কোনও নথিতে বা পুলিশি রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।” অন্য এক জন আবার জানতে চেয়েছেন, “এটা কি একটি দেশের মানুষের নামে কুৎসা করা নয়? আমার মনে হয় আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আপনার কথা। আর কানাডায় কি যৌনপেশা বৈধ?” তৃতীয় এক নেটাগরিকের মন্তব্য, ‘‘যৌনকর্মী বুঝতে পেরেছেন যে তিনি প্রচারের জন্য সবচেয়ে বোকা ও সহজে বিশ্বাসপ্রবণ দেশবাসীকে কাজে লাগাতে পারেন এবং তিনি যে ঠিকই ভেবেছিলেন, তা-ই প্রমাণিত হল। দক্ষিণপন্থী শ্বেতাঙ্গ পুরুষরাই এখন তাঁর সমর্থনে পোস্ট করছেন!”

Advertisement
আরও পড়ুন