ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
সকাল ৭টায় ক্লায়েন্টের সঙ্গে মিটিংয়ে যাওয়ার তাড়া। অটোওয়ালাকে ভুলবশত ১৫৬ টাকা ভাড়ার জায়গায় ১৫,৬৮২ টাকা দিয়ে ফেলেছিলেন এক উদ্যোপতি। এর পর মুম্বইয়ের ওই অটোচালক যা করলেন, তা হতবাক করেছে সকলকে। অটোচালকের সততা মন জয় করে নিয়েছে নেটপাড়ার।
‘হিংলিশ’ নামক একটি স্টার্টআপ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও শুভম গুনে লিঙ্কডইনে এই ঘটনা এবং তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। শুভম জানান, সকালে ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে যাওয়ার তাড়াহুড়োর কারণে আলতাফ নামে এক অটোচালককে অনলাইনে টাকা মেটানোর সময় ভুল করেন তিনি। ভাড়ার ১৫৬ টাকার পরিবর্তে ১৫,৬৮২ টাকা দিয়ে দেন অটোচালককে। এর পর মিটিংয়ে চলে যান। তবে ওই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। বৈঠক শেষে বেরিয়ে তিনি দেখেন, সকালে তাঁকে নামিয়ে দিয়ে যাওয়া অটোচালক তখনও সেখানে অপেক্ষা করছেন। তাঁকে দেখে অবাক হয়ে যান শুভম। তাঁর দিকে এগিয়ে এসে অটোচালক আলতাফ তাঁকে ভাড়া সংক্রান্ত ভুলের কথা জানান। অবাক করার মতো বিষয় হল, তিনি কেবল বাড়তি টাকা ফেরত না দিয়ে পুরো ১৫,৬৮২ টাকাই ফেরত দিয়ে দেন।
শুভম বার বার আলতাফকে প্রকৃত ভাড়া হিসাবে ১৫৬ টাকা রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ-ও যুক্তি দেন যে, তাঁর জন্য অপেক্ষা করার কারণে তিনি অন্য অনেক ভাড়া পাননি। কিন্তু তার পরেও নাকি টাকা নিতে অস্বীকার করেন আলতাফ। বলেন, ‘‘স্যর, আমাদের দু’জনের জন্যই তো আজ দিনের শুরু।’’ শুভম জানিয়েছেন, ওই ঘটনার এক সপ্তাহ পর সুখবর পান তিনি। যাঁর সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল, সেই ক্লায়েন্টই তাঁকে ফোন করে কাজ করার বিষয়ে সম্মতি জানান। শুভম জানিয়েছেন, এর জন্য মনে মনে তিনি আলতাফকেই ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এর পর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ অটোচালককে ৫০০ টাকাও পাঠিয়েছিলেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে উদ্যোগপতির ওই পোস্ট ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক ব্যবহারকারীই ওই অটোচালকের সততার প্রশংসা করেছেন। ভাইরাল হওয়া এই পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে নেটাগরিকদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন, আলতাফের মতো মানুষের কারণেই মানবতার ওপর তাঁদের ভরসা টিকে আছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা মানবতার ওপর মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। কী চমৎকার এক শিক্ষণীয় বিষয়।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘দয়া এবং আশীর্বাদই হল এক জন মানুষের অর্জিত সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’’